শেখ হাসিনার "একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প" দারিদ্রতা মোচনের দলিল।

শেখ হাসিনার "একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প"--দারিদ্রতা মোচনের দলিল।
         (রুহুল আমিন মজুমদার)
     

      নিরবে, নির্বিত্তে, সংগোপনে দারিদ্রবিমোচনে সর্ববৃহৎ এবং যুগান্তকারি পরিবর্তন এনে দিয়েছে পল্লি অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য গৃহিত জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব মেধা ও মনন থেকে উৎসারীত "একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প।" প্রতিষ্ঠালগ্নে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ অর্জন এবং উপকৃত পরিবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিদগ্ধ জনেরা সমুহ সন্দেহ পোষন করলেও সময়ের ব্যবধানে তাঁর কোন লেশমাত্র নেতিবাচক উপসর্গ কারো চোখে ধরা পড়েনি।
        দুর্নীতি, অর্থ হরিলুট, ঘুষ ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধাজনিত নেতিবাচক  বড় ধরনের কোন উপসর্গের সৃষ্টি হয়নি। সঙ্গত কারনে প্রকল্পটি আশাতীত সাফল্য অর্জনের কারনে নিম্নবিত্ত পরিবারে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে জাতীয় পয্যায়ে দারিদ্রবিমোচন সুচকের অগ্রগতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ঋনবণ্টনে স্বচ্ছতা, কর্মকর্তাদের সততা, ঋনব্যবহারে কর্মকর্তাদের পয্যবেক্ষন সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে।উদ্দেশ্য ও লক্ষের সমন্বয়, সঙ্গে উত্তম ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে যে কোন লক্ষ অর্জন সম্ভব " একটি বাড়ী একটি খামার তার প্রকৃষ্ট প্রমান।
   মুক্তিযুদ্ধের পর হ'তে অদ্যবদি রাষ্ট্রীয়ভাবে সবুজ বিপ্লব, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, কৃষিতে স্ব-নির্ভরতা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পথ শিশুদের ভাগ্যন্নয়ন লক্ষে নেয়া পথকলি সহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। একটি প্রকল্পও শতভাগ সফলতার উদাহরন সৃষ্টি করতে পারেনি। উচ্চ স্তর হতে নিম্নস্তর পয্যন্ত- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট, অর্থ আত্বসাৎ ইত্যাদি নেতিবাচক প্রভাবে প্রকল্পগুলি শেষাবদি কাগজে কলমে আমলাদের টেবিলে এবং মাঠপয্যায় কর্মচারী কর্মকর্তাদের হ্যান্ডনোটে সীমাবদ্ধতায় রুপান্তরীত হয়েছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে গৃহিত প্রত্যেকটি প্রকল্প লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়ে দুর্নীতির সুচককে উধ্বমূখি করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে। বার বার দেশ দুর্নীতির শীর্ষপদের অধিকারি হয়ে বিশ্বময় বাঙ্গালী জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে।
         স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীর জনকের নতুন সরকারের নেয়া "সবুজ বিপ্লব" দিয়ে শুরু করে সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের "ছাগল প্রকল্প" পয্যন্ত দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভরতা, আর্থসামাজিক উন্নতি অগ্রগতি অর্জনের লক্ষে নেয়া পদক্ষেপ সমুহের মধ্যে একটিও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।ফলে সরকারের জনকল্যানের উদ্দেশ্যও সাধিত হয়নি।মাঝখানে সরকারি অর্থ, বিদেশী সাহায্য ও ঋনের টাকায় একশ্রেনীর মানুষ রাতারাতি আঙ্গুল ফুঁলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে ; দারিদ্র যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।
      ১৯৯৬ ইং অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় এবং তাঁর নির্দেশনায় "একটি বাড়ী একটি খামার" প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়।শুরুতে উক্ত প্রকল্পের থীম হিসেবে চারটি স্তর নির্ধারন করা হয়। (১) মাঠ ফসল (২) পারিবারিক বাগান (৩) বনজ, ফলজ, ঔষধি বাগান (৪) গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ইত্যাদি প্রতিপালন।২০০১ ইং সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে গেলে "আওয়ামী লীগের প্রকল্প" ধরে নিয়ে "চার দলীয় জোট সরকারের" আমলে একরকম পরিত্যাক্ত হয়ে যায়।ফলে প্রকল্পটির কায্যক্রম প্রায় সাত বছর মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
        ২০০৮ ইং সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে সংশ্লিষ্ট মহল প্রকল্পটির দ্বিগুন উৎসাহে কায্যক্রম শুরু করে।ভবিষ্যতে কোন সরকার "আওয়ামী দলীয় প্রকল্প" মনে করে যাতে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করতে না পারে তজ্জন্য  সরকারি উদ্যোগের আওতায় আনার কায্যক্রমও হাতে নেয়া হয়।এইজন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী প্রকল্পটিকে সমুদয় কায্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার প্রতি মনযোগি হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ ইং সালে একনেক বৈঠকে ১১৯৭ কোটি টাকা উক্ত প্রকল্পের ব্যয় ধরে প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
      ২০১৪ সালে উক্ত প্রকল্পকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার লক্ষে "পল্লি সঞ্চয় ব্যাংক" আইন পাস করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহন করা হয়।   অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খামার প্রকল্পের তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। খরচ বেড়েছে মূল প্রকল্প ব্যায়ের প্রায় সাতগুন। মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা।বাংলাদেশ রেশম বোর্ড প্রকল্পটির সাথে সংযুক্তির ফলে উহার পরিধি বেড়েছে সংঙ্গে ব্যয় ও অনেকটা বেড়ে গেছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত যথার্থ।
    উল্লেখ্য, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার ৪০ হাজার ৯৫০টি গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামের পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করা হয়। ২০২০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বর্তমানের ২২'০৮ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ প্রকল্প নেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় গরিব মানুষকে বিনিয়োগের জন্য অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আবার তাদের সঞ্চয় রাখার ব্যবস্থাও করা হয়।সঞ্চিত অর্থ থেকে পরিবার সমুহ ঋন নিতে পারবে মাত্র ৮শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রদান করে। অত্যন্ত বাস্তবানুগ ও কার্যকর প্রকল্প হিসেবে এটি এরই মধ্যে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছে।
      ব্যাংক আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়, ২০১৬ সালের ৩০ জুনের পর একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বিলুপ্ত হবে। বিলুপ্ত প্রকল্পের সব সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, অর্থ, কর্মসূচি এবং দায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হাতে চলে যাবে।  প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে ব্যাংকটি এ কার্যক্রমের সঙ্গে 'সম্পৃক্ত থাকবে' বলে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, কিছু জটিলতা রেখেই প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
   "সম্পৃত্ত থাকব" বিষয়টি ভবিষ্যতে বড় কোনো জটিলতা সৃষ্টি করবে কিনা, তা অনুধাবন জরুরি।প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে নেতিবাচক কিছু বিষয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। সমিতিভুক্ত সদস্যদের আমানত এমনিতেই একটি ব্যাংক পরিচালনার জন্যে যথেষ্ঠ বলা যায়।এর সাথে সরকারি বিনিয়োগ যুক্ত হলে ব্যাংকের স্থীতির পরিমান অত্যাধিক বেড়ে অলস স্থীতিতে পরিনত হতে পারে। তখন সুফলের চাইতে কুফলের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। বিষয়টি অভিজ্ঞ জনদের পুণ:ভাবনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।
বাংলাদেশের সামনে দারিদ্র্যবিমোচনের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষমাণ। কারণ এখনও বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। এজন্য টেকসই নানা কর্মপন্থা আবশ্যক। এ বিবেচনায় একটি বাড়ি একটি খামার একটি জুতসই উদ্যোগ। কোনো আইনি জটিলতা কিংবা পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে যাতে প্রকল্পটির কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা উল্লেখিত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।
       "শেখ হাসিনা" মানব শক্তির সর্বোত্তম ব্যাবহার তথা জীবিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে “একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প” বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।কোন অজুহাতেই যেন এই প্রকল্প থমকে না দাঁড়ায় সেদিকে লক্ষ রাখা সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্ব।শেখ হাসিনা দর্শন দিয়েছেন দারিদ্র মোচনের; সংরক্ষন করার দায়িত্ব প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের।
স্মরণে থাকা উত্তম-জাতীর জনকের "সবুজ বিপ্লব" মেজর জিয়ার "যুব কমপ্লেক্স" এরশাদের "পথকলি ট্রাস্ট" খালেদা জিয়ার "ছাগল প্রকল্প" শেখ হাসিনার "একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প" নিশ্চিত আগামীদিনের ইতিহাসের অংশ হয়ে দারিদ্র বিমোচনে অবদানের স্বীকৃতির সূচক নির্ণিত হবে। এর মধ্যে অনেক "রাষ্ট্র নায়ক আগামীর ইতিহাসবীদ
দের 'হাসির পাত্রে' পরিণত হবে, কারো অবদান 'কৃতজ্ঞচিত্তে' বিশ্লেষিত হবে। সুতারাং কোন অবস্থায় শেষ পয্যায়ের ভুলের কারনে সফল প্রকল্প যেন অসফলতার কালিমায় লুপ্ত হয়ে অতীতের ধারাবাহিকতায় পয্যবসিত না হয়; সেদিকে মনযোগ দেয়াই হবে সময়ের দাবি পূরণের উত্তম পন্থা।
ruhulaminmujumder27@gmail.com


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg