শেখ হাসিনা একটি নাম নয়--"একটি প্রতিষ্ঠান"।


         শেখ হাসিনা একটি নাম নয়--- "একটি প্রতিষ্ঠান"
            (রুহুল আমিন মজুমদার)

     পাঠক ভাইদের নিশ্চয়ই স্মরণে থাকার কথা---শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী বছরগুলো। বাংলাদেশ অস্থিতিশীল ধারায় প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক শাসকদের দ্বারা শাসিত হচ্ছিল। সারা দেশ ছিল ঘোমট অন্ধকারে আবৃত। তখনকার অস্থির প্রেক্ষাপটের বিপরীত ধারায় ছিল জনগনের সুপ্ত বিপ্লবি শক্তি। জনগনের সুপ্ত বিপ্লবী শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সেই সময়ে শেখ হাসিনার ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্বের শক্তি। হায়েনাদের গণতন্ত্রের কথা আমরা কেউ ভুলে যাইনি। ভুলে যাইনি বলেই সৃষ্টি হতে পেরেছে আজকের নতুন  প্রেক্ষিতে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের।
      শেখ হাসিনার সদা সত্য কথা বলার অবিচল দৃঢ়তা তাঁকে অপশাসকদের নিকট বিপজ্জনক করে তুলেছিল। পিতার বাসভবনে বন্দি করে রাখলেও শেখ হাসিনার উদ্যম, চেতনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বিশাল দূর্গের মতো পৈত্রিক বাড়ি ও তার উত্তরাধিকারের মধ্যে আটক থাকলেও তাঁর বসবাস ছিল  মুক্তির মধ্যে, যে মুক্তি হলো সাহসিকতার মুক্তি, গনতন্ত্রের মুক্তি। জাতির জনকের স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মনির্ভরশীল, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সিকি শতাব্দী পর;তাঁর কন্যার হাতে ফিরে এসেছে গনতন্ত্র।গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনে ক্ষনকাল অপেক্ষা না করে নতুন সংগ্রামে অবতীন্ন হলেন দেশরত্ম গনতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা-' সেই সংগ্রাম হচ্ছে সরকারি বেসরকারি সর্বক্ষেত্রে গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দান।' গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন শুধু তাই নয়; একদা তলাবিহীন ঝুড়িকেও উপছে পড়ার পয্যায় নিয়ে পৌঁছিয়েছেন।'
বাংলাদেশে শুরুতে এক ডলার পরিমাণের বিদেশি মুদ্রা মজুদ ছিল না, সেই বাংলাদেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন (তিন হাজার ১০০ কোটি) ডলার। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এখন বাংলাদেশ নিজের অর্থেই বানাচ্ছে তার স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এরই মধ্যে সেতুর প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই সেতুতে অর্থায়ন না করে একদিক থেকে বাংলাদেশের উপকারই করেছে। এই দেশের মানুষ এখন মাথা উঁচু করে বলে--" আমরা বাঙ্গালীরা দেশের জন্য যেমন জীবন দিতে পারি, নিজের অর্থে পদ্মা সেতুও বানাতে পারি। এক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট পদ্মা সেতুতে ঋন দেননি,পরবর্তী আরেকজন বিশ্বব্যাংকের কর্তাব্যক্তি দেখে গেলেন আমাদের অর্থে নির্মীত পদ্মাসেতু। দারিদ্রতা মোচন কি যাদুরকাঠির চোঁয়ায় শেকড় উপড়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে নিতে পেরেছেন শেখ হাসিনা-তাও বিস্তিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখে গেলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই গ্রামের মেয়েরা এখন সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায় ; কারো কারো নিকট রয়েছে আবার মোটর সাইকেলও।
       বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একসময় বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় না এলে খালি গায়ে রাস্তায় বের হতো, হাট বাজারে যেতে হ'ত। বর্তমানে এই দেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারী দেশ। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের পরিধানে হয়তো তেমন একটা পোশাকই ছিল। বর্তমান সময়ে গায়ে জামা নেই এমন মানুষ খুঁজতে হলে হারিকেন লাগবে,তাও তো যাদুঘরে। হ্যাঁ-ইলেকট্রোনিক্স লাইট জ্বালিয়ে দেখতে হবে। এই শীতে এমন একজনকে পাওয়া যাবেনা ; যার গাঁয়ে অন্তত: একটি শীতবস্ত্র পরিহীত নেই। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়টি হচ্ছে- " সারা গ্রাম তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সারাদিনে পেটপুরে একবেলা ভাত না খাওয়া মানুষ পেতে কষ্ট হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের শুরুতে সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ৭০ শতাংশই ছিল হতদরিদ্র। কয়েক দিন আগে বিশ্বব্যাংক সবাইকে ডেকে জানিয়ে দিল, ১৬ কোটি মানুষের দেশে দরিদ্রের সংখ্যা (১.৯০ ডলার দৈনিক আয়) বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ১২.৯ শতাংশ। হতদরিদ্রের সংখ্যা ৭ শতাংশ হবে। ব্যাংকের পণ্ডিতজনরা আরো বলছেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন তাক লাগানোর মতো, যদিও বিভিন্ন সময় সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংক আরো জানাচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৪তম। দুই বছর আগে তার অবস্থান ছিল ৫৮তম। বিশ্ব অর্থনীতির নানা ঝড়ঝাপটা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ বছরে গড় প্রবৃদ্ধির হার ছয়ের ওপরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই মুহূর্তে তা ৭ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। সব ঠিক থাকলে বছর শেষে ৭.২৫ পর্যন্ত উঠতে পারে।
এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮শ কোটি টাকা। মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ ১০৬৯ ডলার বা ৮৩ হাজার টাকার বেশি। বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা ও তাদের সম্পদের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে--"সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইস রিসার্চ ইন্সটিটিউট।"
      বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ হলো ১৪০৪ মার্কিন ডলার। সবমিলিয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদের আকার ২৫৮ বিলিয়ন ডলার। যা বিশ্ব সম্পদের শুন্য দশমিক ১ভাগ। ২০০০ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৮ বিলিয়ন ডলার। গতবছর ২০১৫ সালে বাংলাদেশিদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৩৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের প্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টাকার অংকে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮শ কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে এক বছরের ব্যবধানে। চলতি বছরের মধ্য সময়ের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে শুন্য দশমিক ৮ ভাগ। এর পরেও বাংলাদেশিদের এ সম্পদ বেড়েছে।
  কেমন করে হলো এমন সব অসামান্য কীর্তি? এসব কীর্তির মূল ‘জাদুকর’ দেশরত্ম 'শেখ হাসিনা'। দেশটা যদি ২১ বছর সেনা শাসকদের অধীনে না থাকত, তাহলে এই বন্দরে অনেক আগেই পৌঁছে যেত সাফল্যের এই ভরা জাহাজ। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দক্ষ কাণ্ডারির অসাধারন নৈপুণ্যে উজানে বৈঠা ঠেলে চলেছেন "বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা''।
     
      বোষ্টন বিশ্ববিদ্যায় যখন শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব 'ল' ডিগ্রি প্রদান করছিলেন, তখন তাঁদের চ্যান্সলরের বক্তব্য ছিল----'‘হাসিনা বিন্তে মুজিব একজন মহান পিতার সুযোগ্য কন্যা, একটি যোগ্য জনগোষ্ঠির মহান সেবক। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় গর্বের সঙ্গে আপনাকে ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি প্রদান করছে।’'(দৈনিক ভোরের কাগজ, ঢাকা : ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭।

          এই সেই দিন--'২০১৫ সালে ইউনিসেফের মহাসচিব ইরিনা বোকাভা শেখ হাসিনার হাতে ‘পিস ট্রি’ পদক তুলে দিয়েছেন।  তারচেয়েও  গুরুত্বপূর্ণ  ইউনিসেফের মহাসচিবের  বক্তব্যের সারার্থ।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন---"এই সাহসী নারী আলোকবর্তিকা হিসেবে সারা পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছেন।’ সত্যিই তাই 'শেখ হাসিনার' জীবন 'কর্মবহুল ও বৈচিত্র্যে ভরপুর'। সদা সর্বদা মৃত্যু ঝুকি নিয়ে বিরামহীন পথচলা সেকেন্ডের জন্যেও থেমে নেই। পথ চলতে গুলির তাড়া, জনসভায় বোমাতাংক, আকাশে বিমানাতাংক, ক্ষমতার মসনদে নিত্য ঝাঁকুনির পরেও থেমে নেই পিতার স্বপ্ন পূরণের অবিরাম প্রচেষ্টা।
"শেখ হাসিনা এখন শুধু একটি নামই নয় ; শেখ হাসিনা একটি প্রতিষ্ঠান"। যে প্রতিষ্ঠানে কল্যান রাষ্ট্রের সমুদয় পাঠ 'একিভূত পাঠ্যসূচিতে অন্তভুক্ত।'

            ruhulaminmujumder27@gmail.com

              "জয়বাংলা      জয়বঙ্গবন্ধু"


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg