শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চট্রগ্রামে স্মরণকালের গনহত্যা ও চট্রগ্রামের আওয়ামী লীগ।
রুহুল আমিন মজুমদার

      শেখ হাসিনাকে কমপক্ষে ২৩বার হত্যা প্রচেষ্টা হয়েছিল।জাতীয় পার্টি, ফ্রিডমপার্টি, বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গী, চীনপন্থি কম্যুনিষ্ট পার্টি, রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, ডি,জি,এফ, আই, পুলিশ,বিডি,আর এইসমস্ত হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল।'৭৫ পরবর্তি যে সরকার সমূহ সাংবিধানিক অথবা অ-সাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে, প্রত্যেক সরকারের সময়েই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিচ্ছিহ্ন করার চেষ্টা করেছে। হত্যা চেষ্টাগুলীর মধ্যে তিনটি হত্যাকান্ড ভয়াবহ (১) চট্রগ্রামের লালদীঘি ময়দানে হত্যাপ্রচেষ্টা (২) ২১ শে আগষ্ট হত্যা প্রচেষ্টা (৩) কোটালি পাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পোতে হত্যা প্রচেষ্টা।
    উল্লেখিত ২৩টি হত্যা প্রচেষ্টার মধ্যে কমপক্ষে দু'টি হত্যা প্রচেষ্টা নিশ্চিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় সংগঠিত হয়েছিল। উক্ত হত্যা প্রচেষ্টা দু'টি হচ্ছে চট্রগ্রামের লাল দীঘি ময়দানে হত্যা প্রচেষ্টা এবং ২১শে আগষ্ট হত্যা প্রচেষ্টা।এ দুটি হত্যা প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠান এবং কি হত্যার মোটিভও সংরক্ষন করা হয়নি। উল্লেখিত দু'টি হত্যা প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের আইনশৃংখলা বাহিনী সরাসরি জড়িত এবং হত্যা প্রচেষ্টায় অংশ গ্রহনকারী আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা  রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিল। হত্যা প্রচেষ্টায় অংশ নেয়া আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভুষিত হওয়ায় প্রমানীত হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় জড়িত উচ্চ পয্যায়ের ব্যাক্তিদের উক্ত হত্যা প্রচেষ্টায় সরাসরি ইঙ্গিত ছিল।
    ২১শে আগষ্ট হত্যা প্রচেষ্টা সময়কাল খুববেশীদিন আগেকার নয়, চারদলীয় জোটের শেষবারের ক্ষমতায় থাকাকালীন তারেক জিয়ার পরিকল্পনায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানের তত্বাবধানে ডি, জি, এফ আই এর সহযোগীতায় জঙ্গিদলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। তার আগে চট্রগ্রামে ধৃত দশট্রাক অস্ত্র ও বোমার চালানের একটি অংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে গায়েব করে দেয়া হয় এবং ঐ অস্ত্র ও বোমা ২১শে আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে  ব্যবহার করা হয়েছিল, যাহা ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নানের আদালতে দেয়া জবানবন্দি এবং মামলার দীর্ঘ তদন্তে প্রমানীত হয়। উক্ত বিভিষিকাময় হামলায় মহিলা আআওয়ামীলীগের সসভানেত্রী আই,ভি রহমান সহ ২৯জন নেতাকর্মীর মৃত্যু ঘটেছিল,হাজার হাজার নেতাকর্মী বোমার সস্প্রিন্টারের আগাতে আহত হয়েছিল।অদ্যবদি অনেকেই বোমার স্প্রিন্টার শরীরে নিয়ে পঙ্গুত্ববরন করেছেন এবং অমানবিক জীবনযাপন করছে।
    উক্ত হত্যা প্রচেষ্টায় ইতিহাসের ন্যাক্কার জনক কাহিনীর জম্ম দিয়েছিল চারদলীয় জোট সরকার কতৃক 'জর্জ মিয়া নাটক' সাজানোর মাধ্যমে। আরো বেশি চমৎকৃত হতে হয় সাজানো মামলার দিনমুজুর একমাত্র আসামী 'জর্জ মিয়া'জেলে থাকাবস্থায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ অংশ ডি, জি, এফ, আই কতৃক তাঁর মা'কে নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ীতে এসে, মাসে মাসে ভাতা দেয়ার ইতিহাস সৃষ্টি করে।উক্ত এই কঠিন সত্যটি প্রকাশ করেছেন বয়োবৃদ্ধ 'জর্জ মিয়ার মা' নীজেই। ২১ আগষ্ট হত্যা প্রচেষ্টার ভয়াবহতা সম্পর্কে একাধিকবার আলোচনা করেছি এবং আপনারাও সম্যক অবগত আছেন। আমি আজকের আলোচনায় চট্রগ্রামের হত্যা প্রচেষ্টার বিবরন ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোকপাত করতে চাই।
    প্রায় বিস্মৃত  প্রথম ভয়াবহ হত্যা প্রচেষ্টা চট্রগ্রামের লালদীঘি ময়দানের  হত্যা প্রচেষ্টাটি নিয়েই অদ্যকার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে  চাই। সামরিক সরকার জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাষনামলে উক্ত হত্যা প্রচেষ্টাটি  সংগঠিত হয়েছিল। দু:খ্যজনক হলেও সত্য, উক্ত হত্যা প্রচেষ্টায় আদৌ কোন মামলা এরশাদের সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে রুজু হয়নি এবং কি কোন আইনানূগ তদন্তও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি।সাধারন মানুষ বা হত্যার শিকার কোন অভিভাবকের করা মামলাও থানায় গ্রহন করা হয়নি।সরকারের নেতৃস্থানীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগন একতরফা আওয়ামী লীগের অন্তকোন্দলকে দায়ী করে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডটিকে  আড়াল করার প্রচেষ্টা গ্রহন করেছিল।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলে নিহত হন ১১জন। হাসপাতালে নেয়ার পথে এবং চিকিৎসারত: অবস্থায় গুলীবিদ্ধ ১৩ জন সহ মোট ২৪ জন  নেতাকর্মী এবং সাধারন মানুষ সেদিনের ঘটনায় মৃত্যুবরন করেন। আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ তম্মধ্যে চিরদিনের জন্যে পঙ্গুত্ব বরন করেন গোটা ৫০ জনেরও অধিক।
নিহতরা হলেন (১) হাসান মুরাদ (২) মহিউদ্দিন শামীম(৩) স্বপন কুমার বিশ্বাস, (৪)এথলেবারট গোমেজ কিশোর, (৫)স্বপন চৌধুরী, (৬)অজিত সরকার, (৭)রমেশ বৈদ্য, (৮)বদরুল আলম, (৯)ডিকে চৌধুরী, (১০)সাজ্জাদ হোসেন,(১১) আব্দুল মান্নান, (১২ সবুজ হোসেন, (১৩)কামাল হোসেন, (১৪) বিকে দাশ,(১৫) পঙ্কজ বৈদ্য, (১৬) বাহার উদ্দিন,(১৭) চান্দ মিয়া,  (১৮)হাশেম মিয়া, (১৯) মো. কাশেম, (২০) পলাশ দত্ত, (২১) আব্দুল কুদ্দুস, (২২) গোবিন্দ দাশ, (২৩)মো. শাহাদাত,(২৪) মসর দত্ত।
      ৯০ এর স্বৈরাচার বিরুধী গন আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে তখনকার সি, এম, পি, কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করে সি,এম, এম আদালতে মামলা দায়ের করেন। জামায়াত সমর্থিত বিএনপি সরকারের ৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উক্ত চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্তের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।বরঞ্চ মামলার বাদী উল্লেখিত আসামীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বহাল তবিয়তে আড়ম্বর জীবন যাপনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছিল।
     ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  ক্ষমতায় এলে বহুল আলোচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের নির্দেশে সি,আই,ডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।অভিযুক্ত অন্যান্নরা হলেন- (১)কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মণ্ডল, (২) পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সালাম, (৩) মুশফিকুর রহমান, (৪)প্রদীপ বড়ুয়া, (৫) বশির উদ্দিন, (৬) মো.আবদুল্লাহ (৭) মমতাজ উদ্দিন
           আদালত দুই দফায় আলোচিত এ চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জ গঠন (দ্বিতীয় দফায় সংশোধিত আকারে) করা হয়।  প্রথম দফায়  ১৯৯৭ সালের ৫ আগস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় ২০০০ সালের ৯ মে ৮ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/ ১০৯/  ৩২৬/৩০৭/ ১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বর্তমানে সাক্ষীগ্রহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।আশাকরা যায় অচিরেই উক্ত মামলা নিস্পত্তি হবে এবং আসামীগন যথাযথ শাস্তি পাবে।
     প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, মামলার বিবরন প্রকাশের পর, অবশ্যই ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে আপনাদের উপলব্দি ঘটেছে। সামরিক সরকার সমূহের একই উপলব্দি আওয়ামী লীগের দলীয় অন্তকোন্দলকে প্রত্যেকটি হত্যাপ্রচেষ্টায়  ব্যবহার করে ঘটনা উপেক্ষা করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে অন্য কোন দলের নেতানেত্রীর বেলায় একবারও কোনসময়ে, কোনকালে হত্যা প্রচেষ্টা হয়নি বা হত্যা করা হয়নি।শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকালেও, সমসাময়িক কালে বা সূদুর অতীতে এমন নজীর চোখে পড়েনা।
      বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের চট্রগ্রামের দলীয় কোন্দল মীমাংসার বৈঠকে বলেছেন--আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে কেউ রক্ষা পাবেন না।অতীতের ইতিহাসের আলোকে তিনি তাঁর মন্তব্যটি করেছেন।'৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে ২১ বছর আওয়ামী পরিবারের উপর জুলুম নিয্যাতন চালানো হয়েছে। আওয়ামীলীগ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারন একপ্রকার অচ্যুতই ছিল।আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে জনমনে হীন চারিত্রিক বৈশিষ্ট সম্পন্ন জীব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ন্যাক্কারজনক ইতিহাসের সম্মুখ্যিনও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির হতে হয়েছিল।
    "বাকশালকে" কে উপস্থাপন করা হয়েছিল একনেতার বিভিষিকাময় শাষন, রক্ষিবাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছিল ভারতীয় হিন্দু যুবকের স্বসস্ত্র এদেশীয় ঠেঙ্কাটে বাহিনীরুপে। শেখ কামালের আকাশসম সাংগঠনিক জনপ্রীয়তাকে ব্যাংক ডাকাতের চরিত্রে রুপায়িত  করে ধিকৃত, বিকৃত যুবকের স্থানে অধিষ্ঠিত করতেও কার্পন্য করেনি ষড়যন্ত্রকারিরা। তাঁর পরও স্বাধীনতা বিরুধী চক্র এবং তাঁদের প্রেতাত্বারা  নিশ্চিত হতে পারেনি,তাঁদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে  কি যাবে না। স্বাধীনতা বিরুধী শক্তির ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যই বঙ্গবন্ধুর জীবিত দুই কন্যার মধ্যে  জৈষ্ঠকন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারংবার ব্যার্থ্য হত্যা প্রচেষ্টা  গ্রহন করা হয়েছে।
          ২০০১ সালে সাংবিধানিকভাবে তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আধাঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী দেশব্যাপি আওয়ামী নেতাকর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিশ্চয়ই জনগন ভূলে যায়নি। তত্ববধায়ক সরকারের এহেন আচরন পরিদৃষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সরাসরি পৃষ্টপোষকতায় জামায়াত, শিবির, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল সন্ত্রাসীরা একযোগে দেশব্যাপি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং ধর্মীয় সংখ্যালুঘু গোষ্টি সমূহের উপর কি বিভিষিকাময় অত্যাচার নিয্যাতনের মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়েছিল, নিশ্চয়ই  আমাদের সকলের এবং কি জনগনেরও মনে আছে।
         আওয়ামী লীগ এইবার সহ তিনবারই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। একবারও কি  স্বাধীনতা বিরুধী জামায়াত, শিবির, অত্যাচারি ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীদের উপর হামলে পড়েছে? না পড়েনি, কেন পড়েনি? কারন আওয়ামীলীগ জনগনের মধ্য থেকে সৃষ্টদল, আইনের শাষনে বিশ্বাসী দল, গনতন্ত্রে বিশ্বাসী দল, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল। আওয়ামী লীগের উদর থেকেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জম্ম হয়েছে। আওয়ামী লীগের অবি-সংবধিত নেতাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবই বাংলাদেশে বসবাসরত: সর্বশ্রেনীর বাঙ্গালীর "জাতির জনক।"বাঙ্গালী আপামর জনগনের মধ্য থেকে বেড়ে উঠা দল জনগনের আঁতের খবর ঠিকই জানে।
      আওয়ামী বিরুধী অত্যাচারি স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তিকে নিচ্ছিহ্ন করা যত সহজ হবে-- অত্যাচার, নিয্যাতন, হত্যার মাধ্যমে তত সহজে নিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবেনা।যেমনি বিগত ৪০ বছর একতরফা আওয়ামী নিধন অভিযান পরিচালনা করেও তাঁরা আওয়ামী লীগকে নিস্তেজ করতে পারেনি বরঞ্চ যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়কাল আওয়ামীলীগ সর্বদিক থেকে স্বর্ণযুগই পার করছে।
    বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির আঁতের খবর জানতেন বিধায় যুগোপযোগী কর্মসূচি প্রনয়নের মাধ্যমে পূর্ববাংলার জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। বাঙ্গালী জাতির বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন, ইহা অত্যান্ত কঠিন বাস্তবতা। বঙ্গবন্ধুর তৎসময়ের অগ্নীদিনে সামান্য ভূলের কারনে অথবা কর্মসূচির সামান্য হেরফের অথবা সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য  আগে-পরে হলেও বাঙ্গালীজাতী এই ধরাধাম থেকে নিচ্ছিহ্ন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়ার মত পরিস্থীতি তখন বিদ্যমান ছিলনা।
     তাঁর জৈষ্ঠকন্যা তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে   উন্নয়ন, অগ্রগতি,  নিশ্চিত করার আপ্রান চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি উন্নত,  আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায় নিমঘ্ন রয়েছেন। তাঁর পরিকল্পিত ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে "স্বাধীনতা বিরুধী চক্র, তাঁদের প্রেতাত্বা,দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা"বাংলাদেশ নামক ভূখন্ড থেকে সমূলে উচ্ছেদ হবে ইনশাল্লা।
       

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg