বিএনপির জঙ্গীরোধে জাতীয় ঐক্যের আহব্বান ও কর্মসূচি ঘোষনা--দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর সঙ্গে চরম প্রতারনা।

অশুভ শক্তিকে সযত্নে লালন করে, দমনের নাটকীয় জাতীয় ঐক্যের আহব্বান--জনগনের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রতারনা।
_________________________________________________

      বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং ১৪দলের সমন্বয়ে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধের অঙ্গিকার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিশাল সমাবেশ হয়ে গেল রাজধানী ঢাকায়। দীর্ঘ দিন পর ১৪দলের উদ্যোগে সমাবেশটি রাজনৈতিক  অঙ্গনে গভীর রেখাপাত করতে পারবে আশা করি।রাজপথে রাজনৈতিক কর্মকান্ড অনুপস্থীত থাকার অর্থই হচ্ছে সরকার বিপথে দাবিত হতে চাইলে সুপথে টেনে আনার অভাব বোধ করা। সরকারর পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের নেতিবাচক কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগন অন্ধকারে থাকা। সুষ্ঠ, সুন্দর,, গনতান্ত্রিক, জবাবদীহিতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত, দায়িত্বশীল, গনতন্ত্রমনা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের একান্ত কাম্য।
দৃশ্যত বাংলাদেশে যেই সুস্থ্য রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে গনতন্ত্রকে বিকশিত করার  গন আখাংকা ছিল দায়িত্বশীল বিরুধীদলের অভাবে বাস্তবতায় তাঁর ছিটেফোঁটাও নেই। স্বাধীনতার পঁয়তাল্লিশ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি তথা অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার পক্ষে কায্যকর কোন রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি না হওয়াও মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির উত্থানের অন্যতম একটি কারন। সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে গনতন্ত্র, সুশাষন বিঘ্নিত হওয়া,হত্যা গুম, খুন ইত্যাদি জনজীবন অচল করা কায্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়া। সেই অর্থে যদিও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গীবাদ বিরুদী সমাবেশটি রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দুতে অনুষ্ঠিত হয়, তথাপি ১৪দলের এই সমাবেশ সরকারের জঙ্গীবিরুধী কঠোর মনোভাবের বহি:প্রকাশ হিসেবে জনগন ও বিশ্ববাসী স্বাগত: জানাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
   মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভেই এই অঞ্চলে দুটি রাজনৈতিক ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠে।একটি ধারা অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের প্রতি অনুগত, দেশপ্রেমে উদ্ভোদ্ধ। অপরটি সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ, অগনতান্ত্রিক, বাঙ্গালী জাতীয়তার চেতনা বিরুদী,  অন্যধর্ম বিদ্বেসী, অন্ধকারমূখী সেকেলে মনোভাবাপন্ন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতী-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দ্বিতীয় ধারাটিকে পরাজিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় ঘটায়।
   মুক্তিযুদ্ধে যেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করে অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল সেই বাংলাদেশকে সেই পরাজিত শত্রুরা আন্তজাতিক ষড়যন্ত্রীদের সহযোগীতায় '১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫'এ মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে দখল করে নিতে সক্ষম হয়।
     দীর্ঘ অন্ধকার রজনী পেরিয়ে, অগনীত নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের সাফল্য ব্যার্থতায়, জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে ২০০৮ ইং সালের সাধারন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের বিশাল সমর্থনে সেই পরাজিত অশুভ শক্তিকে আবারও চরমভাবে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত  হয়।
   দুই দুইবার চরম পরাজয়ের পরেও স্বাধীনতা বিরুদী কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্র থামানো সম্ভব হয়নি।তাঁরা যে কোন মুল্যে আবারও রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করার মানসে দেশব্যাপি গুম, খুন,হত্যা, হামলা, নাশকতা ইত্যাদি জনজীবনে অশান্তি, অস্থিরতা সৃষ্ট্রি মুলক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে।
  ১/১১ সাম্রাজ্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্রে সংঘটিত লুটেরা শুশীল শ্রেনীর দেশ শাষনের অদম্য আখাংকাকে বাস্তবতায়  রুপদানের গভীর চক্রান্ত ছিল। এই লক্ষ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল এবং ত্যাগী জনদরদী নেতাদের চরিত্র হনন করে তাঁর ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। চক্রটি ২০০১ থেকে ২০০৬ ইং সালের বিএনপি জোট কতৃক দেশ শাষনকে তাঁদের নাটকের শেষ দৃশ্য মঞ্চায়নের নিমিত্তে কায্যকর সাজসজ্জার কাজ শেষ করে রেখেছিল। এমন কোন কাজ নেই যা জোট সরকারের নেতাকর্মী এবং মন্ত্রী এমপিদের দ্বারা করানো হয়নি বা করেনি-যাহা করলে জনমনে রাজনৈতিক দল এবং তাঁদের নেতাদের প্রতি ঘৃনার  বহি:প্রকাশ ঘটবেনা। 'স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারও নীজ উদ্যোগে বা  তাঁদের চক্রান্তে গা ভাসিয়ে দেয়। দেশকে ক্ষমতাসীনদের এবং তাঁদের পৃষ্টপোষকদের লুটতরাজের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করে।
    ফলত: পাঁছ বছরের শাষনকালের পাঁছবারেই শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পায়। তথাকথিত শুশীলগন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যহ টেলিভিশনের টকশো এবং পত্রপত্রিকায় "রাজনৈতিক দল কতৃক দেশ শাষন অকায্যকর, ব্যার্থ্য, অপরিপক্ক, লুটেরা, রাজনীতি শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ' ইত্যাদি নেতিবাচক প্রচারনা চালিয়ে জনমনে দল ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের বিরুদ্ধে ঘৃনার উদ্রেক করতে সক্ষম হয়। জনগনের ঘৃনাকে কাজে লাগিয়ে সুশীল চক্র তাঁদের বিদেশী প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্যত হয়ে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বিদায় করার জন্য "মাইনাস টু ফর্মুলা" বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করে।
     তাঁর আগে ২০০১ ইং সালে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহন করেই তাঁদের প্রচ্ছন্ন সহযোগীতায় সারাদেশব্যাপি অশুভ শক্তি জামায়াত শিবির কতৃক আওয়ামীলীগ নিধন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বর্বরতম কাল অধ্যায়ের সৃষ্টি করে রেখেছিল।
  ধর্মান্ধ অশুভ শক্তি ভারতে অবস্থানরত: ত্রিশকোটি মসুলমানের উপর নির্য্যাতন করার ক্ষেত্র প্রস্তুত কল্পে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। ভয়াবহ দাঙ্গার মাধ্যমে ভারতের প্রতি বাংলাদেশীদের ঘৃনাকে উস্কে দেয়ার উদ্দেশ্যে আন্তজাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ঘৃনার আগুনে ঘি ঢালার পাকাপাকি ব্যবস্থা গ্রহন করেছিল।
   অশুভ জামায়াত শিবির চক্রটি একবারও চিন্তা করেনি-বাংলাদেশে এককোটি হিন্দুর বিপরীতে ভারতে ত্রিশ কোটি  মসুলমানের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস হতে পারে। চক্রটি আজও সেই তৎপরতা থেকে সামান্যতম পিছপা হয়নি।এখনও 'সামাজিক সাইট সহ বিভিন্ন ভুয়া অন-লাইন পোর্টাল' খুলে ভারতে 'হিন্দু কতৃক মসুলমান নির্য্যাতনের' মিথ্যা ও বানোয়াট এডিট করা চিত্র ও কাহিনী অব্যাহত প্রকাশ করে যাচ্ছে।তাঁরা তাঁদের হীন স্বার্থসিদ্ধির জন্য আল্লাহ প্রেরীত পবিত্র কোরানকে পয্যন্ত ব্যবহার বাদ দিচ্ছে না। এহেন একটি ন্যাক্কারজনক কর্ম ''হিন্দু যুবক কতৃক কোরান পিষ্ট করার বানোয়াট চিত্র" প্রত্যহ সামাজিক সাইট সমুহে আপলোড করে যাচ্ছে চক্রটি। পবিত্র গ্রন্থ কোরান নিয়েও তামাশা করতে অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তিটি দ্বিধা করেনা।স্বভাবতই একজন মুসলিম এই চিত্র দেখার পর হিন্দুদের প্রতি তাঁর মনে ঘৃনার সৃষ্টি না হয়ে পারেনা। অথছ ছবিটি এডিট করা এবং বিদ্বেস সৃষ্ট্রির জন্যই প্রকাশ করা হয়েছে -তৎক্ষনাৎ কারো মনেই হওয়ার কথা নয়,ইহা মিথ্যা প্রচারনা।এইকাজে সুচতুর ভাবে অনলাইনে বেশ কিছু সুন্দরী মেয়েকে তাঁরা কাজে লাগাচ্ছে।যারা ম্যাসেজ দিয়ে পেইজবুক ইউজারদের মনোভাব জানার চেষ্টা করে থাকে এবং সেই মোতাবেক অন্যকোন যুৎসই ষড়যন্ত্র পাকানোর ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে। অনেক সময় আমাদের মধ্যেও অনেক সচেতন ব্যাক্তি তাঁদের খপ্পরে পড়ে বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
    উল্লেখীত বিদ্বেষ চড়ানোর ধারাবাহিকতায় বিগত বছর গুলীতে সময় সময় হিন্দু মন্দিরের উপর হামলা হলেও   গত এক বছর ধরে চাপাতি ও অস্ত্র দিয়ে পুরোহিত, বিদেশি, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। এই সমস্ত হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো দৃশ্যমান অবস্থান নেয়ার নজির নেই। বক্তৃতা বিবৃতি বা রাজপথে প্রতিবাদ করারও তেমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। অধিকন্তু ওই সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে বার বার। অথচ সমস্ত হামলা ও গুপ্তহত্যা, জঙ্গীহামলার পেছনে জামায়াত-শিবির জড়িত-ইতিমধ্যে প্রমানীত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জঙ্গি ঘটনার মূল হোতা "আইএস" এমন ধারণা প্রচারের পেছনে আসল শত্রুকে আড়াল করার রাজনীতি ও কৌশল লুকিয়ে থাকার বিষয়টি সম্মুখে আসতে শুরু করেছে।
     বাংলাদেশে মন্দিরগুলোকে সন্ত্রস্ত, ভীত বা আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার বিষয়টি দুই দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে অশুভ  রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের নতুন কৌশল, আমি মনে করি। বাংলাদেশে মন্দিরগুলোতে পুরোহিত বেশি সংখ্যায় হত্যা করে ভারতে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নির্মমভাবে হত্যা করার একটি ক্ষেত্র তৈরির ব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের দাঙ্গা সৃষ্টি করা গেলে কারা বেশি লাভবান অতীতে হয়েছে এবং হচ্ছে কেউ না বোঝলেও প্রগতিশীল ধারার মানুষ ঠিকই বুঝে।সরকারে অধিষ্ঠিত কর্তাব্যাক্তিরা যদি না বুঝে তাহলে বুঝতে হবে এ দেশের কপালে অনেক দুঃখ অপেক্ষা করছে।
   বিএনপি নেত্রী দেশে এত সব জঙ্গি কর্মকাণ্ড  হয়ে গেল সেগুলো সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে শুধু গুলশান ট্র্যাজেডি নিয়েই সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার কি কারন থাকতে পারে? সাধারনের মধ্যে তাঁর জাতীয় ঐক্যের আহব্বানের বিষয়ে তাঁর নীজেরই আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন জঙ্গিবাদের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইডিলজিক্যাল। এটি একটি চরমপন্থার মতাদর্শ। সেই মতাদর্শের অনুসারী, পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা এবং সুবিধা লাভকারী কারা এইদেশে- মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে তা বুঝতে একজন সাধারন সচেতন নাগরিকেরও বাকি থাকার কথা নয়।
     বিএনপি উগ্র ধর্মীয় ওয়াহাবী মতাদর্শে বিশ্বাসীদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করেছে, রাজনীতি করেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। সরকারে তাঁদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করেছে,মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা তাঁদেরকে যত্রতত্র ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে।
      মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে পরস্পর বিরোধী যে দুই ধারার মেরুকরণ ঘটেছিল। বিএনপির অবস্থান সেই পরবর্তী পরাজিত ধারার মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং জঙ্গিবাদী,যুদ্ধ অপরাধীদের পক্ষে প্রথম থেকে।বিএনপি অবশ্য  দল হিসেবে জাতীয় ও আন্তজাতিক চক্রান্তে তাঁদেরই ধারায় ভুমিষ্ট হয়েছিল। অশুভ শক্তির চক্রান্তে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তাঁদের সৃষ্ট দল বিএনপির পৃষ্টপোষকতায় প্রগতিশীল রাজনীতিবীদ, লেখক সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবি, আওয়মী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রাখে। অশুভ শক্তি বিএনপির উপর ভর দিয়ে গুম,হত্যা, জঙ্গী হামলার মাধ্যমে যোজন যোজন মাইলের ব্যবধান সৃষ্টি করেছে--প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির সঙ্গে। বিএনপি নেত্রীর ইচ্ছাও তাই- জাতির জনকের পরিবার এবং প্রগতিশীল রাজনীতিবীদদের নিচ্ছিন্ন করে একক স্বর্গরাজ্যের অধিপতি হওয়া।
তাইতো মানবতা বিরুধীদের বিচারে জাতীয় এবং আন্তজাতিক ঐক্য গড়ে উঠলেও বিএনপি জনগনের সেই ধারায় যোগ না দিয়ে তাঁদের বিচার বাঞ্চালের যতসব কৌশল আছে সবটুকু শক্তি কাজে লাগিয়ে বিচার প্রক্রিয়া নস্যাতের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। জঙ্গীবাদের উত্থান, হামলা, হত্যা, গুপ্তহত্যা নিয়ে সারাদেশ উৎকন্টিত থাকা সত্বেও বিএনপির অবস্থান পরিস্কার করতে দেখা যায়নি।বরঞ্চ বিবৃতি দিয়ে বলা হচ্ছিল জঙ্গীর নাম করে ভাল ছেলেদের সরকার জেলে নিয়ে যাচ্ছে।
দেশী বিদেশী চাপ থাকা সত্বেও বিএনপি অদ্যাবদি  মানবতাবিরুধী, জঙ্গী, খুনী, মুক্তিযুদ্ধের সসস্ত্র বিরুদীতাকারি দল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করেনি।যেই দলটি সঙ্গে থাকার কারনে বিএনপি ধীরে ধীরে বিলীনের পথে দাবীত হচ্ছে,আন্তজাতিক সমর্থন হারিয়ে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে।বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনসম্পৃতা হারিয়ে রাজপথ ছেড়ে রাজপ্রাসাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, বিবৃতি সর্বস্ব দলে রুপান্তরীত হয়েছে-তারপরেও তাঁদের সঙ্গত্যাগ করতে রাজী নয়।
বরঞ্চ তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে সরকার উৎখাতের নানাহ ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।অশুভ শক্তির পক্ষে দেশব্যাপি নাশকতা,অরাজগতা, আগুন সন্ত্রাস করে জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিনত হতেও দলটি দ্বিধা করেনি। অশুভ শক্তিকে বুকের অভ্যন্তরে সযত্নে লালন করে  জাতীয় ঐক্যের আহব্বান জনগনের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রতারনা ছাড়া আর কি হতে পারে?
বিএনপির এই জাতীয় ঐক্যের আহব্বান জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে জনগনের নিকটে যাওয়ার ফন্দি ছাড়া আর কিছুই নয়।একদিকে জঙ্গী হামলারোধে ব্যার্থতার অভিযোগে সরকারের পদত্যাগের দাবী এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহব্বান  অন্যদিকে জঙ্গী উত্থান রোধে জাতীয় ঐক্যের ডাক এই দ্বিমূখীতার প্রতারনা জনগন ঠিকই অনুধাবনের ক্ষমতা রাখে।বাংলাদেশের জনগনকে বিংশ শতাব্দির এনালগ যুগের ভাবাবেগ আপ্লুত জনগন মনে করলে ভুল হবে। একবিংশ শতাব্দির বাংলাদেশের জনগন ডিজিটাল যুগের আধুনিক, বিজ্ঞান মনস্ক, উন্নত জীবন যাপনের অধিকারি, অধিকতর বাস্তবতা সম্পন্ন, শিক্ষিত, রুচিবোধ সম্পন্ন।
বিএনপি নেত্রীর আরও একটি বড় আন্তজাতিক উদ্দেশ্য এতে নিহীত আছে।সারা বিশ্ব বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত সহ উন্নত দেশ সমুহ,সৌদী আরব সহ আরব বিশ্বের অন্যান্ন দেশ সমুহ জঙ্গীবাদ উত্থানের বিরুদ্ধে একহাট্রা।এই সময় জঙ্গীবাদ তোষনের তকমা থেকে বহি:বিশ্বের চোখ ভিন্ন দিকে ফেরানোর বড় একটি কারনও এতে বিদ্যমান রয়েছে। তাঁদের কোটি ডলারের নিয়োগপ্রাপ্ত আন্তজাতিক লবিষ্ট ফার্ম বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের এই বার্তা দিতে পারবে যে- বাংলাদেশের বিরুদী দল বিশেষ করে বিএনপি এবং তাঁর নেত্রী জঙ্গী উত্থান রোধে জাতীয় ঐক্যের আহব্বান জানিয়েছিল কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সাড়া দেয়নি। সরকার সাড়া দেয়নি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারনে-তারা প্রচার করবে সরকার জঙ্গীবাদ উত্থানে আন্তরীক নয়, জাতীয় ঐক্যে ফাটল রেখে জঙ্গী দমন আদৌ সম্ভব নয়।
   বিএনপি যদি অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস না করে, সে ধরনের রাজনীতির গুরুত্ব উপলব্ধি না করে তাহলে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ১৪ দল বা অন্য কোনো অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ঐক্য গড়ার কোনো নিকটবর্তী বা দূরবর্তী আশা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ব্যবস্থা কখনই করতে পারে না। বিএনপির কোনো লোক দেখানো, ঐক্যের ডাক শেষ বিচারে সফল হওয়ার সম্ভাবনা শুন্যের কোটায় যাহা কার্যকর হওয়ার ক্ষীন আশাও নেই।
     বিএনপি এবং তাঁর জোট ব্যাতিরেকে এমনিতেই উন্নয়ন, অগ্রগতি, এবং জঙ্গী উত্থান রোধে সরকারের আন্তরীক প্রচেষ্টার কারনে অঘোষিত জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে।এই জাতীয় ঐক্য জনগন থেকে জনগনের মাঝে ব্যাপৃতি ঘটেছে দেশব্যাপি। ফলে রাজপথ প্রতিবাদ শুন্যতায় ভোগছে দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময়। আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রতিরোধের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েও দেশে বিদেশে সংসদ এবং সরকারের গ্রহন যোগ্যতা অবিতর্কীত। তাঁর প্রমান জাতিসংঘ কতৃক একমাত্র বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে বিভিন্ন উপঢৌকনে ভুষিত করা।বিশ্বের সাত উন্নত সভ্য ধনী দেশের নিকটও গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছে শতভাগ- তাঁর প্রমান সাতজাতীর অর্থনৈতিক ফোরামের গোপন বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পয্যবেক্ষনের সুযোগ দেয়া, যাহা অতীতে বাংলাদেশের ভাগ্যেই শুধু নয়, অন্যকোন দেশের সরকার প্রধানের ভাগ্যেও জোটেনি। শুধু তাই নয়, দক্ষিন এশিয়ার গনতান্ত্রীক দেশ সমুহের সংসদীয় ফোরামের নেতৃত্বও বাংলাদেশ অর্জন করেছে এবং আন্তদেশীয় সংসদীয় স্পিকার ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও বর্তমানে বাংলাদেশের হাতে।আরব বিশ্বও বর্তমান নাস্তিক সরকারকে ইসলামের একমাত্র আন্তরীক সেবক আখ্যায়িত করে মুসলিম বিশ্বের জোটে অন্তভুক্ত করেছে। অতীতের আস্তিক সরকার সমুহের সময়ে বাংলাদেশের উপর জারীকরা বিভিন্ন নিষেদাজ্ঞা প্রত্যাহার শুরু করেছে.। শুধু তাই নয়- একমাত্র বাংলাদেশের নাগরীকগন আরবীয় মহিলাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নাগরিকত্ব লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে চলেছে, সম্পদ আহরনের বাধা দূর হতে চলেছে।এই সুযোগ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেরও নেই।
   তাছাড়াও জনগনের মাঝে অঘোষিত জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির কারনে রাজপথে বা গ্রামে গঞ্জে মিছিল মিটিং এর তোড়জোড় নেই।জনগন সরকার বিরুদী কারো কথায় কর্ণপাত করতে রাজী নয়।
 তাইতো দেখা যায়- গুটি কয়েক সন্ত্রাসী বোমাবাজ হরতাল অবরোধকারিদের রাজপথে নামার উপর অঘোষিত কারফিউ জারী করে রেখেছে বাংলাদেশের জনগন। ফলে রাজপথে গাড়ী পোড়ানো দুই চারজন সন্ত্রাসী বিক্ষোবকারি এখন আর দেখা যায়না,জলন্ত আগুনে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার শক্তি আর কোন অশুভ শক্তির হবে বলে মনে হয়না।
  সুতারাং উপসংহারে বলতে চাই, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন বাংলাদেশের জনগন আছে বলে মনে করেনা।জনগনকে প্রতারীত করার এবং বিশ্ববাসীর চোখে ধুলা দেয়ার জাতীয় ঐক্যের আহব্বান কোন কাজেই আসবেনা।জনগনের নিকট পরিত্যাক্ত নেত্রীর দল ও জোট সরকারের নিকট গ্রহন যোগ্য হতে পারেনা।
 
       'জয়বাংলা    জয়বঙ্গবন্ধু'

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg