জাতীয় দিবস প্রতিপালনে "রাজনৈতিক দলের দেশপ্রেমিক কর্মীবাহিনী'র অগ্রনী ভুমিকা অনস্বিকায্য৷

        স্ব-স্ব ধর্ম, বর্ণ, জাতী, গোষ্টি ভেদে প্রত্যেকের একান্ত নিজস্ব কিছু বিশেষ বিশেষ স্মরণীয় দিবস রয়েছে৷ আমাদের প্রিয় ইসলাম ধর্মের আওতাভুক্ত মুসলিম জাতী যেমন কিছু নির্দিষ্ট দিবসে আনন্দ উল্লাস করি, আবার কিছু দিবস অত্যান্ত বেদনা বিধুরতায় বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে স্মরণ করি৷  তদ্রুপ অন্যান্ন ধর্মালম্বি জাতী, গোষ্টি, সম্প্রদায়ও তদ্রুপ আনন্দ, উল্লাস, বেদনার দিবস সমূহ তাঁদের মত করে পালন করে থাকে৷ উক্ত দিবস সমূহ যথারীতি নিয়ম পালন করে দীর্ঘ যুগ পালনের অভ্যেসগত কারনে একপ্রকার দিবসগুলী ধর্মের অংশে পরিণত হয়েছে৷ উল্লেখিত দিবসগুলী ইসলাম ধর্মালম্বি মুসলমান জাতীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টির  অন্তভুক্ত৷ সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজে কতিপয় ব্যাতিক্রম ব্যাতিত প্রায় সমভাবেই উল্লেখিত দিবসগুলী যথাযথ ধর্মীয় ভাব গাম্ভিয্যে পালিত হয়৷
অন্যদিকে বিভিন্ন ধর্মের অভ্যন্তরে ভাষা, ভুখন্ড, অঞ্চল, জাতী, সম্প্রদায়, গোষ্টি'র আলাদা আলাদা অস্তিত্ব বিদ্যমান রেখে একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটতে পারে৷ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরতঃ জাতী-গোষ্টির উত্থান, পতন, গৌরব, বিপয্যয়, সুখ, দুঃখ্যানুভূতি প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কিছু দিবস রয়েছে৷স্ব-স্ব জাতী, গোষ্টি, সম্প্রদায় উক্ত দিবসগুলী যথারীতি উক্ত দিবসের মর্মানুযায়ী যথাযোগ্য মায্যদা, ভাব গাম্ভিয্য বজায় রেখে পালন করে থাকে৷ উক্ত রীতিটি মানব সভ্যতা বিকাশের সাথে সম্পর্কিত এবং আবহমান কাল হতে বিশ্বের দেশে দেশে, জাতীতে জাতীতে পালিত হয়ে আসছে৷ দিবসগুলী স্ব-স্ব জাতী, গোষ্টি, সম্প্রদায়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টির অংশ হয়ে ঐ জাতী'র পথ প্রদর্শকের ভুমিকা পালন করে৷
 বাঙ্গালী জাতী হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে সমুন্নত রেখে আলাদা রাষ্ট্র "বাংলাদেশ" সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল৷ভিন্ন জাতী গোষ্টির  'শাসন-শোষনের' বিরুদ্ধে বাঙ্গালী জাতী'র সুদীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কতিপয় দিবস জাতীয় জীবনে বিশেষভাবে স্মরণীয়, বরণীয় হয়ে আছে৷ উক্ত দিবসগুলী দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরতঃ জাতী, গোষ্টি, সম্প্রদায়ের সুদীর্ঘকাল লালিত স্ব-স্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলেমিশে প্রত্যেক জাতী, গোষ্টির আনন্দ উল্লাস, বেদনা বিধুরতার অংশে রুপান্তরীত হয়েছে৷ দিবসগুলীর তাৎপয্য অনুযায়ী যথারীতি-যথাযোগ্য মায্যদা ও ভাবগাম্ভিয্য বজায় রেখে পালন রাষ্ট্র, সরকার ও জনগনের সম্মান, শ্রদ্ধা, ভক্তি সহকারে  আবশ্যকীয় পালন প্রচলিত রীতি৷  বিশ্বময় প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রেই বিষয়টি একইরুপে প্রযোজ্য ও প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি হিসেবে প্রতিপালিত হচ্ছে৷ উক্ত রীতি অবজ্ঞা, অবহেলা, অপমান, অপদস্ত, বিকৃত করা যে কোন দেশের প্রচলিত ফৌজদারী আইন ও বিধি মোতাবেক দন্ডনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত৷ 
  রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সংগঠন ও সংস্থা উল্লেখিত দিবসে সংগঠিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ প্রজম্ম থেকে প্রজমান্তরে স্মরণ করিয়ে দেয়া একান্ত নৈতিক কর্তব্যহেতু জাতীয় পয্যায়ে আবশ্যকীয় পালনীয় রীতি গড়ে উঠে৷এইরুপে নিয়ন্তর পালনে তারতম্য ভেদে দিবসগুলীর অভ্যন্তরীন সংঘটিত ঘটনা প্রবাহের নির্যাস, তাৎপয্য, ঐতিহাসিক মুল্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে প্রজম্মের মহাসুযোগ সৃষ্টি হয়৷ দেশ ও জাতীর এইরুপ ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট দিনের তাৎপয্য অনুশীলনে প্রাপ্ত লব্দ জ্ঞান প্রজম্ম থেকে প্রজমান্তরে জাতীত্ববোধ, দেশাত্ববোধের চেতনায় নাগরীকদের বিকশীত করে গড়ে তোলে৷ দেশ ও জাতী গঠনে ক্ষেত্রে দেশপ্রেমের গুরুত্ব ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না৷
  রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি সমূহ--রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সংগঠন সমূহ দেশ ও জনগনের প্রতি তাঁদের নীতিগত দায়বদ্ধতা থেকে দিবসগুলী পালন করতে বাধ্য থাকে৷ এইরুপ প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরতঃ নাগরীকদের দেশপ্রেমে উদ্ভোদ্ধ করার ক্ষেত্রে মূখ্য ভুমিকা পালন করে৷
 ইহা একান্ত সত্য--যে কোন জাতীর উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি, শৃংখলা রক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম, অনস্বিকায্য, আবশ্যিক৷ আর দেশ ও জাতীর ঐতিহাসিক দিবসের তাৎপয্য, শিক্ষা, অনুশশীলন নাগরিকদের স্নায়োবিক অনুভূতিতে দেশাত্ববোধ সৃষ্টি, জাগ্রত করা বা রাখার মোক্ষম হাতিয়ার৷ যে জাতী দেশপ্রেমে যতবেশী সমৃদ্ধ সেই জাতী ততবেশী দ্রুত উন্নতি, অগ্রগতি সাধনে সক্ষমতা অর্জন করে৷ একমাত্র স্বিকৃত উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতী'ই বিশ্ব দরবারে সভ্য ও সম্মানীত জাতী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷ 
  অত্যান্ত দুঃখ্যজনক হলেও সত্য--"৭৫ পরতবর্তি প্রায় দুইদশক বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার সমূহ জাতীর শৌয্য, বিয্যের ধারক বাহক বিশেষ বিশেষ দিন ও প্রতিক সমূহ রক্ষনাবেক্ষনের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা রাজনৈতিক আদর্শিক কারনে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা দেখিয়েছে৷ ফলে বাংলাদেশের জনগনের মধ্যে অধিকাংশের যথাযথ রীতিনীতি অনুসরন, তাৎপয্য অনুধাবন পুর্বক "জাতীয় দিবস" পালন ও "জাতীয় প্রতিক" সমূহ  সংরক্ষনে আগ্রহে প্রচুর ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়৷
 বর্তমানেও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের অনেকগুলী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারী, বেসরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান--জাতীয় দিবস হয় পালন করা থেকে বিরতঃ থাকে, নয় তো বা দায়সারা ভাবে পালন করতে দেখা যায়৷  জাতীর সাগররসম রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরব, পরিচিতি, অহংকার, শৌয্য বিয্যের প্রতিক--'জাতীয় পতাকা' সংরক্ষন, ব্যবহার, পরিমাপ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশীরভাগ জনগোষ্টির রয়েছে অজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অবহেলা৷ এহেন অবস্থা থেকে অতিসত্বর উত্তরণের প্রয়োজনে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক শক্তি, সামাজিক শক্তি এগিয়ে আসা প্রয়োজন মনে করি৷ দেশপ্রেমের অভাবজনীত কারনে ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রজম্মই বিপথে চলে গেছে--খোলা চোখে পরিলক্ষিত হচ্ছে৷  যথাযথ উদ্যোগের বিলম্বে গোটা জাতী অতলতলে তলিয়ে গেলে আশ্চায্য হওয়ার কিছুই থাকবে না৷
  আগামী ১৫ই আগষ্ট জাতী'র জনক বঙ্গবন্ধু' 'শেখ মজিবুর রহমানে'র ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে যথাযথ ভাবগাম্ভিয্যে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে জাতী৷ একই সঙ্গে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তাঁর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি'র বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমুহ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সংগঠন সমুহ শোক দিবস পালনের কর্মসুচি ঘোষনা করেছে। বিগত কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সরকার দিবসটি যথাযথ ভাবগাম্ভিয্যে পালনের উদ্দেশ্যে  সরকারীভাবে  "জাতীয় শোক দিবস ঘোষনা" করেন৷  দিনটিকে  সরকারী ছুটির দিন ঘোষনা করে জাতীয় পয্যায় পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সুনির্দিষ্ট কতিপয় নীতিমালা প্রনয়ন করে ৷অন্যসব জাতীয় দিবসের ন্যায় জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে  সরকার যথাযথ ভাবে পালনের নিমিত্তে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সরকারী বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সমূহে  উক্ত নীতিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের  নির্দেশনা জারি করে৷
     দু:খ্যজনক হলেও সত্য--সরকারের উক্তরুপ নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত অন্যসব জাতীয় দিবসে'র ন্যায় প্রতিবছরই উপেক্ষিত থেকে যায়৷ যথাযথভাবে জাতীয় দিবস পালনের ক্ষেত্রে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও সরকারী উদ্যোগে আন্তরিকতার যথেষ্ট  অভাব পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়৷ এমনিতে জাতীয় দিবস পালনে দীর্ঘ যুগের অনভ্যস্ততা  জাতিকে  অনাগ্রহী করে তুলেছে৷ অন্যদিকে আগ্রহী করে গড়ে তোলার আবশ্যকীয় শক্তি-- "দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী সংস্থা,  রাজনৈতিক দলের   কর্মীবাহিনীর সমাজে বিচরনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা অনেকক্ষেত্রে শুন্যতা জাতীয় দিবস পালনের ক্ষেত্রকে প্রতিনিয়ত সংকুচিত করে চলেছে৷ এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশপ্রেমহীন প্রজম্ম জাতীকে অন্ধকারে টেনে নিতে সময়ক্ষেপনের প্রয়োজন হবেনা 
    এমতঃবস্থায় দেশ ও জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে-'দেশপ্রেমিক জনগোষ্টি গড়ে তোলার প্রয়োজনে  সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের তদারকি, পয্যবেক্ষন, প্রশিক্ষন একান্ত প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের আদর্শিক দেশপ্রেমিক কর্মীবাহিনী  সর্বাজ্ঞে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন৷ সকল জাতীয় দিবস যথাযথা রীতিনীতি অনুসরন পুর্বক প্রতিপালনে  দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মীরাই সমাজে, রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে৷   

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg