যুদ্ধাপরাধীমুক্ত, অ-সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ শহীদ জননী জাহানারা ঈমামের আজম্ম লালিত স্বপ্ন।
     রুহুল আমিন মজুমদার

      জাহানারা ঈমাম।একজন বিদূষী নারী। পর্দানশীলতা যুগের সাহষী ছাত্রী।তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তান জামানার নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা।নারী শিক্ষার অগ্রদূত। শিক্ষক হিসাবে তার কর্মময় জীবনের প্রথম সময়কাল মফস্বল শহর ময়মনসিংহ।  সেখানে বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে ১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (১৯৫২-১৯৬০),  বুলবুল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক (১৯৬২ -১৯৬৬) এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক (১৯৬৬‌-১৯৬৮)হিসাবে তার কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপ্রপ্ত ছিলেন।তাঁর কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরত্ব গাঁথা নিয়ে লেখালেখিতে কাটিয়েছেন।অবসররের প্রতিটি মহুর্ত কাটিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির হার না মানা লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায়।
    একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জাহানারা ইমামের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শফি ইমাম রুমী শহীদ হন। এছাড়া যুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, দেশপ্রেমিক শরীফ ইমামও ইন্তেকাল করেন।আশির দশকের শুরুতে, ১৯৮২ সালে তিনি মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রতি বছর একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো তাঁকে। দুরারোগ্য এবং সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ ক্যান্সারও তাঁকে থামাতে পারেনি, ম্ররত্যুর আগ মহুর্ত পয্যন্ত তিনি নিবেদিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের হৃতগৌরব জাতিকে ফেরৎ দেয়ার আন্দোলন সংগ্রামে।
   ৯০ এর স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনে রুপরেখা অনুযায়ী দেশের সর্বস্তরের জনগনের ধারনায় ছিল দেশ নিশ্চিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে পরিচালিত হবে।তিন জোটের রুপরেখায়ও তদ্রুপ একটি চেতনার গ্রন্থনা পরিলক্ষিত ছিল।'৭৫ এ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে যে এতদুর পিছনে নিয়ে গিয়েছিল তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা জিয়া এবং স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার তখনও বুদ্ধিজীবি মহলের বোধদ্বয় হয়নি।মুক্তিযুদ্ধের সর্বশ্রেনীর বিরুধী শক্তি সমাজের সর্বস্তরে তাঁদের বিধ্বংসী মনোভাব নিয়ে তরুন সমাজের মগজ ধোলাইয়ের কাজটি সমাপন করে রেখেছিল কারো বোধগম্যতায় ছিলনা। এবং কি  তাঁদের অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ততদিনে কতটুকু পাকাপোক্ত করতে পেরেছিল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি ১৫ দলীয় জোটের নেতাকর্মী এবং কি থিমট্যাংক বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবি সমাজের, কারো তেমন কোন ধারনা গড়ে উঠেনি। '৯১ ইং সালে সাধারন নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পর, সেই নির্বাচনে সকল মহলের ধারনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলা-উপজেলায় কায্যকরি কমিটিহীন বিএনপি যখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জিতে যায়, তখনই কেবল সম্বিত ফিরে আসে সব মহলে। আশ্চায্য হলেও সত্য পুরাণ ঢাকায় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং বঙ্গবন্ধুর পছন্দের মানুষদের একটি আসনে সন্ত্রাসীদের প্রধান গালকাটা খোকার কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনা পরাজিত হয়।
       খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদল জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে প্রথমেই তিন জোটের রুপরেখায় ছোট্র একটি লাথি দিয়ে মেজর জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে  পদদলিত করার মূল চরিত্রে ফিরে যান।তৎপরবর্তীতে শুরু হয় এরশাদ মন্ত্রীসভায় মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা বিরুধী মন্ত্রী-নেতাদের দলে ভিড়ানোর কাজ এবং জামায়াতে ইসলামী সহ রাজাকার পূর্ণবাসনের যথাযথ কর্মসূচির বাস্তবায়ন।
এমনতর মহুর্তে সরকারের অংশ জামায়াতে ইসলামী দলটিও তাদের চূড়ান্ত কায্যক্রম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে দেশব্যাপি।বাংলাদেশের নাগরিকত্বহীন এবং যুদ্ধাপরাধী  গোলাম আযমকে ১৯৯১ ইং সালের ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করে।এর আগে জামায়াত দীর্ঘদিন তাঁদের এই পদটি ভারপ্রাপ্ত আমীর দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছিল। জামায়াত দেশব্যাপি প্রসারীত করে তাঁদের ইতিপূর্বে  গড়ে তোলা মগজ ধোলাইয়ের কারখানা,  বিভিন্ন বাহারি নামের কিন্ডার গার্টেন স্কুল। ব্যাংক,  বীমা সহ বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারি প্রতিষ্ঠান। দলটির অর্থনৈতিক ভিত আগের যে কোন সময়ের চাইতে বহুগুন এগিয়ে নেয় ৯১-৯৬ ইং এই সময়ের মধ্যে। অ-প্রতিদ্বন্ধি হয়ে উঠে স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি  রাজনীতি, সমাজ,  দেশ এবং বিদেশে। বিএনপি এবং জামায়াতের যুগৎপত ষড়যন্ত্রের আবাস মিলে তখনই কেবল সরকারে বিএনপি বাহিরে জামায়াত  সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধ বিরুধী শক্তিকে পুর্ণবাসিত করার হিড়িক পড়ে গেলে।
       মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন সহ সর্বস্তরের জনগনের মধ্যে এর বিরুপ ছায়া পরিলক্ষিত হয়। দেশ ব্যাপি জনবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। সদা সদালাপি, নিরংকার, শহীদমাতা, বিদূষী শিক্ষয়ত্রী, মহিয়ষী নারী জাহানারা ঈমামও ঘরে বসে থাকতে পারেননি। ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ্য শরীর নিয়ে তিনিও বেরিয়ে আসেন রাজপথে। জনগনের ক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশিষ্টজনেরাও তাঁদের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটাতে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন।জাহানারা ইমামের উপর দায়িত্ব বর্তায়  নির্দলীয় উক্ত সঙ্গঠনের নেতৃত্ব দেয়ার। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয় অসুস্থ্য শহীদ জননী জাহানারা ঈমামকে।
        ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটিফ  পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হয়। এখানেও সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ’গণআদালত’ এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণ আদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।
    ঘাতক দালাল নিমূল সম্বন্বয় কমিটি হঠাৎ করে না জেনেই উক্ত আদালত বসাননি।এর আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল, তাদের বিচারের দাবিতে দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল ‘পাবলিক ট্রায়াল’-এর আয়োজন করেছিলেন। যে আদালত তখনকার সময়ে সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। সেই একই আদলে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী শিরোমণি গোলাম আযমের জন্য ‘গণ-আদালত’ গঠন করে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিচারের আয়োজন করে জাতীয় সমন্বয় কমিটি। এ কাজে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে আগুয়ান হলে দেশে-বিদেশে এই আন্দোলন ব্যাপক সাড়া জাগায়। যদিও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তখন ভীষণ বৈরী ছিল। কিন্তু জাহানারা ইমামের ডাইনামিক নেতৃত্ব তরুণ প্রাণ আন্দোলিত করতে সমর্থ হয়, ফলে তরুণেরা দলে দলে ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়।
    আজ ২০১৭ সালে এসে স্মরণ করছি, কী ভয়ংকর সময় পার করে এসেছি আমরা! সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল এই আন্দোলনের প্রতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাব এবং এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জামাত-শিবির-ফ্রিডম পার্টি-যুবকমান্ডের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতি সরকারের প্রশ্রয় ও মদদ দান। তখনই কেবল সর্বস্তরের মানুষ আঁচ করতে পারে খালেদা জিয়া সরকারের রাজনৈতিক দর্শন স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করা। জনগনের বিশ্বাসের দৃডতা মিলে  খালেদা সরকারের নিকৃষ্টতম পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী ললনা দর্শকারী ও দর্শনে সহায়তাকারি, হত্যাকারী ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিচার চাওয়ার অপরাধে শহীদজননী জাহানারা ইমামসহ গণ-আদালতের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করার পর।
     ততদিনে আন্দোলন হয়ে উঠে তিব্রতর। আন্দোলনের তীব্রতায় ১৯৯২ সালের ২৯ জুন সরকার বাধ্য হয় মামলা প্রত্যাহার সহ আরো কতিপয় বিষয় সংসদে বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে। সমঝোতার পর সংগত কারনে সর্বমহল কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে এবং আন্দোলনের তিব্রতায় কিছুটা নমনীয়তা আসে। এই সুযোগে  সরকার  সমঝোতা বাস্তবায়ন না করে চড়াও হয় আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমামের ওপর। খালেদা জিয়ার লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী প্রকাশ্য দিবালোকে জাহানারা ইমামকে লাঠিপেটা করে আধমরা করে ফেলে রাখে।অন্যান্য বরেণ্য ব্যাক্তিদের উপরও চলে অন্যায় আচরণের স্টিমরোলার। জাহানারা ইমাম অটল থাকেন তাঁর দাবিতে।
    রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা, তখন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাহানারা ইমামের পাশে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরি হয়ে আওয়ামীলীগ ছাত্র লীগ, যুবলীগের লাখ লাখ কর্মী বাহিনী নিয়ে। শেখ হাসিনা সহ লাখ ছাত্র জনতার সাহষে তিনি তাঁর লক্ষ্যের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পেরেছেন। সঙ্গে অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ সংগঠনও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। সর্বস্তরের জনগনের সাহষে প্রয়াত নেত্রী কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় না পেয়ে  স্বাধীনতা বিরুধীদের প্রতি ভহৃনার আগুনকে কাংখীত লক্ষে পৌঁছাতে ছিলেন দৃডপ্রতিজ্ঞ।
          বঙ্গবন্ধু কন্যাও সম্যক বুঝতে পেরেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে উপলক্ষ করে ততদিনে নতুন প্রজম্মের একটি বিরাট অংশে মুক্তিযুদ্ধের বিস্মৃত চেতনার পূণ:জাগরন  ঘটেছে।নতুন প্রজম্মের এই অংশটিকে সঠিকভাবে সারভাইব করাই তখন প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি আওয়ামী লীগ দলের প্রধান শেখ হাসিনার একান্ত কর্তব্য এবং দায়িত্ব হয়ে পড়েছিল। তিনি উপলব্দি করতে পেরেছিলেন নিরপেক্ষ এই গন আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে খানিকটা হলেও জনমনকে আন্দোলিত করতে পারবে। শেখ হাসিনার সেদিনের সিদ্ধান্ত যে শতভাগ সঠিক ছিল, তাঁর জন্যে বেশীদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ৯৬ ইং সালের সাধারন নির্বাচনেই তাঁর ফলাফল হাতেনাতে পাওয়া  যায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রমানীত হয় শেখ হাসিনার রাজনীতিতে দুরদর্শীতা কোন অংশেই কম নয় বরঞ্চ সমসাময়িক অনেকের চেয়ে বহুগুন এগিয়ে আছেন।
          এরই মাঝে এগিয়ে আসে আর একটি শুভক্ষন। বিরানব্বই সালের অক্টোবরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১-এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপনের দিক্ষন।উক্ত সম্মেলন উদ্বোধন করার আমন্ত্রন পান শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ঢাকার নীলক্ষেতসংলগ্ন এলাকার বাংলাদেশ পরিকল্পনা একাডেমিতে হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ঐদিন দীর্ঘ সময় কাটান। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ‘উত্তরসূরি’ নামের একটি সংকলন প্রকাশিত হয় উদ্যোগক্তাদের পক্ষ থেকে। তাঁরা সংকলনটিতে  জাহানারা ঈমামের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার  প্রকাশ করে। সংকলনটিতে তিনি  তরুণদের উদ্দ্যেশ্য করে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন।তিনি তরুণদের ভয় না পেয়ে সাহসী হতে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন--'সাহসই হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে তোমরা সকলেই উদ্যোগী হও। কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়  তোমরা মূখ বুজে মেনে নিও না। তোমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে মূলত: কী ঘটেছিল একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের  নয় মাসে।’ তিনি তরুণদের বলেছেন যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে কী ঘটেছিল, তা জেনে নিতে হবে তোমাদেরকে। তিনি আরো বলেছেন, ‘কোটি কোটি মানুষ এখনো বুকে গভীর ক্ষত ও যাতনা নিয়ে বেঁচে আছেন। তাঁদের কাছে যাও, তাঁদের কাছ থেকে জেনে নাও মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস।’
      উপরে উল্লেখীত এই নির্দেশনা যেন যুদ্ধজয়ের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সৈন্যদলের প্রতি অলঙনীয় আদেশ। তাঁর এই আদেশ তরুন প্রজম্মকে দানব শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছে, উদ্দীপিত করেছে। শহীদজননী জাহানারা ইমাম  পদদলীত মুক্তিযুদ্ধের বাংলা দেশকে জাগিয়ে তুলেছিলেন তাঁর লেখনিতে, বক্তব্যে। তিনি তরুণ প্রজন্মের মনে মুক্তিযুদ্ধের হৃত চেতনা ফিরিয়ে আনতে সাহস জুগিয়েছিলেন, ঘাতকশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প তৈরিতে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। সম্মেলনে প্রকাশিত  সংকলনটি সম্মেলনে আসা প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের হাতে হাতে দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর নির্দেশনা পৌঁছে গিয়েছিল প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের লাইব্রেরীতে।প্রজম্মও অক্ষরে অক্ষরে ব্রতি ছিলেন তাঁর নির্দেশনা পালনে।
        ২০১৭ সালের আজকের বাংলাদেশ গভীর ভাবে অনুভব করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আদর্শে অনুপ্রানীত কোন এক নেতার আর্বিভাব। মানবতাবিরুধী, যুদ্ধাপরাধী, '৭৫ এফ ঘাতকচক্র, স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গী গোষ্টির আস্ফালনের এই দিনে খুব বেশী মনে পড়ে জাহানারা ঈমামের ন্যায়  দুরদর্শী নেতৃত্বই কেবল মাত্র পারে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।
        মুক্তিযুদ্ধের ফসল বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সরকারের বাইরে আর একটি শক্তির জাগরন এই মহুর্তে খুবই প্রয়োজন ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানে তাঁর কন্যা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অস্বিকারের কোন উপায় নেই।কিন্তু সরকারের বাইরে আর একটি অ-সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান না ঘটলে তাঁর পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলাই কষ্ট সাধ্য হতে পারে।অকস্মাৎ প্লাবনে ফসলহানী ঘটলেও আশ্চায্যের কিছুই থাকবেনা।কারন অতীতের ষড়যন্ত্রকারিরাই নতুন আঙ্গিকে অবস্থান নিয়েছে সমাজের সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পিছনে চুরিকাঘাত করার প্রস্তুতি নিয়ে।
ruhulaminmujumder27@gmail.com.

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg