নিয়ন্তর গনতন্ত্রের চর্চা'ই দেশবিরোধী অশুভশক্তির পতন নিশ্চিত করবে৷৷



   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বার্ণিয়াকটের আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ শাসন অবসান এবং বৃহত্তর ঐক্যজোট যুক্তফ্রন্ট গঠন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও দায়িত্বশীল সরকার গঠনের দায় রয়েছে৷তাই বোধহয়--তাঁদের দীর্ঘযুগের একান্ত মিত্রদল বিএনপি'কে জোটগত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার সুযোগ নিতে ৫ পুর্বশর্ত দিয়েছেন৷ দৃশ্যতঃ মনে হচ্ছে--জেঃ এরশাদের ভারত সফর এবং সফর শেষে বৃহত্তর জোটের নেতৃত্ব গ্রহন প্রশ্নে নিঃস্পৃহতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি দলকে মার্কিন সরকারের নিকট অ-প্রয়োজনীয়, মুল্যহীন, অকায্যকর করে তুলেছে'? বিশেষ করে দীর্ঘযুগের সম্পদ জিয়া পরিবার এই মূহুর্তে বিএনপির জন্য বোঝা হিসেবেই দেখছে তাঁরা? ইতিপুর্বে আন্তজাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার ভু-রাজনীতিতে পাকিস্তানকে পরিত্যাগ করে ভারতকে বন্ধু করে নিয়েছে৷ আবার ভারতের স্থীতিশীল রাজনীতি বিশেষ করে সেভেন সিষ্টার খ্যাত সাত রাজ্যের অখন্ডতা অনেকাংশেই বাংলাদেশের মর্জির উপর নির্ভরশীল৷ এই সমস্ত বিবিধ সমীকরণে ইচ্ছা করলেই ভারত যেমন বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা গ্রহন করতে পারেনা, বাংলাদেশেরও সর্বক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠেনা৷
   ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বাংলাদেশের বিএনপি আদর্শিক ক্ষেত্রে একই সুতায় গাঁথা হলেও বিএনপিকে এই মহুর্তে কেন টেনে তোলার ঝুঁকি গ্রহন করছেনা--সেই ইতিহাস অনেক বড়৷ সেদিকে আমি যেতে চাইনা৷    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিক্ষিত প্রতিবেশী মিত্র দেশ ভারতের মনোভাব লক্ষ করে বিএনপি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এক্ষনে দ্রুতই পরিবর্তন এসেছে বলা চলে৷নিম্নে বাংলাদেশস্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বার্ণিয়াকটের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেয়া ৫ জোটগত নির্বাচনী শর্ত প্রদান--তাই প্রমান করে৷
শর্তগুলী হচ্ছে--
 প্রথমতঃ ড. কামাল হোসেন সাহেবকে জোটনেতা এবং প্রধানমন্ত্রী মেনে বৃহত্তর জোট গঠন করতে হবে৷
 দ্বিতীয়তঃ--বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংগ ত্যাগ করতে হবে৷
তৃতীতঃ-খালেদা জিয়ার মুক্তি'র বিষয়টি আদালতের উপর ছেড়ে দিতে হবে৷  চতুর্থতঃ-জোট শরিক দল সমূহকে ১৫০ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে হবে৷
  পঞ্চমতঃ--তারেক জিয়াকে বিএনপি দলে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে পূর্ণবাসনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে৷
    উল্লেখিত ৫ শর্তে  বিএনপি'র প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ তাঁর মিত্র দেশ সমূহ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অবস্থান নিবেন৷ বার্ণিয়াকটের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাফ সাফ বিএনপিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷
  এই প্রসঙ্গে বার্ণিয়াকট আরও বলেন--যুক্তরাষ্ট্র  বিশ্বাস করে 'বৃহত্তর জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিলে শক্তির ভারসাম্য ফিরে আসবে৷ ফলে একতরফা নির্বাচন বা নির্বাচনে কারচুপির সম্ভাবনা কমে আসবে৷ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনও শক্তির ভারসাম্যের আভাস পেলে তাঁদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারবে৷
  বার্ণিয়াকট কতৃক বিএনপিকে প্রদত্ত উল্লেখিত ৫ শর্তের প্রতি নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়--বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের জন্যে প্রতিটি শর্তই অত্যান্ত অপমানজনক, দুঃখ্যজনক৷ দীর্ঘযুগের বন্ধুর বিপদে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সাহায্য না করে আরো ডুবিয়ে দেয়ার চেষ্টাই হচ্ছে ৫শর্ত৷ শুধুমাত্র জনসমর্থন পুষ্ট,সাংগঠনিক শক্তি সম্পন্ন বিএনপি দলই নয়--জনসমর্থনহীন, সাংগঠনিক শক্তিহীন বিবেকবান, স্বাধীনতাপ্রিয় যে কোন রাজনৈতিক দলই উক্তরুপ ৫ শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে৷
  অবশ্য বিএনপির ক্ষেত্রে খুব বেশী ব্যাতিক্রম হয়নি--সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও পরিত্যাগ করছেন৷ ইতিমধ্যেই তার আভাস স্পষ্ট' হতে শুরু করেছে৷ বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক জিয়া সরাসরি বার্ণিয়াকটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করে--"পরিবারের দুই বউ আগামী নির্বাচনে ২০দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিবেন দৃড়তার সঙ্গেই ঘোষনা দিয়েছেন"৷
   আপাতঃদৃষ্টে মনে হচ্ছে--বাঙ্গালী জাতীর চিরায়ত আবেগ কাজে লাগিয়ে জিয়া পরিবার রক্ষা করাকেই প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী কৌশল প্রনয়ন করবে বিএনপি৷ এক্ষেত্রে--আপনার একটি ভোট 'খালেদা জিয়ার জেলমুক্তি' ঘটাতে পারে৷এমনতর আরো কতিপয় আবেগঘন নির্বাচনী শ্লোগান সামনে রেখে প্রয়াত মেজর জিয়ার দুই পুত্রবধু বাংলাদেশ চষে বেড়াবেন ধারনা করা যায়৷ অবশ্য দলটি ধ্বংসের অনেক কারনের মধ্যে অন্যতম একটি কারন--জনস্বার্থ প্রাধান্য না দিয়ে পারিবারীক স্বার্থ প্রাধান্য দিতে গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অনেকগুলী ক্ষতের সৃষ্টি করেছে৷ ফলে ১০বছর সময় পার করেও রাজনৈতিক নাজুক অবস্থা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি৷ 
  বিএনপি দলটি মেজর জিয়ার মৃত্যুর পর, তাঁর পত্নি বেগম খালেদা জিয়াকে নেতা নির্বাচনের পর থেকে তিনি পারিবারিক সম্পদ মনে করে দলটি পরিচালনা করে আসছেন৷  যখন যেখানে যেভাবে প্রয়োজন, সেখানে সেইভাবে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করতে দ্বিধা করছেননা৷ একই ধারাবাহিকতা উত্তরসুরি তারেক জিয়া লন্ডন পলাতক থাকাবস্থায়ও কঠোরভাবে রক্ষা করে চলেছেন৷ সুতারাং পারিবারিক দলের নির্বাচনী প্রচারণায় পরিবারের সদস্যরা আন্তরিকভাবে অংশ গ্রহন করবে এবং বিজয় অর্জনের প্রচেষ্টা চালাবে--ইহাই সঙ্গত এবং স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
  তবে কথা থেকে যায়--আগামী নির্বাচনে পরিকল্পিত আবেগ কাজে লাগিয়ে কাংক্ষিত ফল অর্জনে দল ব্যর্থ হলে? রাজনীতির ভাষায় ধরে নেয়া যৌক্তিকতা পাবে জিয়া পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের জনগনের মনে কোন আবেগ, অনুভূতি কাজ করেনা৷  বাংলাদেশের জনগন জিয়া পরিবারকে অপরাধি পরিবার মনে করে এবং সেই মতে বিশ্বাসও করে৷ জনগনের প্রত্যাখ্যানের সম্মান দিতে গিয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরবর্তি সময় যদি আরো বড় বিপয্যয় নেমে আসে দোষ দিবেন কাকে? যেমনঃ- বাড়ীরক্ষার আন্দোলন, পারিবারীক লুটপাটের মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার প্রচেষ্টায় সংঘঠিত একাধিকবারের আন্দোলনে বিপয্যয় ইত্যাদি উদাহরণ তো হাতের কাছেই আছে৷
   বার্ণিয়াকটের দেয়া ৫শর্তই প্রমান করে তাঁরাও দলকে পারিবারিক স্বার্থরক্ষা ও সম্পত্তি পরিগনিত করার বিষয়টি ভালভাবে মেনে নিতে পারেনি৷ফলতঃ সরকারের কর্মকান্ডে চাপ দেয়ার একাধিক সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সত্বেও গত দশবছর বিএনপি থেকে তাঁর মিত্র দেশ সমূহ নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলেছে৷
   এক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে জিতবে কি জিতবেনা, বিএনপি বা দেশের জনগনের লাভ ক্ষতি কি হবে না হবে বিবেচনা করার দরকার হয়না৷ বার্ণিয়াকটের ৫ শর্ত বিএনপি সহ অপরাপর দলের জন্যে বড় রকমের শিক্ষা ধরে নেয়া অন্যায় হবেনা৷ ৫শর্ত সর্বক্ষেত্রে বিএনপি সহ অন্যান্ন অনেক দলকে বিদেশ নির্ভরতা ও ভরের রাজনীতি মুক্ত হয়ে, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে৷
   বাংলাদেশ সহ বিশ্ববাসী'র জন্যে আরো একটি জ্বলন্ত উদাহরণ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকার স্বার্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষিন হয়ে আসলে, তাঁরা যে কোন দেশ, দল, সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে কখনই সময়ক্ষেপন করেনা৷ সেই দৃষ্টান্তই বার্ণিয়াকট বাংলাদেশে'র রাজনীতিতে বিএনপি'র ক্ষেত্রে স্থাপন করেছে৷ তাঁদের কায়েমী স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে একাধিক নতুন শক্তি সৃষ্টি করে নেয়াও যে চিরায়ত রীতি, নীতি, অভ্যেস, এরশাদের পর ড. কামালের নাম প্রস্তাব,তাও প্রমানের জন্যে যথেষ্ট৷
 দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার  দেশ পাকিস্তান, পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফের সরকার এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি তাঁদের অতি সাম্প্রতিক বড় তিনটি  প্রমান দক্ষিন এশিয়ার প্রায় তিনশতকোটি মানুষের মনে জ্বল জ্বল করে জ্বলবে অনন্তকাল৷

   এদিকে ড. কামাল হোসেন সাহেব বার্ণিয়াকটের প্রত্যক্ষ সমর্থন পেয়ে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত্ বৃহত্তর জোটে বিএনপি'কে আসতে চাইলে অনুরুপ ৩ নির্বাচনী পুর্বশর্ত জুড়ে দিয়েছেন৷
 প্রথমশর্তঃ--জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনপ্রকার প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সম্পর্ক থাকতে পারবেনা৷ দ্বিতীয়তঃ-জোটগতভাবে খালেদা'র মুক্তি প্রসঙ্গ বিএনপি আনতে পারবেনা--বিএনপি দলীয়ভাবে খালেদা জিয়ার জেলমুক্তি কর্মসূচি পালন করতে পারবে৷ তৃতীয়তঃ--জোটগতভাবে তারেক জিয়াকে দলে, দেশে, জোটে এবং রাজনীতিতে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করতে পারবেনা৷  শেষ দুই শর্তে জোটনেতা ড. কামাল হোসেন সাহেবকে কোনবস্থায় জড়াতে পারবেনা৷
   বৃহত্তর জোট নির্বাচনে জয়লাভ করার পর সরকার গঠন ও পরিচালনায়  ড. কামাল হোসেন সাহেবের পক্ষে আরো ৭ শর্ত রয়েছে৷  বিএনপিও অবশ্য নির্বাচন এবং সরকার গঠন প্রশ্নে তাঁদের দাবীনামা ড. কামাল হোসেনের হাতে দিয়েছেন বলে জানা যায়৷  বিএনপির শর্তনামা বা দাবী নামায় কি আছে তা অবশ্য সঠিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি৷ তবে উভয় পক্ষের শর্ত সমূহ আলোচনা সাপেক্ষে যোগ বিয়োগের মাধ্যমে একমত হওয়া সম্ভব হবে--এমন আভাস'ই মিলেছে৷
 প্রকাশিত ড. কামাল হোসেনের সরকার গঠন ও পরিচালনা বিষয়ক ৭ শর্ত নিঃসন্দেহে জনকল্যানমূখী এবং গনত্তান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সুদৃড করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে৷ নির্বাচনমূখি রাজনৈতিক দল সমূহ হরহামেশাই জনকল্যানমূখী শর্ত, দফা, কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে থাকে৷
   সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিতে বলিয়ান  ড. কামালের নাম প্রস্তাবনায় আসতে না আসতেই তিনিও হঠাৎ করেই সুপার পাওয়ারের অধিকারী হয়ে গেলেন৷ সভাপতি-মহাসচিব নির্ভর দলের নেতা ড. কামাল সরকার গঠনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছেন৷ তিনি হিতাহীত জ্ঞান হারিয়ে বিপুল জনসমর্থিত দল বিএনপিকে জোট এবং সরকারে আসার পুর্বশর্ত দেয়ার দৃষ্টতা দেখাতে তাঁর বিবেকে সামান্যতম বাঁধেনি৷
 ড. কামাল হোসেন সাহেবের বিএনপিকে শর্ত দেয়ার ধরন দেখে আমার গ্রামের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আস্ফালনের কথাই মনে পড়ে গেল৷ গ্রাম্য ফকিন্নির ছেলের রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের পর গ্রামের প্রতিষ্ঠিত, প্রতিতযষা পরিবারকে শাসানোর চিরায়ত রীতি--জাতীয় রাজনীতিতে কামাল সাহেব দেশের আপামর জনগনকে স্মরণ করিয়ে দিলেন৷
    ড. কামাল হোসেন সাহেবের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে ৭শর্ত নড়চড় হতে পারে, কিন্তু জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে উল্লেখিত ৩ শর্তের ব্যাপারে কোন ছাড় হবেনা৷ উল্লেখিত তথ্যটি গনফোরাম মহাসচিব সুব্রত চৌধুরী সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে৷   বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠন প্রসঙ্গে আরও ৩টি প্রাসঙ্গিক বিষয় পাঠকদের জানা প্রয়োজন মনে করি৷
(১) ড. কামাল হোসেন সাহেবের সাথে দীর্ঘদিন জোটগত নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনারতঃ বিএনপি দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম সাহেবের নেতৃত্বে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করে যাচ্ছিল৷  ২০দলীয় জোটের বাহিরে অন্যান্ন দল ও জোটের সাথে বিএনপি, দেশ ও জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে  বিষয়টি দলীয় ফোরাম ও জোটে অনুমোদিত ছিল অনুমান করা যায়৷ ২০ দলীয় জোট অক্ষুন্ন রেখে অন্যসকল দল ও জোটের সমন্বয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষে লিয়াজোঁ কমিটি  জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি, ড. কামাল হোসেনের নাগরিক ফোরাম এবং বি চৌধুরীর নাগরিক ঐক্য, মান্না সাহেবের সুশীল সমাজের নাগরিক সমাজ এর সাথে যুগোৎপত আলোচনায় চালিয়ে অনেকাংশেই সফলতার মূখ দেখেছিলেন৷
  (২) এরশাদকে জোটের নেতা নির্বাচন করে সকল দল ও জোট একমঞ্চে নির্বাচন ও সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বলতে গেলে প্রায় পাকাপাকি করা ছিল৷ শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা ছিল-- কখন ঘোষনা করার মহেন্দ্রক্ষনটি আসবে৷ নির্বাচন পরবর্তি সরকার গঠন প্রশ্নে এরশাদ সিঙ্গাপুরে তারেক জিয়ার সাথে চুড়ান্ত বৈঠকটি বাকী ছিল৷ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এরশাদের সিঙ্গাপুর সফরের ঘোষনাও ছিল৷ খালেদা জিয়ার আইনজীবি কার্লাইলকে দিল্লি বিমান বন্দরতর থেকে ভারত সরকার ফেরৎ পাঠানোর পর সিঙ্গাপুর সফরের আগে এরশাদ ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তড়িগড়ি ভারত গমন করেন৷ ভারত সফরে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও বিরুধীদলের নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনায় মিলিত হয়েছেন--এমন খবর ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷ দেশে ফিরে অদৃশ্য কারনে তিনি বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠন, নির্বাচনের জোটের নেতৃত্ব প্রদান এবং নির্বাচন পরবর্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন ও সরকার পরিচালনার মোক্ষম সুযোগ পাওয়া সত্বেও চুপসে গেছেন৷ তিনি ভারত থেকে ফিরে এসে আর সাংবাদিক সম্মেলনেও হাজির হননি-তাঁর দলের সফর সঙ্গিরা সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে দেখা গেছে৷
   জেঃ এরশাদের এই চুপসে যাওয়াই মূলতঃ বিএনপি, জোট, নাগরিক ফোরাম, নাগরিক ঐক্য সহ বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত সর্বমহলে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে৷
  (৩) জটিলতা উত্তরণে তড়িগড়ি বার্ণিয়াকটের নেতৃত্বে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ সুজন সম্পাদক বদিউল আলম সাহেবের মোহাম্মদপুর বাসভবনে এক গোপন সভায় মিলিত হন৷ সেই সভায়ই ড. কামাল হোসেন সাহেবকে জোটনেতা নির্বাচিত করে আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন প্রশ্নে বিএনপিকে ৫ শর্ত প্রদান করেন৷ সুযোগ সন্ধানী ড. কামাল হোসেন বিএনপি'র এই দুর্বল মূহুর্তকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনী জোট গঠনে বিএনপিকে ৩ শর্ত ও সরকার গঠনে ৭ শর্তারোপ করে বসেন৷
   এমতঃবস্থায় লন্ডন পলাতক তারেক জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ২০দলীয় জোটের আগামী নির্বাচনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে তাঁর পত্নি ডা. জোবায়েদা ও প্রয়াত কোকো পত্নি শারমীনের নাম ঘোষনা করেন৷ উদ্ভোত পরিস্থীতি আলোচনার জন্যে  দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বেগম জিয়ার সাথে আলোচনার জন্যে কারা কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কারা ফটকে উপস্থিত হলে--ক্ষিপ্ত খালেদা জিয়া ফখরুল সাহেবের সাথে দেখা করেননি৷ এদিকে বি চৌধুরী ড. কামালের নেতৃত্বে জোটগত নির্বাচনে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়৷
   উপসংহারে বলা বলা যায়--বহুল আলোচিত অশুভের বৃহত্তর নির্বাচনী জোট 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন সার্বিক পয্যালোচনায় দেখা যায়--এই মহুর্তে আলোর মূখ দেখার সম্ভাবনা নেই৷ বাংলাদেশের অশুভচক্রের কাংক্ষিত সদ্য অনুষ্ঠিত 'মালয়শিয়া নির্বাচনের ধারনায়' সরকার বিরোধী বৃহত্তর জোট যুক্তফ্রন্টের কল্পিত সাম্ভাব্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও জোটনেতা প্রেতাত্বা জেঃ এরশাদ একাই--বিএনপি সহ সকল অশুভ মহলের আশা, আকাংক্ষা, স্বপ্ন, স্বাদ গলাটিপে হত্যা'র একমাত্র দায়ী৷ নির্বাচন অতি সন্নিকটে-সুতারাং অশুভের দলবদ্ধ হওয়ার আগেই পুর্বাকাশে নতুন সুয্যদ্বয় ঘটবে৷ নতুন সুয্যের আলোকরশ্মিতে প্রেতাত্বাদের গাঁয়ে যে জ্বালাপোঁড়া শুরু হবে--সেই ব্যাথা সহ্য করার শক্তি, ধৈয্য, সাহষ কিছুই নেই তাঁদের৷ নিশ্চিত করেই বলতে পারি-- আগামীর বাংলাদেশ হবে প্রেতাত্বামুক্ত, দেশদ্রোহীমুক্ত বঙ্গবন্ধুর কাংক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের সোনার বাংলাদেশ৷    

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg