গনতন্ত্রের অভিযাত্রায় অন্যতম মাইলফলক জেলাপরিষদ নির্বাচন।

    গনতন্ত্রের অভিযাত্রায় অন্যতম মাইলফলক জেলাপরিষদ নির্বাচন।
         (রুহুল আমিন মজুমদার)

        বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গত জাতীয় কাউন্সিলে যুগান্তকারী একটি অঙ্গিকার দলীয় গঠনতন্ত্রের "অঙ্গিকারপত্রে" সংযোজন করেছে। তাহচ্ছে-সরকারি বেসরকারি সকল পয্যায় গনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি। গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার লক্ষে উক্ত প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গিকার গঠনতন্ত্রের একনম্বর অঙ্গিকারের মায্যদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।অন্যকোন রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে "গনতন্ত্রের সজ্ঞা" বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ন্যায় ব্যাখ্যায়ীত নেই। স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন পয্যায় গনতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ইউনিয়ন থেকে জেলা পয্যায় পয্যন্ত জনপ্রতিনীধি কতৃক পরিচালিত করার লক্ষে জাতীয় দল সমুহের মননোয়নে এবং প্রতিকে নির্বাচনের ব্যবস্থাও বর্তমান সরকারের গনতন্ত্রের পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ সমুহের মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ।
     ইহা অবশ্যই স্বীকায্য যে-গনতন্ত্র একদিন বা দুই চার বছরে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয় নয়।আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে শতবছর গনতন্ত্র চর্চার পরেও দেখা যায় বর্ণবাদ,গোষ্টি ও জাতীয়গত বিদ্বেষ এখনও দুরীভূত হয়নি।বাংলাদেশের গনতন্ত্রের চর্চা বহু বছরের নয়।৯০ এর স্বৈরাচার বিরুধী গন অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে গনতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল।মাঝে কষ্টার্জিত গনতন্ত্রকে হরন করার নানামূখি ষড়যন্ত্র আমরা লক্ষ করেছি।স্বল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবার সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়িয়ে অথবা ধর্মের জিকিরে গনতন্ত্র হরন করার একাধিক চেষ্টাও আমরা লক্ষ করেছি।গনতন্ত্র সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ খুব বেশী অবগত বলা যাবেনা।তাই যদি না হয়-ধর্মকে বার বার কেন সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়।ধর্ম এবং গনতন্ত্র এক চাদের নিছে বসবাস যোগ্য দর্শন নয়।একদিকে গনতন্ত্রের জন্য লড়াই অন্যদিকে ধর্মের পতাকাকে উধ্বে তুলে ধরার প্রচেষ্টা--"কোন অবস্থায় গনতন্ত্রের প্রতি আগ্রহশীল ব্যাক্তি এবং দলের কাম্য হতে পারেনা।"
      বর্তমান সরকার গনতন্ত্র চর্চার প্রতিটি ক্ষেত্র উম্মোচন করে দিয়ে যাচ্ছে---"প্রতিষ্ঠিত রুপ পেতে হয়ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে"। গনতান্ত্রিক মুল্যবোধের পুজারী রাজনৈতিক দল এবং সুশিক্ষিত কর্মীবাহিনী সম্বলীত রাজনৈতিক দলের উত্থান ও বিকাশ যত দেরী হবে উল্লেখিত ক্ষেত্র সমুহে গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা পেতেও তত দেরী হতে পারে।গনতন্ত্র শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনকেই বুঝায়না, নির্বাচন গনতন্ত্রের অনুষঙ্গ মাত্র।রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বস্তরে গনতন্ত্রের ধারা অব্যাহত না থাকলে নির্বাচন কোনকালেই সুষ্ঠ ও অবাধ হতে পারেনা।তাছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে গনতান্ত্রিক সমশক্তি সম্পন্ন একাধিক রাজনৈতিক দলের অনুপস্থীতিতেও নির্বাচন সুষ্ঠ হতে পারেনা।
   বর্তমান সরকারের গনতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থার নিদর্শন স্থানীয় সরকারের তিনটি স্তরেই নির্বাচিত প্রতিনীধির মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগককে সচল করে নির্বাচনের বিধান কায্যকর করা। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই উক্ত নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের কায্যক্রম হাতে নিয়েছে।দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনেও দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি অংশগ্রহন করছেনা।সংসদের বিরুধী দলও অংশগ্রহন করবে বলে মনে হচ্ছেনা।অথছ এহেন বিরুধীদলের নিকট থেকেই জনগনকে প্রতিনিয়তই চবক নিতে হয় গনতন্ত্রের!!!
     
         'জেলা পরিষদ' ভারতীয় উপমহাদেশের অত্যন্ত শক্তিধর এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যা গ্রামীণ স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে স্বীকৃত। ১৮৮২ সালে লর্ড রিপনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে ১৮৮৫-১৮৮৬ সাল থেকে অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে জেলা পরিষদ গঠিত হতে থাকে এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯২০ সাল থেকে এ পরিষদসমূহে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বশীলতার বিকাশ ঘটে।'১৯৪৭ দেশভাগের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত এ দেশে অনির্বাচিত জেলা পরিষদ ব্যবস্থা বহাল থাকে।
       স্বাধীনতার পর '৭২ এর সংবিধানেও ত্রিস্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরে জনপ্রতিনীধির কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষে জেলা পরিষদে নির্বাচিত জেলা গভ:র্নর প্রথা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। '৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্থানীয় সরকারের সর্ব উচ্চ পরিষদ জেলা গভর্নর  প্রথা বাতিল করে দেয়া হয়।সেই থেকে অদ্যাবদি স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপুর্ণ সর্ব উচ্চ অংশকে প্রত্যেকটি সরকার অন্ধকারেই রেখেছিলেন।
১৯৮১ ইং সালে থানাপরিষদে নির্বাচিত প্রতিনীধির মাধ্যমে পরিচালনার উদ্দেশ্যে এরশাদ সরকার উদ্যোগ গ্রহন করেন।১৯৮১ সালের পরের ১০ বছর থানা পরিষদকে উপজেলায় রুপান্তর করে নির্বাচিত পরিষদ গঠিত হলেও তা পুনরায় ১৮ বছর (১৯৯১-২০০৯) স্থগিত থাকে। ২০০৯ ইং সালে আওয়ামী লীগ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের দ্বিতীয় স্তরটিকে সচল করে। জেলার ক্ষেত্রে সেটি আরও বেদনাদায়ক।৭৫ এর পর কোন সরকার কোন নামেই উক্ত পরিষদকে সচল করার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি।
      ২০১১ ইং সালে বর্তমান সরকার জেলাপরিষদকে সচল করার উদ্যোগ গ্রহন করে। জনপ্রতিনিধি ও স্থায়ী সিভিল সার্ভিস নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মেলবন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্কের পুনর্গঠনের রূপরেখা নিয়ে অস্পষ্টতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান না হওয়ার কারনে গুরুত্বপুর্ণ জেলাপরিষদ অকায্যকরই ছিল। একদিকে জেলা ও উপজেলায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহের বিস্তৃতি ঘটেছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে গণতান্ত্রিক প্রশাসন সৃষ্টির সাংবিধানিক অঙ্গীকার পূরনে কোন সরকার উদ্যোগ গ্রহন করেনি। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের সংখ্যা ২৪ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৫শতের কাছাকাছি।জেলায় ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় ছাড়া আরও ৪৩টি দপ্তর রয়েছে। সরকারের যতগুলী দপ্তর সচিবালয়ে আছে প্রতিটি জেলায় তাঁর অস্তিত্ব বিদ্যমান।সচিবালয়ে প্রতিটি দপ্তরের জন্য একজন মন্ত্রীর অস্তিত্ব বহাল থাকলেও জেলায় কোন নির্বাচিত অথবা মনোনিত প্রতিনীধির অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিলনা।
স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপুর্ণ উধ্বতন দুই স্তরে জনগনের নির্বাচিত প্রতিনীধি না থাকার কারনে আমলাতান্ত্রিক শাষনের বিস্তৃতি ৪৫ বছরে সমাজের প্রতিটি স্তরের গভীরতায় পৌছে জনগনের মানষিক দৃষ্টিভঙ্গির আমুল পরিবর্তন সাধন করে দিয়েছে।আমলাগন প্রভুত্বের আচরনে অভ্যস্ত হয়েছেন জনগন তাঁদের ভৃত্তে পরিণত হয়েছে।

       বাংলাদেশে জেলা পরিষদ যেহেতু গত ৪৫ বছর সুপ্ত বা লুপ্ত অবস্থায় ছিল, তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে জেলা পরিষদের বাস্তব চিত্র বা ধারণা নেই। তাই সাধারণ মানুষ আপাতত এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে খুব বেশি হয়তো ভাবছে না। তা ছাড়া সাধারণ মানুষ যেহেতু ভোট দিচ্ছে না, তার ফলেও তাদের কাছে বিষয়টি এখনো অপরিচিত ও ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে যতই দিন যাবে এ প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।সময়ের প্রেক্ষাপটে মৌলিক গনতন্ত্রের আবর্ত থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক গনতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসবে।বর্তমানে যতটুকুই পাওয়া গেল- না পাওয়ার চাইতে অধিক ভালই বলতে হবে।
জেলাপরিষদের বিপুল সম্পদ এত দিন নির্বাচিত এমপি অথবা জেলাপরিষদের সেক্রটারীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।হাজার হাজার একরভূমি,বালুমহাল, হাটবাজার, খাসভুমি যত্রতত্র বন্দোবস্তির মাধ্যমে নামমাত্র জেলা পরিষদ তহবিলে জমা দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে।লাভজনক এই পরিষদকে যখনই গনতন্ত্রায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে তখনই আমলাদের দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে।আমলাদের কারনে বিগত পাঁছটি বছর সরকার প্রশাসক দিয়ে জেলাপরিষদের কায্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে।অথছ প্রশাসক নিয়োগের কিছুদিন পরেই নির্বাচনের মাধ্যমে 'জেলা পরিষদ' গঠন করার বিষয় সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল।
  দু:খ্যজনক হলেও সত্যি--আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল সমুহ জনগনের 'গনতান্ত্রিক অজ্ঞতা'কে পুঁজি করে যুগের পর যুগ রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে।তাঁরা গনমাধ্যমের স্বাধীনতা চায়, বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা চায় কিন্তু যখনই 'ধর্মীয় স্বাধীনতা'র কথা আসে তখনই গাত্রদাহ শুরু হয়। নির্বাচন সুষ্ঠ ও অবাধ চায় কিন্তু নীজ দলের 'সাংগঠনিক কাঠামোর' দুর্বলতা চোখে দেখে না। সর্বত্র গনতন্ত্রের উপস্থীতি নিশ্চিত চায় কিন্তু নীজ দলে 'গনতান্ত্রিক চর্চা' করতে বা গনতন্তান্ত্রিক বিধি মানতে রাজী নয়। গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে আগ্রহী কিন্তু 'উপজেলা এবং জেলা ' নির্বাচনে অংশ নিতেও অপরাগতা প্রকাশ করে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও 'স্থানীয় সরকারের তিনস্তরের মধ্যে একস্তর'কে সচল রেখে বাকি দুই স্তরের খবরও নেয়নি। 'সেনা আমলা'দের উপর নির্ভর করে গনতন্ত্র কায়েম করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার অর্থই হচ্ছে--"শেয়ালের ঘরে মোরগ বেঁধে রাখা নয় কি?"

বাংলাদেশে তিন স্তরীয় কাঠামো এত দিন কার্যকর ছিল না। ফলে আন্তস্তরীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ধারণা প্রয়োগের অবকাশ ছিল না। জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত পরিষদ কার্যক্রম শুরু করলে এসব বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রন করবে উপজেলা পরিষদ,উপজেলা নিয়ন্ত্রন করবে ইউনিয়ন পরিষদ।স্থানীয় সরকার পরিচালনায় নি:সন্দেহে গতিশীলতা আসবে।সরকারের বিপুল পরিমান ভুমি, রাজস্ব, ইজারা, লিলামে স্বচ্ছতা আসবে। জেলা, উপজেলা ইউনিয়নে কাজের সমন্বয় ঘটবে সুষ্ঠভাবে।
একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নিয়ে জেলাপরিষদ গঠিত হবে।জনপ্রতিনীধিদের আনাগোনায় নিস্তেজ জেলাপরিষদ চত্বরে প্রানের সঞ্চার হবে।বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না-জেলা পরিষদে সরকারের কত প্রকার জনকল্যান ফান্ড সক্রিয় রয়েছে। দুস্ত, মেধা, বিকলাঙ্গ, বধির ইত্যাদি ফান্ড জনগনের কল্যানে থাকলেও গনবিচ্ছিন্নতার কারনে উক্ত ফান্ডের অধিকাংশ টাকাই অব্যবহৃত অথবা নামে বেনামে সরকারি আমলারা আত্বসাৎ করার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে নিতেন।তাছাড়াও জেলাপরিষদের অন্তভুক্ত রাস্তা ঘাট, পুলকালভার্ট, হাটবাজারের উন্নয়ন তহবিলের টাকা ব্যবহার না হয়ে বছর শেষে ফেরৎ যেতে দেখা গেছে। জেলা পরিষদ নিয়ে জনগনের উৎসাহ উদ্দিপনা আপাত:দৃষ্টে কম দেখা গেলেও অচিরেই উহার কায্যপরিধির ব্যপকতা জনমানষে পরিদৃষ্ট হলে  আকর্ষন ফিরে আসতে দেরী হবে বলে মনে হয়না।
 উপসংহারে বলা যায়- বর্তমান সরকারের হাজারো সফলতার মধ্যে অন্যতম একটি সফলতা জেলাপরিষদ নির্বাচন।গনতন্ত্রের অভি্যাত্রায় নি:সন্দেহে জেলাপরিষদ অন্যতম একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।কালক্রমে গনতন্ত্রের ধ্যানধারনার বিকাশমান ধারা সর্বস্তরে প্রতিফলিত করার অন্যতম উপায় স্থানীয় সরকারের সর্ব উচ্ছ পয্যায় জেলাপরিষদ অন্যতম ভুমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অন্যদিকে জেলা পরিষদের নির্বাচন আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা থেকে জনগনের রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ধারনাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করবে। গনতন্ত্রের শিক্ষা, গনতান্ত্রিক মানষিকতা, গনতান্ত্রিক রুচিবোধ,গনতন্ত্রের চর্চা, গনতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রুপ সম্পর্কে জনগনের বদ্ধমুল ধারনাকে দ্রুত পরিবর্তন করে তাঁর মুল চেতনায়  ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। গনতন্ত্রকে  প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার ক্ষেত্রে কায্যকর এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন ও বাস্তবায়নে একমাত্র উদ্যোগক্তা বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নাম আগামীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
      ruhulaminmujumder27@gmail.com
       "জয়বাংলা      জয়বঙ্গবন্ধু"

 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg