বিশ্বব্যাপি মানব ইতিহাসে ব্যাতিক্রমি জীবনাচারের অধিকারি একমাত্র "বঙ্গবন্ধু"।
রুহুল আমিন মজুমদার

       সমসাময়িক বিশ্ব নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জম্ম থেকে মৃত্যুবদি বা একটা মানুষের জম্ম কালের আগে বা পরে সমগ্র ইতিহাস বিশ্লেষন করে হিসেব মেলাতে গেলে দেখা যায়---"তাঁর জীবনাচারের প্রত্যেকটি বিষয় অন্য সকলের চেয়ে ব্যাতিক্রম ও  আলাদা। যেকোন ভাবেই চিন্তা করি না কেন--মানবজীবনের প্রতিটি বিষয়ের  বৈশিষ্ট সম্পূর্ণ আলাদা, ব্যাতিক্রম, ভিন্নতা, তারতম্য প্রত্যেক ব্যাক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা সামঞ্জস্য চোখে পড়ে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে বিষয়গুলীর বৈশিষ্ট সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সকলের  নিকট  স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।

          যেমন---চলাফেরা, কথোপকথন, আচার-ব্যবহার , বক্তৃতার ধরন, বক্তব্যের ভাষা, বক্তব্যের দৃড়তা, মঞ্চে আরোহনের চিত্র, মাইকের সামনে দাঁড়ানোর ধরন, বক্তব্য শুরু ও শেষের ধরন, বক্তব্যের ভাষা, ভাষা ব্যবহারের নিপূনতা, বক্তব্যের বোধগম্যতা, দৃড়তাপূর্ণ  চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ, পোষাকের ভিন্নতা, কেশ বিন্যাসের ধরন, চশমা,  চশমা চোখে দেয়ার ধরন, চশমা ধরার ধরন, তামাক ব্যবহার, তামাক ব্যবহার করার সময় পাইপ ধরার ধরন, পাইপ টানার ধরন,  পোষাক নির্বাচন, পোষাক পরিধানের ভিন্নতা, শারিরীক গঠন, চেহারাগত ভিন্নতা, দৃষ্টি নিবন্ধনের সৌন্দয্য, হাঁটা চলার বৈশিষ্ট, কথা বলার ধরন, কথার দৃড়তা,   পারিবারিক জীবনাচার, রাজনৈতিক জীবনাচার, কর্মীদের প্রতি ব্যবহার, সহপাঠিদের সংঙ্গে আচরন এবং কি নিত্য নৈমত্তিক খাওয়াদাওয়ার ধরন সহ ইত্যকার দৈনন্দিন সর্ব বিষয় ব্যাতিক্রম লক্ষনীয়।

       উপরে উল্লেখীত--অনুল্লোখ্যীত কোন একটি বিষয় বা বিষয়ের কিঞ্চিৎ পরিমাণ সমসায়িক কালের আগে বা পরের কোন ব্যাক্তি বিশেষকে অনূকরন, অনূসরন করার দৃষ্টান্ত তাঁর সামগ্রিক জীবন যাপনে খুঁজে পাওয়া যায় না। বরঞ্চ তাঁর চারিত্রিক এবং বহিরাগত বহুবিদ বিষয়াদি সমূহের মধ্যে অনেকেই আংশিক বা সম্পূর্ণ অনূকরন, অনুসরন, নকল করার দৃষ্টান্ত প্রতিনিয়ত আমরা সকলেই দেখি। বঙ্গবন্ধুর শৈশব, যৌবন, মধ্যবয়সের জীবন যাপন, সংগ্রামী জীবন, নেতৃত্বের ধরন, নেতৃত্ব করায়ত্ব করার কৌশল, নেতৃত্বের স্পষ্টতা, রাজনীতিতে পদার্পনের সময়কাল, রাজনীতির হাতে খড়ি, রাজনীতিতে বড়মাপের নেতাদের সান্নিধ্য লাভ, রাজনীতিতে নিজস্ব দর্শনে কর্মীদের উদ্ভোদ্ধকরন, দর্শন অনূসরনে অন্যদের অনুপ্রানিতকরন ইত্যাদি সর্বৈব বিষয় পার্থক্য--'খোলা চোখে দৃশ্যমান'।

    সৃষ্টির আদিকাল থেকে (নবী করিম (স:) ব্যাতিত)--একজন রাষ্ট্রনায়কও খোঁজে পাওয়া যাবেনা; যিনি নিজস্ব দর্শন সৃষ্টি করেছেন এবং সেই দর্শন বাস্তবায়নের নিমিত্তে সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রয়োজনীতা অনুভব করেছিলেন। সেই  একক জাতি সত্বা বিশিষ্ট রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটিয়ে--সেই রাষ্ট্র নিজেই শাষন করার কিঞ্চিৎ সুযোগ পেয়েছেন। এমন কোন রাষ্ট্রপিতাও নেই যিনি তাঁর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বহু জাতিসত্বার অস্তিত্ব থাকাবস্থায় নীজস্ব একক জাতিসত্বার উম্মেষ ঘটিয়ে সেই জাতির উম্মেষদাতা হ'তে পেরেছেন। লক্ষ করলে দেখা যায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপিতার শাষিত রাষ্ট্রে বহুধা বিভক্ত জাতিসত্বার অস্তিত্ব বিরাজমান ছিল। প্রত্যেক রাষ্ট্রপিতাই অবলিলায় ভিন্ন ভিন্ন জাতির অস্তিত্ব স্বীকার করে সেই রাষ্ট্রের "রাষ্ট্রপিতায়" অধিষ্ঠিত হয়েছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধু তাঁর সৃষ্ট রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র  জাতিসত্বার উপস্থীতি থাকা সত্বেও তাঁদের অস্তিত্ব সাংবিধানিকভাবে স্বীকার নাকরে একক "বাঙ্গালী জাতির পিতা" এবং নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের সৃষ্টিকারি বা পত্তনকারি হিসেবে "রাষ্ট্রপিতা'' হতে পেরেছিলেন। তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি কোন প্রকার লুকোচুরি করে নয় প্রকাশ্য 'বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ' প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে বিজয়ী হয়েই তিনি অন্যান্ন জায়িসত্বার অস্তিত্ব অস্বিকার করে বাঙ্গালীদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উল্লেখীত দু'টি উল্লেখযোগ্য সূক্ষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারির একমাত্র বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় ব্যাতিক্রম স্থানটির অধিকারি "বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান"।
 
    বিশ্ব ইতিহাসে এমন একটি নজির নেই--প্রথাগত একটি গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কর্মীবাহিনীকে তৎক্ষনাৎ বিপ্লবী স্বসস্ত্র বাহিনীতে রুপান্তর করে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হ'তে পেরেছে এবং কি স্বল্পসময়ের যুদ্ধে বিজয় চিনিয়ে আনতে পেরেছে। বিশ্বব্যাপি যতগুলী স্বাধীন রাষ্ট্রের উৎপত্তির ইতিহাস বিদ্যমান রয়েছে সবগুলির স্বাধীনতার ইতিহাস বিনা রক্তপাতে রাজনৈতিক আন্দোলন অথবা রক্তাক্ত বিপ্লবী স্বসস্ত্র কর্মীবাহিনীর দীর্ঘদিনের যুদ্ধে উৎপত্তির ফসল।একমাত্র ব্যাতিক্রম দেশের ক্ষেত্রে "বাংলাদেশ", দলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়কারি একমাত্র গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল "বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ", নেতৃত্বের ক্ষেত্রে "বঙ্গবন্ধু"ই  বিরল দৃষ্টান্তের অধিকারি।

     তাবৎ  বিশ্ব ইতিহাসে  রাষ্ট্রসৃষ্টির এমন কোন একটি উদাহরণ নেই -- যে রাষ্ট্র সৃষ্টি বা স্বাধীনতার জন্যে এত রক্ত স্বল্পসময়ে বিসর্জন দিয়েছে। এখানেও  একমাত্র অবিশ্বাস্য ব্যাতিক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আকাংক্ষায় পরিচালিত দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে অনিবায্য গৌরবের "মুক্তিযুদ্ধ"। এই যুদ্ধে নিজের স্ব-জাতী "মা-বোন"কে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ্যসিদ্ধির নিমিত্তে "বিজাতীয় সেনা"দের 'যৌন লিস্পা' নিবারনের জন্যে তুলে দিয়েছে--''তথাকথিত স্বাধীনতা বিরুধী মুষ্টিমেয় বাঙ্গালী কুলংঙ্গার "আলবদর, রাজাকার"।

  বিশ্ব ইতিহাস তন্নতন্ন করে খুঁজে পাওয়া যাবেনা--স্বাধীনতা যুদ্ধ ফেরৎ কোন স্বাধীনতা যোদ্ধা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভ করে সেই দেশের স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকারদের বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে এবং  তাঁদেরকে স্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। এমন একটি উদাহরণও নেই কোন স্বাধীনতাকামী সেনা কর্মকর্তার পরিবার পূর্ব পরিচিত শত্রুসেনাদের হেফাজতে রাজকীয় পরিবেশে বসবাস করতে পেরেছে।একমাত্র ব্যাতিক্রম মুক্তিযুদ্ধের "জেড ফোর্সে"র অধিনায়ক বীর উত্তম মেজর "জিয়াউর রহমান"। তাছাড়াও উক্ত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস বহাল তবিয়তে শত্রু সেনানিবাসে বসবাস করা সত্বেও তিনি ফায়ারিং স্কোয়ার্ড়ের সম্মুখ্যিন হননি বরঞ্চ বীরদর্পে মুক্তিবাহিনীর একটি সেক্টর কমান্ডের "কমান্ড" দেয়ার অধিকারি হ'তে পেরেছিলেন। তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শত্রু সেনানিবাসে দীর্ঘ নয়মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন পূরো সময়কাল বসবাস করা সত্বেও অন্য "মা-বোনে''র মত "বিরঙ্গনা"র জাতিয় অত্যান্ত সম্মানীত উপাধি গ্রহন করেননি। তাবৎ বিশ্বে একটি উদাহরনও নেই-- কোন দেশের স্বাধীনতার মহানায়ক কতৃক যুদ্ধকালিন এবং তৎপরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ইতিহাস জানা সত্বেও এমন একজন সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে অথবা ফায়ারিং স্কোয়ার্ড়ে নির্মমভাবে হত্যা করে বেঈমানীর শাস্তি নিশ্চিত করেননি।

     বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়কের ক্ষেত্রে এখানেও অবিশ্বাস্য এবং ব্যাতিক্রমি উদাহরন স্থাপিত হয়েছে। উক্ত সেনা কর্মকর্তার চাকুরি নিশ্চিত তো করেছেন-ই, উপরন্ত চাকুরি বনাঢ্য ও সম্মানজনক করার নিমিত্তে নিয়মিত বাহিনীতে নতুন পদ সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানেই তাঁকে অধিষ্ঠিত করে পুরস্কৃত করেছেন। তাঁর ধর্ষিতা স্ত্রীকে নীজের আপন "মেয়ের" স্বীকৃতি দিয়ে বিরল এক বদন্যতার ইতিহাস রচনা করেছেন বিশ্ব ইতিহাসে একমাত্র "বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।"

   সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়ানকেও যদি বিশ্লেষন করি দেখা যায়--বিশ্ব ইতিহাসে একটি উদাহরণ পাওয়া যায়না স্ব-জাতির হাতে সেই দেশের স্বাধীনতার মহানায়কের  নির্মম নিষ্ঠুর ভাবে সম্পূর্ণ পরিবার সহ এক রাতেই হত্যার শিকার হয়েছে। মৃত্যু, হত্যা, আত্মহত্যা,  গুপ্তহত্যা ইত্যাদি বহু হত্যার ইতিহাস রয়েছে। তবে সেই সমস্ত হত্যাকান্ডগুলী ঘটেছে একক ভাবে বা কতক অনুসারী সহ।কোন রাষ্ট্র নায়কের সম্পূর্ণ পরিবার ধ্বংসের ইতিহাস কোথাও,  কোন সময়ে, কস্মিনকালেও নেই--স্বাধীনতার মহানায়কের ন্যায় স্বল্পসংখ্যক মহামানবের ক্ষেত্রে তো নহে-ই। মানব ইতিহাসের অবিশ্বাস্য ব্যাতিক্রমি, কলংক জনক আধ্যায়ের জম্ম শুধুমাত্র বাংলাদেশেই হয়েছে।

     এই করুন, মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক, ইতিহাসের  বিরল হত্যাযজ্ঞে অকাল  মৃত্যুবরন করেছেন--"একমাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, মহানায়ক, বাঙ্গালী জাতির জনক, বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধের উম্মেষদাতা, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী,বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রনায়ক--'বঙ্গবন্ধু "শেখ মজিবুর রহমান'।"

      "জয়বাংলা---জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg