জিয়া পরিবার ধ্বংসে এগার আলৌকিকতা'র প্রভাব৷৷


  জিয়া পরিবার ধ্বংসে খোলা চোখে হাজারো কারন উল্লেখ করা সম্ভব৷  প্রনিদানযোগ্য এগারটি কারনে বৈষয়িক কোন ব্যাক্তি, সংস্থা, দল, শক্তি জড়িত আছে বলে আমি মনে করিনা৷ আলৌকিক প্রভাব ব্যাতিত উক্ত নিশ্চিত ঘটনাগুলী ঘটার অন্যকোন কারন থাকতে পারে আমি বিশ্বাসও করিনা৷ এগার আলৌকিক প্রভাব আলোচনা করার পুর্বে বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত বিষয় অতিসংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করি৷
    বৃটিশ বেনিয়া মূখপাত্র লর্ড ক্লাইভের "নীলকুঠি ষড়যন্ত্রে" বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজদৌল্লার পতনের মাধ্যমে২০০বছর বাঙ্গালী জাতী ইংরেজদের গোলামী করতে বাধ্য হয়৷ ৭৫ এ আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হ্যানরি কিসিঞ্জারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় খোন্দকার মোস্তাক আহম্মদের বাসভবনে নতুনকরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে পদানত করার চক্রান্তে আর এক 'নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র' নাটক অনুষ্ঠিত হয়৷ উক্ত ষড়যন্ত্রে  ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইং সালে শতাব্দির মহানায়ক, বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হন এবং আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটে৷ ক্ষমতার উত্থানপতনে নীলকূঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটকের মূল নেপৈথ্য নায়ক,ঠান্ডা মাথার খুনী মেজর জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবন্দুতে উত্থান ঘটে৷
    ক্ষমতার রদবদলে দীর্ঘ ২১বছর পরাজিত শক্তির প্রেতাত্বাগন বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতীকে শোষন শাসন অব্যাহত রাখে৷ অবশেষে জাতীর জনকের জৈষ্ঠকন্যা 'শেখ হাসিনার' নিয়ন্তর আন্দোলন সংগ্রামে ১৯৯০ ইং সালে জনগন এক সফল গনভ্যুত্থান ঘটিয়ে গনতন্ত্র পূণোদ্ধার করে৷ গনভ্যুত্থানের পথ ধরে গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় 'নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র'ভুক্ত প্রেতাত্বা শাসক, ঘাতকচক্র এবং সুবিধাভোগীদের পতন কায্যক্রম শুরু হয়৷মাঝে মাঝে সাময়িক বিগ্নতা সৃষ্টি হলেও অদ্যাবদি পতনের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রয়েছে৷
  আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হ্যানরি কিসিঞ্জারের পরিচালনায় 'নীলকূঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটকের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের উত্থান পর্ব দিয়ে প্রেতাত্বার শাসনপর্ব শুরু করেছিল৷ একই রাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বার্ণিয়াকটের পরিচালনায় ড. কামাল হোসেনের উত্থানের মাধ্যমে প্রেতাত্বার প্রধান জিয়া পরিবারের পতন ও নিচ্ছিহ্ন হওয়ার কায্যক্রম সমাপ্তি ঘটবে মাত্র--কিন্তু প্রেতাত্বার ছায়া ড. কামাও হয়ে বাংলাদেশের সমাজে বিচরণ করবে৷
 '৯০এর গনভ্যুত্থানে প্রেতাত্বা শাসন শোষনের পতন শুরু হলেও দৃশ্যমান ছিলনা৷ ২০০১ ইং সালে মরণ কামড় বসিয়ে তাঁরা আবারও জনগনের বিজয় সাময়িক সময়ের জন্যে চিনিয়ে নিয়েছিল৷২০০৬সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্তে আবারও নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে বাংলাদেশ৷ এবার প্রেতাত্বার ক্ষমতার হাতবদল হয়েছিল বটে শাসন শোষন মুক্ত হয়নি বাংলাদেশের জনগন৷২০০৮ইং সালের সাধারন নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগন তাঁদের ক্ষমতা নিজ হাতে নিয়ে আসে--শুরু হয় গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় প্রতাত্বাদের পতন কায্যক্রম৷
   সর্বশেষ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতি লক্ষ করলে উল্লেখিত সংক্ষিপ্ত আলোচনার সারবর্তা উপলব্দি সম্ভব হবে৷ ইহা একান্তই সত্য যে বিএনপি এবং তাঁর জোটের জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি সামান্যতম হেরফের হয়নি৷অস্বিকার করার উপায় নেই--বিদ্যমান জনসমর্থনও সাংগঠনিক শক্তিতে দোর্দন্ডপ্রতাপে বিএনপি বাংলাদেশ শাসন করেছে৷ অথছ শক্তি সামর্থ অটুট থাকা সত্বেও গনতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতায় আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শক্তিহীন৷ বলা যায়--সার্বিক শক্তি সামর্থ অটুট থাকাবস্থায় আলৌকিক ভাবে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের  পতন এবং শেষাবদি নিচ্ছিন্ন হওয়া অনিবায্য হয়ে উঠেছে৷ নিম্নের ধারাবাহিক দুটি নির্বাচন এবং আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরে আমার বক্তব্যের সত্যতা প্রমানে সচেষ্ট হব

    নবম সংসদ নির্বাচনঃ--২০০৬ইং সালের বিএনপি জোট ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নাটক "নীলকূঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র" ব্যার্থতায় অসংখ্য মামলাসহ খালেদার দুই পুত্র দেশত্যাগে বাধ্য হয়৷  ফলাফল ২০০৮ইং সালের ঘোষিত সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে৷ অপরপক্ষে খালেদার নেতৃত্বে বিএনপি জোট নামমাত্র(৩৮ আসন) বিরোধী  দলের আসন গ্রহন করে৷
  দশম সংসদ নির্বাচনঃ--বিএনপি জোটের একান্ত শুভাকাংক্ষি বার্ণিয়াকট পরিচালিত ২০১৩ সালের 'উত্তরা নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটকের ব্যার্থতা এবং রৌশন এরশাদের দৃডতায় প্রেতাত্বার জোটকে নির্বাচন বর্জন এবং আগুন সন্ত্রাসে মানুষ হত্যায় বাধ্য করে৷  ফলাফল--মহাজোট' প্রতিযোগীশুন্য মাঠে একক নির্বাচন এবং দ্বিতীয়বার মহাধুমধামে সরকার গঠন করে৷ অপরপক্ষে বিএনপি দল ও জোট প্রকাশ্য দিনের বেলায় রাজপথে চলার সাহষ হারিয়ে রাতের বেলায় অন্ধগলিতে হাঁটতে হাঁটতে নেতৃত্ব শুন্য হয়ে পড়ে৷
   একাদশ সংসদ নির্বাচনঃ--বার্ণিয়াকট পরিচালিত নীলকূঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটক নতুন মঞ্চ সিঙ্গাপুর মঞ্চায়নের নতুন নায়ক এরশাদের অভিনয় কৌশলে আপাততঃ সফলতায় উৎফুল্ল প্রেতাত্বা জোট কোটা আন্দোলন ও শিশু কিশোর আন্দোলনে কাঁধে চড়ে ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ে৷ আন্দোলনের হাঁকডাকের গ্যাড়াকলে আটকে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে ঘুম ভেঙ্গে হাতিয়ে দেখে নাটকের নায়ক জেঃ এরশাদ মঞ্চে নেই৷
    নাটকের পরিচালক বার্ণিয়াকটের বিদায় বেলায় তড়িগড়ি সকল কুশিলব'কে ঢাকায় ডেকে এনে মোহাম্মদপুর সুজন সম্পাদক বদিউজ্জমান সাহেবের বাসভবনে 'নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটক মঞ্চায়ন করে৷   পরিচালকের পছন্দে ড. কামাল হোসেন নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ে পরিচালক কতৃক নির্ধারীত হন৷ এক্ষেত্রে মোড়ল দেশের পরিচালক-বিএনপি, জোট, সুশীল সমাজ, জনগনের মতামত নেয়ার প্রয়োজনবোধও করেননি৷ এমনিতেই বাংলাদেশের জনগন সুশীল সমাজকে পছন্দ করেনা, ড. কামালদের তো নয়ই৷ বারবার একই বিষয়বস্তুর ব্যর্থ নাটক মঞ্চায়নে জনগন যারপরনাই ত্যাক্ত, বিরক্ত৷ পরিচালক বার্ণিয়াকট নাটক মঞ্চায়নস্থল মোহাম্মদ পুর সুজনের বাসভবন ত্যাগ করে আসার প্রাক্কালে জনতার রোষানলে পড়েন৷ আমি মনে করি এতে মোড়ল রাষ্ট্র আমেরিকার ভাবমূর্তিই ক্ষুন্ন করেছেন রাষ্ট্রদূত ম্যাডাম বার্ণিয়াকট৷   
  বিএনপি এবং প্রেতাত্বা জোটের বিলুপ্তির ৩টি  উপসর্গ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে (১)ভরের আন্দোলন,(২) ভোটহীন ড. কামালের সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্ব গ্রহনের আলোচনা,(৩) 'নীলকুঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র' নাটকের পর্দা উম্মোচন৷  দৃশ্যমান তিন ঘৃনিত উপসর্গ আওয়ামী জোটের জয় প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে৷
   খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া, বিএনপি এবং প্রেতাত্বা জোটের জয়ের প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তির ধারাবাহিক পরাজয়ের ব্যার্থতায়--"শেখহাসিনা, আওয়ামীলীগ, ১৪দলের ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্বের কোনপ্রকার সম্পৃত্ততা আছে বলে আমি মনে করিনা৷ বরঞ্চ তাঁদের সামর্থের ইতিবাচক কর্মকান্ডকে ধারাবাহিক নেতিবাচক কর্মকান্ডে রুপান্তরের বিরুদ্ধে নিয়ন্তর আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে নিস্তেজ, নিবৃত্ত, প্রতিহত, প্রতিরোধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন৷  শেখহাসিনার নেতৃত্বে নিয়ন্তর আন্দোলন সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগন এবং আওয়ামীলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন, সম্পদ, সময় হারিয়েছে৷ কিন্তু অদৃশ্য শক্তির আলৌলিক প্রভাব অধিক কায্যকর থাকায় তাঁদের মনে কোন সময়েই শুভ বুদ্ধির উদয় হয়নি৷
  আলৌকিক প্রভাব বলছি এই কারনে--রাজনৈতিকভাবে এবং সাধারনে জিয়া পরিবার, বিএনপি ও জোটের রাজনীতি ক্ষেত্রে কিছু নেতিবাচক বিষয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে চলেছে৷ বিষয়গুলী--জিয়া পরিবার, বিএনপি এবং  জোট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেও সম্ভব করে তুলতে পারছেনা৷ জয়ের আশায় সচেতনভাবে, সজ্ঞানে, স্বইচ্ছায়--জিয়া পরিবার, বিএনপি এবং জোট কতৃক সংঘটিত হয়ে চলেছে৷  সংঘটিত কর্মকান্ড আলৌকিক ভাবে জিয়া পরিবার, বিএনপি এবং  জোটের পরাজয় এবং নিচ্ছিহ্নের পথ সর্বদাই প্রশস্ত করে চলেছে৷  তথাপি উক্ত কর্মসম্পাদন বন্ধ করেনি বা বন্ধ করার চেষ্টাও করেনি৷
    সংগঠিত ঘটনায় বাংলাদেশের জনগন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ বা সরকারের কোন প্রকার চেষ্টা, তদ্ভির, উৎসাহ, দমনপীড়ন, হামলা মামলা, বাধাবিঘ্ন সর্বশেষ রাজনীতি বা ক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি৷
যেমন--
প্রথমতঃ--২০০৬ সালে সাংবিধানীক রীতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও তত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া থেকে বিএনপি জোট সরকার সরে এসে একক সিদ্ধান্তে গঠন করে৷ বিরুধী দল আওয়ামীলীগ সরকারের উক্তরুপ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নিমিত্তে রাজপথে জোর আন্দোলন গড়ে তোলে৷ সরকার বিরুধী দলের আন্দোলন সংগ্রাম পাত্তা না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে৷ ফলাফল--আইনশৃংখলা সহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থীতি অবনতি ঘটে৷  সেনাবাহিনী জোরপুর্বক খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করে এবং তাঁর নির্বাচিত তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিনকে তত্বাবধায়কের পদ ছাড়তে বাধ্য করে৷ সেনা বাহিনী সমর্থিত তত্বাবধায়ক গঠিত হলে তারা তিন মাসের সময়সীমার সরকারকে দুই বছর পয্যন্ত বাড়িয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে৷ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করে তাঁদেরকে জেল খানায় রাখে৷ আওয়ামীলীগ সেনাবাহিনীর নিয্যাতনের ধকল কাটিয়ে উঠে নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করে৷ বিএনপি আলৌকিক কারনে সেনাবাহিনীর নিয্যাতনের ধকল কাটাতে পারেনি৷ ফলাফল--ধ্বংসের শেষপ্রান্তে অবস্থান নিয়েছে৷
   দ্বিতীয়তঃ--খালেদা জিয়ার পরিবারের মামলা সমূহ দীর্ঘসুত্রিতার পেছনে সরকারের কোন হাত ছিলনা৷ বরঞ্চ সরকার তড়িগড়ি মামলাগুলী মিমাংসা করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় ব্রতি ছিল৷ খালেদা নিজেই সময়ক্ষেপন করে এবং তারেক জিয়া পলাতক থেকে সহসা ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর রয়েছে৷ ফলাফল--শেষ সময়ে দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে উভয় নির্বাচন অযোগ্য হয়ে পড়েছেন৷
তৃতীয়তঃ--ভবিষ্যত দেশনেতা তারেক জিয়া চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে লন্ডন গমন করেন৷ এগার বছর চিকিৎসা নেয়ার পরও তিনি সুস্থ্য হননি৷  দেশনেতার বিরুদ্ধে আনীত তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলের মামলা স্বশরীরে মোকাবেলা করার প্রয়োজনবোধ করেননি৷   এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই সরকার বা মহাজোটের কোনপ্রকার চেষ্টা, তদ্ভির বা রাজনীতি ছিল না৷ বরঞ্চ সরকার তাঁর উপস্থিতিতে মামলা মিমাংসা করার ইচ্ছায় একাধিকবার তাঁকে দেশে আনার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে৷
  আমি মনে করি আলৌকিক কারনেই তিনি সুস্থ্য হননি৷ সুস্থ্য হলে নিশ্চয়ই তিনি দেশে ফিরে আসতেন এবং মামলা মোকাবেলা করে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতেন৷  সুস্থ্য না হওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারের উদ্যোগ বার বার ব্যার্থতায় নিশ্চিত আলৌকিক বিষয় জড়িত আছে৷
   চতুর্থতঃ--দশম সংসদ নির্বাচনকালীন সময় নির্বাচনী সরকারে অংশ নিতে দাবী না থাকা সত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বইচ্ছায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং নির্বাচন বর্জন করেন৷ শুধু বর্জনে সীমাবদ্ধ থাকলে মনে হয় বিধাতা অসন্তুষ্টই হতেন--নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে অহিংস রাজনৈতিক কর্মসুচি কে অবরোধের নামে আগুন সন্ত্রাসে জ্যান্তমানুষ হত্যা, সম্পদ বিনষ্ট, সন্ত্রাস সৃষ্টির ন্যায় সহিংস আন্দোলনে রুপান্তর ঘটায়৷  জনসম্পৃত্ত আন্দোলন স্বইচ্ছায় জনভীতিতে পরিণত করার পেছনে--জনগন, 'সরকার বা মহাজোটের কোন প্রকার ইন্ধন বা রাজনীতি ছিল না৷ এখানেও আলৌকিকতার ছায়া সুস্পষ্ট৷
 পঞ্চমতঃ--জিয়া পরিবার সচেতনভাবে যুদ্ধ অপরাধী বিচারের বিরোধীতা এবং মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু'কে নিয়ে লাগাতার বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করে৷ তাঁদের মুখে বিতর্কিত বক্তব্য জনগন, সরকার বা মহাজোট তুলে দেয়নি বা বক্তব্য, বিবৃতি প্রদানে উৎসাহীত করেনি৷ বিএনপি দলের দলীয় আদর্শ এবং প্রাথমিক উত্থান প্রক্রিয়ার সুত্রধরে উভয়ক্ষেত্রে বিরুধীতায়--দেশে-বিদেশে জোরালো ভুমিকা রেখে পরাজিত হয়৷ স্বাধীন দেশের আবাহাওয়ায় বসবাস করে, স্বাধীন দেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখা বিধাতা মেনে নিতে পারেননি৷
 ষষ্ঠতঃ--দশম সংসদ নির্বাচনে জেঃ এরশাদের জাতীয় পার্টি মহাজোট ত্যাগ ব্যাতিত চারদলীয় জোটে অংশগ্রহন করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নপূরণের নীলকুঠি'র প্রাসাদ ষড়যন্ত্র--জনগন, সরকার, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ বা মহাজোট করেনি বা বাঁধার সৃষ্টিও করেনি৷ বাঁধার সৃষ্টি করেছিল--এরশাদ পত্নি রৌশন এরশাদ নিজে৷ স্বামীর অসুস্থ্যতা বিষয়ে স্ত্রী রৌশন এরশাদের লিখিত দরখাস্ত সরকার যথারীতি কায্যকর করে সাংসদের আবশ্যিক প্রাপ্য সুযোগ--হাসপাতালে ভর্তির ব্যাবস্থা করেছে মাত্র৷ বাঙ্গালী স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হওয়া নিশ্চয়ই আলৌকিক প্রভাব ব্যতিত সম্ভব হওয়ার কথা নয়৷
 সপ্তমতঃ---তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা এবং শাস্তি জনগন, সরকার, মহাজোট প্রদান করেনি৷ উভয়ের মামলা পরিচালনায় শতাধিক ব্যারিষ্টার, উকিল প্রতিদ্বন্ধিতা করে আদালতে নির্দোষ প্রমানে ব্যর্থ হয়েছে৷ সঙ্গতভাবে মা খালেদা আদালতের দন্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে জেলখানায় এবং ছেলে তারেক আদালতের দেয়া দন্ডাদেশ অবজ্ঞা করে পলাতক রয়েছেন৷ এমতঃ অবস্থায় আইনগত ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বৈধতা হারিয়েছেন৷  এক্ষেত্রেও সরকার কোনপ্রকার প্রজ্ঞাপন জারী বা মহাজোটের আন্দোলন সংগ্রামে আদালত দন্ড প্রদানে এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষনায় বাধ্য করেনি৷ আলৌকিকতার প্রভাবে দুই বছরে বিচারকায্য সম্ভব মামলা ৯বছর সময়ক্ষেপনের ফলে সময় স্বল্পতাহেতু নির্বাচনকালীন সময় উচ্চাদালতের জামিন কায্যকর করাও সম্ভব হয়ে উঠবে না৷ সুতারাং বুঝাই যায়--আলৌকিক প্রভাবে মামলার সময়ক্ষেপনে উৎসাহীত ছিলেন৷ ফলাফল নেতৃত্ব শুন্য দল, জোট৷
অষ্টমতঃ---কোটা আন্দোলনের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা অনেকাংশে সফল৷ আন্দোলনকারীদের দাবী সরকার আইনী জটিলতা পরিহার করে মেনে নেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে৷ আন্দোলনকারীদের বিএনপি/ জামায়াতের সম্পৃত্ততা ত্যাগে বাধ্য করেনি বা আন্দোলন নিস্তেজ করার লক্ষে মহাজোট কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মসুচি দেয়নি৷ আলৌকিক প্রভাবে আন্দোলন নিস্তেজ হওয়ায় বিএনপি জামাতের স্বপ্ন ভঙ্গ ঘটেছে৷
  নবমতঃ--শিশু কিশোরদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের যৌক্তিকতা সরকার মেনে নিয়ে তাঁদের  দাবী যথাযথ ভাবে পূরণ করার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে৷ বিএনপি/জামায়াতের সম্পৃত্ততা ত্যাগে আন্দোলনকারী শিশু-কিশোরদের বাধ্য করেনি৷ এবং কি বিএনপি/জামায়াতকে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ এবং অরাজকতা সৃষ্টিতে সরকার বাধ্য করেনি বা  উৎসাহীত করেনি৷   সরকার তাঁদের সম্পৃত্ততার কারনে দাবী পূরণে কোনপ্রকার গড়িমসির চেষ্টাও করেনি৷ আন্দোলনে সহিংসতার কারনে ছাত্ররা নিজেরা আন্দোলন ত্যাগ করে বাসায় ফেরৎ গেছে৷ শেখ হাসিনাকে দাবী মানায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে আনন্দ মিছিলে অংশ নিচ্ছে৷ নিশ্চয়ই এখানেও আলৌকিকতার প্রভাবে আন্দোলন স্থায়ী হয়নি৷
  দশমতঃ---বার্ণিয়াকট পরিচালিত তৃতীয় বার "নীলকুঠি'র প্রাসাদ ষড়যন্ত্র" নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে পশ্চাদপসারনে জেঃ এরশাদকে সরকার বা মহাজোট বাধ্য করেনি৷ এরশাদ নিজ থেকে ভারত সফরে গেছেন এবং ভারত সফর শেষে দেশে এসে চুপসে গেছেন৷
  জনগন, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, সরকার, মহাজোট-"বার্ণিয়াকট পরিচালিত তৃতীয়বার "নীলকুঠি প্রসাদ ষড়যন্ত্র" নাটক মঞ্চায়ন এবং এরশাদের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে প্রায় অন্ধকারেই ছিল৷ নাটক সর্বাত্বক ফ্লপ হওয়ার পর সকল মহলের উপলব্দিতে এসেছে৷ আলৌকিক প্রভাব ব্যাতিত এরশাদ নিজ থেকে সরে আসতে পারেন না৷
এগারতমঃ---বার্ণিয়াকট পরিচালিত চতুর্থবার নীলকূঠি প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নাটকের মঞ্চায়ন, প্রধান চরিত্রে  ড. কামাল হোসেনের চুক্তি সম্পাদন, প্রেক্ষাগৃহ সুজন সম্পাদক বদিউজ্জমান সাহেবের বাসভবন--কোনটাতেই জনগন, সরকার, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সংশ্লিষ্যততা নেই৷-সম্পূর্ণই পরিচালক মহোদয়ের এক্তিয়ারে বিএনপি দলের ইচ্ছায় সম্পাদিত হয়েছে৷
   সর্বশেষ নাটকের বিষয়বস্তু বিশ্লেষনে দেখা যায়--মা খালেদা আমৃত্যু জেলখানায় এবং ছেলে দেশনেতা তারেক পলাতক থাকতে বাধ্য হবে৷ এক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন রাজনীতিতে বা সরকারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করার স্বার্থেই জিয়া পরিবারকে নিচ্ছিন্ন করবে৷
   কোনবস্থায় বাংলাদেশের জনগন, সরকার বা রাষ্ট্র কতৃক উৎখাত বা নিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলা যাবেনা৷যেহেতু জিয়া পরিবার স্বইচ্ছায় জোটের নেতৃত্ব কামাল হোসেনকে দিছেন৷ এক্ষেত্রে নিশ্চিত করে বলা যায়-অদৃশ্য শক্তির আলৌকিক প্রভাবে তাঁদের বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা, স্মরণ শক্তি, কৌশল, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত শক্ত আবরণে ঢাকা পড়েছে৷ মা-ছেলে হিতাহীত জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছেন৷

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg