খালেদা জিয়া আত্মবিশ্বাস হারিয়ে হতাশার সাগরেনিমজ্জিত--"আন্দোলনও হবে না, দাবিও মানবেনা সরকার।

     খালেদা জিয়া আত্মবিশ্বাস হারিয়ে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত--"আন্দোলনও হবেনা, দাবিও মানবেনা সরকার"।
     (রুহুল আমিন মজুমদার)

            গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত ১৩ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন।প্রত্যেক দফায় "স্বাধীনতার পর থেকে অদ্য পয্যন্ত" কথাটি কমন হিসেবে নিরপেক্ষ কমিশন করার কথা বলেন।শেষাবদি এতেও নিরপেক্ষতায় সন্দিহান হয়ে আলাদা সচিবালয়, জনবল নিয়োগের কথাও উত্থাপন করেন।
    তাঁরপরও এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলেই যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তা মনে করেন না খালেদা জিয়া। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনকে প্রশাসনিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া, প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা দরকার। তাই নির্বাচন কমিশন যেন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারে, সে জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে জাতির সামনে উপস্থাপন করবে।
       বেগম খালেদা জিয়া সমস্ত বিষয়গুলী আলোচনার জন্য দুই জোটের দুই জন নির্ধারিত ব্যাক্তি সহ তাঁর সাথে পাহারাদার একজন সাক্ষীও রাখার প্রস্তাব করেন।যতক্ষন সমস্যার সমাধান না হয় অনিদির্ষটকাল আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবনাও রেখেছেন।পরবর্তিতে নির্বাচন কালীন সহায়্যক সরকারের রুপরেখাও উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।
     ভাবখানা এমন বর্তমান সরকারের শাষন মেয়াদ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলেও আপত্তি নেই।সম্পর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার জন্যে নিদেনপক্ষে আগামী আরো পাঁছ বছর সময় দিলেও পারবেন কিনা ব্যাক্তিগত ভাবে আমি সন্দিহান। বিশেষ করে সচিবালয় নির্মানের জন্য টাকা বরাদ্ধ থেকে আরাম্ভ করে দরপত্র আহব্বান, কাজের সমাপ্তি,আসবাবপত্র ক্রয়,ফাইল পত্র চাপানো ইত্যাদি কর্ম সম্পাদন পাঁছবছরের কম সময়ে পারবে বলে মনে হয়না। উপরন্তু আলাদা জনবল নিয়োগ, জনবলের প্রাকযোগ্যতার মধ্যেও শর্তযুক্ত নিয়োগ রয়েছে।
    প্রিয় পাঠকবর্গ, উপরের উল্লেখিত বক্তব্যটি বিএনপি নেত্রীকে তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে বর্ননা করি নাই। বিগত আটবছরে সবকূল তাঁর সাথে বেঈমানী করার কারনে তিনি বিশ্বাস শব্দটির উপর আস্থা হারিয়ে নীজেকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না।তাঁর প্রমান সব বাস্তবায়ন হলেও নির্বাচন সুষ্ঠ হয় কিনা তিনি সন্দিহান কথাটার প্রতি মনযোগ দিলে তর্কের প্রয়োজন হবেনা।
    তিনি যে সরকারের জন্য ২০১৪/১৫ সালে আন্দোলনের নামে সম্পদহানি, জীবনহানী, নেতাকর্মীদের অবর্ণনীয় দু:খ্যকষ্টের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিলেন সেই সরকারের আন্দোলন থেকে সরে গেছেন কিনা তাও বলেননি।হাজার হাজার নেতাকর্মী দলীয় নির্দেশ মানতে গিয়ে সন্ত্রাস, হত্যা, লুটপাটে অংশ নিয়ে জেলখানা অথবা পলাতক জীবনযাপন করছে তাঁদের সম্পর্কেও কোন বক্তব্য উত্থাপন করেননি।তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম সব নির্দোষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে।আসমান থেকে ইবলিশ শয়তান আগুনবোমা নিক্ষেপ করে জ্যান্তমানুষ দগ্ধ করে দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।নির্দোষ নেতাকর্মীদের "মামলা প্রত্যাহার অথবা আন্দোলন" এমন কোন বক্তব্য তাঁর মুখ থেকে বের হয়নি।হাজার হাজার নেতাকর্মীর ত্যাগের 'তত্বাবধায়ক' সরকারের দাবী থেকে পিছুটান যদি দিতেই হয় অন্তত: নেতাকর্মীদের মামলাগুলী প্রত্যাহারের একটা চেষ্টা প্রধান নেত্রী হিসেবে তাঁর কি করা উচিৎ ছিলনা?
    তিনি জানেন বহুবার বলেছেন অবৈধ সরকার,অনির্বাচিত সরকার, অগনতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন না।গতকালের প্রস্তাবগুলী তিনি কার কাছে দিলেন? তাছাড়া অবৈধ সরকারকে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতা উপভোগ করার একতরফা অনুমতি তিনি কেন দিবেন?তিনি কি জনগন কতৃক বাংলাদেশের কোন পয্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনীধি? সারা বাংলাদেশ জানে, বিশ্ববাসি জানে বিনাভোটে ১৫০ সাংসদকে ইসি নির্বাচিত ঘোষনা করেছে। এমন একটি একদলীয় বাকশালী সরকারকে অনির্দিষ্ট কাল ক্ষমতা উপভোগের অবাধ লাইসেন্স দেয়ার তিনি কে? যে সরকার গায়ের জোরে দেশ শাষন করছেন তিনি নীজেই তার আগের দিন বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছেন-সেই সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে নামানোর কথা না বলে আলোচনার প্রস্তাব কেন?তাও আবার যতদিন লাগুক দফায় দফায় আলোচনা!!  
         ২০০৬ ইং সালের নির্বাচনে বর্তমানের ১৩ দফার একদফাও যদি খালেদা জিয়া পুরণ করতেন হয়ত আজকের এই নৈরাশ্যজনক বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন হ'ত না।উক্ত দফাগুলি মিমাংসা করার একক ক্ষমতার অধিকারি অথবা সর্ববৃহৎ অংশিদারীত্ব তাঁরই থাকতো।তখনকার সময়ের আন্দোলনের প্রধান নেত্রী আজকের প্রধান মন্ত্রীর দাবিও খুব বেশী ছিলনা।তিনি শুধু আপত্তি করেছিলেন তাঁর জোটের সঙ্গে আলোচনা করা উচিৎ ছিল।আলোচনা না করার কারনে সরকারের প্রতি আহব্বান জানিয়েছিলেন সংসদের প্রধান বিরুধী দলীয় নেত্রী হিসেবে নিদেনপক্ষে সংবিধান অনুসরন করে নির্বাচন কমিশনার সহ অপরাপর সদস্যদের নিয়োগ দেয়ার জন্য।তাঁর সেই আহব্বানের প্রতিও আত্ম অহমিকায় ডুবু ডুবু চারদলীয় জোট সরকার এবং তাঁর নেত্রী খালেদা কর্ণপাত করার প্রয়োজন অনুভব করেননি।
     শেষপয্যন্ত সরকারকেও স্বীকার করে নিলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকেও স্বীকার করলেন, ইউপি নির্বাচনকেও জোরালো বিরুধীতা না করে "প্রশ্নবিদ্ধ" বলে আংশিক হলেও স্বীকার করে নিলেন, শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনই গনতন্ত্রের একমাত্র মাপকাঠি নয় তাও আপনি বিবৃতির মাধ্যমে স্বীকার করে নিলেন। শুধুমাত্র অ-স্বীকার করে যাচ্ছেন--"যাদের কারনে আপনি আজ নীজের উপরেও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেন না তাঁদের; সেই অশুভ শক্তি।"যারা আপনাকে প্রলোব্ধ করেছিল '৭৪/৭৫ সালের আদলে অরাজগতা সৃষ্টি করতে পারলে সেনাবাহিনী গুলশানের বাড়ী থেকে নিয়ে আপনাকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দিবে।চেয়ারের আশায় আপনিও একাধারে নাশকতা মুলক আন্দোলনের কর্মসূচি আজব্দী প্রত্যাহার না করে অদ্য সাংবাদিক সম্মেলনে ইসি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করছেন।
    সঠিক ভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন তৃনমূলের কর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নামছে না,নেতারাতো নহে-ই।সম্যক বুঝতে পেরেছেন মধ্যবতী নির্বাচন দিলেও আপনার দলের কোন লাভ হবেনা।বরঞ্চ সরকার বাড়তি পাঁছ বছর সময় ক্ষমতায় থাকার বৈধতাই পাবে।আপনাকেও যদি এই মহুর্তে সরকার প্রধান করা হয় আপনার দাবি আগামী পাঁছ বছর দিনরাত পরিশ্রম করেও নীজেই পূরণ করতে পারবেন না।দফায় দফায় বৈঠক করতে গেলেতো সময়ের অংক কোথায় যায়,মহান আল্লাহ-ই-ভাল জানেন। আমার বক্তব্যের অসারতা প্রমান করার জন্য বিএনপি সমর্থিত বন্ধুদের কমেন্ট বক্সে উদাত্ত আহব্বান জানাচ্ছি।ruhulaminmujumder27@gmail.com
                          "জয়বাংলা           জয়বঙ্গবন্ধু"
   

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg