'বাংলাদেশপ্রেস পরিবার' উচ্চ আদালতের পয্যবেক্ষনের আলোকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত "ঐশী"কে সকল অ-নৈতিকতা দূরিকরনে কতৃপক্ষের অনূমতি সাপেক্ষে 'উৎসে রুপান্তরে' সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
           (রুহুল আমিন মজুমদার)
   

  সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অবক্ষয়ের চলমান ঘটনায় উঁচু তলার ছেলে মেয়েদের প্রমানীত সম্পৃত্ততা বাংলাদেশের আপামর সচেতন জমগনকে ভাবিয়ে তুলেছে।(১) ঐশী কতৃক বাবা মা'কে হত্যায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তি। (২) বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভারসিটিতে পড়ুয়া উচ্চবিত্তের ছেলেমেয়েরা উগ্র ধর্মীয় মতবাদে বিশ্বাস স্থাপন।(৩)আপন জুয়েলার্সের কাল টাকা অনৈতিক ব্যবহার এবং তৎকায্যের নিলজ্জ দম্ভোক্তি।
 ১) পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, মাতা স্বপ্না রহমানের একমাত্র কন্যা ঐশী রহমান।কথিত যে, ঐশীকে তাঁর বাবা পুলিশ অফিসার প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা, তাঁর ব্যাক্তিগত খরছের জন্যে দিতেন। পুলিশ বাবার অতিরিক্ত টাকার গুনে 'ঐশী' দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠে।অসংখ্য, অজস্র বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে উঠে।বন্ধুবান্ধবের সংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে তাঁর টাকার চাহিদাও বহুগুন বেড়ে যায়।ততদিনে ঐশী সকল ধরনের মাদকাসক্তে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং সঙ্গীয় বন্ধুদেরও মাদকাসক্তের আসক্তিতে  রুপান্তর করে।শেষবিকেলে একমাত্র মেয়ের চাহিদানুযায়ী টাকা সরবরাহ করার অপারগতায় আদরের মেয়ের হাতে দুইজনই মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আজীবনের জন্যে একরাতে একইসময়ে বাবা মা দুইজনই মেয়ের সারাজীবনের টাকার চাহিদা পূরণ করে দিয়ে যান।

    এখানে দু'টি দিক লক্ষনীয়--প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা  খরছের জন্যে 'পুলিশ কর্মকর্তা বাবা আদরের কন্যা' ঐশীকে দিতেন। অর্থাৎ প্রতিমাসে ১৫ লক্ষ টাকা শুধু, একমাত্র কন্যার জন্যে বরাদ্ধ ছিল! পরিবারের অন্যান্ন খরছ বাদ দিলেও তিনি নিশ্চয়ই এত টাকা বেতন পেতেন না। একদিকে অধিকাংশ  সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ টাকা আহরনের কুৎসীত রুপ উলঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে অন্যদিকে অবৈধ উপায় অর্জিত অতিরিক্ত টাকায় ছেলেমেয়ে নিশ্চিত বিপথে যায়, তাঁর প্রকৃষ্ট প্রমান রেখে গেলেন। 'ঐশী'র বাবার অবৈধ আয়ের পাপের টাকায় ঐশী একা পদস্থলিত  হয়নি, সঙ্গে  আরো  কয়েক যুবকের পদস্থলনের কারন সৃষ্টি করেছে।  ''সৎ সঙ্গে স্বর্গে বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশে"র উৎকৃষ্ট উদাহরণটি সত্যে পরিণতি পেয়েছে।

    (২) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র উচ্চ বিত্তের সন্তানেরাই বেশীরভাগ লেখাপড়ার সুযোগ নিতে পারে। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায়, টাকা দিয়ে সনদ ক্রয়ের একমাত্র "সরকার কতৃক স্বীকৃত শিক্ষালয়" হচ্ছে "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়" নামক উচ্চশিক্ষার এই মাধ্যমটি। কোটিপতি বাবা মায়ের কর্মব্যাস্ততার অজুহাতে ছেলে মেয়েদেরকে তাঁদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দানের ব্যার্থতা ঘুচাতে, তাঁদের চরিত্রগত ব্যাবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে, টাকার অংকে উচ্চশিক্ষার সনদ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরন কল্পে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করার মানষীকতায়, ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠা "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়'' গুলীর উৎপত্তি। তাঁদের টাকার অহংকারের 'বিশ্ববিদ্যালয়' প্রকারান্তরে ছেলে মেয়েদেরকে সর্বনাশের চুড়ান্ত পয্যায় নিয়ে যেতে অনেকাংশে সাহায্য করেছে। একদিকে শৈশবের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা "মা বাবার শিক্ষা" থেকে বঞ্চিত  একাকিত্ব জীবন--অন্যদিকে স্নেহ, মায়া, মমতা, শাষন, আবদার বঞ্চিত হয়ে মানষীক পীড়নে বিকার গ্রস্ততা জীবন সম্পর্কে উদাসীন যুবকের মৃত্যুকামনার বহি:প্রকাশ আত্মহননের সহজ উপায় জঙ্গীদলে ভর্তি।  সমাজহীন শহরে সঙ্গী সাথীহীন জীবন যাপনে উচ্চবিত্তের সোনার ছেলেমেয়েরা একসময়ে নিবৃত্তচারী ঘরকূনো জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। তাঁদের এই নিবৃত্তচারী সহজ সরল অথছ আড়ম্বর জীবন যাপনের সুযোগকে পুঁজি করে একশ্রেনীর স্বার্থ্যান্বেষী উগ্র ধর্মীয় মতবাদে বিশ্বাসী কুচক্রি মহল খুব সহজেই উদ্ভোদ্ধ করার প্রয়াস গ্রহন করে এবং সর্বোতভাবে সফলকাম হয়। উগ্র ধর্মীয় মতবাদে বিশ্বাসী মহলটি একদিকে তাঁদের প্রয়োজনীয় অজস্র টাকার চাহিদা পূরণ করে অন্যদিকে স্বেচ্ছায় জীবনদানের বিনিময়ে বেহেস্তের টিকেট বিক্রিটাও ভাল করে জমিয়ে নেয়।

    (৩) কাল টাকা আহরন মানুষকে অন্ধকার পথে নিয়ে যায়--প্রকৃষ্ট প্রমান "আপন জুয়েলার্সে"র বখাটে ছেলের বখাটেপনা। পদস্থলিত পুত্রের পক্ষে অজস্র কালটাকার মালিক পিতার দম্ভোক্তি প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের উৎকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে  সর্বমহলের বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত--আমি মনে করি। চারিত্রিক পদস্থলন, মাদকাসক্ত, বেলাল্লাপনা, উৎশৃংখল জীবনযাপন ইত্যাদি ঘটনাচক্রে যে কোন যুবক যুবতীকে আকৃষ্ট করতে পারে এবং সাময়িক বিপথেও নিয়ে যেতে পারে, অস্বীকার করি না। কিন্তু অনৈতিক বিপথ গ্রস্ততায় নিমজ্জিত প্রত্যেকের পিতামাতা সমাজ কাঠামোর লজ্জায় ঘৃনায়  স্বেচ্ছায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকাই শ্রেয় ছিল, এতদিনকার বাংলাদেশের বিদ্যমান সামাজিক রীতিনীতি, ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় রীতিনীতির আওতাভূক্ত। বাংলাদেশের প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন পূর্বক "সামাজের ধিকৃত, নিকৃষ্ট লজ্জাজনক পাপাচারকে উচ্চবিত্তের স্বাভাবিক শৌখিন যৌনাচার গন্য করে নিকৃষ্ট পুত্রের পক্ষে "কোটি কোটি কাল টাকার মালিক পাপিষ্ট পিতার দম্ভোক্তি" যে কোন পয্যায়ের বিচারে বাংলাদেশের আগামীদিনের গড়ে উঠা ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত সমাজ কাঠামোর প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি--আমি মনে করি। ধর্মীয় রীতিনীতি, মানবিক নীতি নৈতিকতা, সামাজিক নিয়ম রীতি, রাষ্ট্রীয় আইন কাঠামো সর্ব বিষয়কে গুটিকয়েক উচ্চবিত্তের টাকার অহমিকার 'তুচ্ছচিন্তা' সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করনের দূরভিসন্ধি বিদ্যমান ১৬কোটি নিম্ন, নিম্নমধ্য, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের মানব সমাজকে নিয়ে যেতে পারে অন্ধকারের অতল গব্বরে।

      ইতিমধ্যে উচ্চবিত্তের শৌখিনতার মাদক "ইয়াবা" ''ফেন্সিডিল' 'নিম্নবিত্তের ১৬কোটি মানব সমাজে সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং সমাজে অস্থির পরিবেশ বিরাজমান। ফেন্সিডিল, ইয়াবা--স্কুল কলেজের ছাত্র, সর্বশ্রেনীর যুবক, সর্বস্তরের বৃদ্ধবণিতার মাঝে সমভাবে আদৃত হয়ে শহর, বন্দর গ্রামে সমভাবে ব্যাবহার হচ্ছে। দেশব্যাপি মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় একপ্রকার মহামারি আকার ধারন করেছে। ফলত: পারিবারিক সুখশান্তি, ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া, শ্রমিক কর্মচারীর কর্মতৎপরতা, গনমানুষের আন্দোলন--সংগ্রাম, রাজনীতিকের রাজনীতি, দেশ ও সমাজের উন্নয়ন--অগ্রগতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা, ঝিমিয়ে পড়েছে গোটা জাতি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে--অচিরেই গোটা জাতি ঘুমিয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। উক্ত পারিপাশ্বিক ঝিমিয়ে পড়া অবস্থা থেকে জাগ্রত করার উপায় খুঁজে না পেলে, অচিরেই চিরতরে গোটা জাতি নিশ্চিত তলিয়ে যেতে বাধ্য হবে, অচিরেই ভেঙ্গে পড়বে ঐতিহ্যগত পারিবারিক, সামাজিক বন্ধন, ভেঙ্গে পড়বে রাষ্ট্রীয় কাঠামো। এতে কোন পক্ষের সন্দেহের অবকাশ আছে বলে আমি মনে করিনা।এক সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে বছরে মাদকের পিছনে সমূদয় খরছ এক পদ্মাসেতু নির্মানেরও অধিক।ইহাই প্রমান করার জন্যে যথেষ্ট বর্তমান সময়ে মাদকের ভয়াবহতা কত সার্বজনীন রুপ ধারন করেছে।

   উচ্চবিত্তের চৌয্যবৃত্তির উল্লেখযোগ্য, সাড়াজাগানো এবং ব্যাতিক্রমি তিনটি ঘটনাক্রম একই দৃষ্টিকোন থেকে দেখার যথেষ্ট উপকরন বিদ্যমান রয়েছে। তিনটি ঘটনাই উচ্চবিত্তের সহজ উপায় অথবা চৌয্যবৃত্তির মাধ্যমে অবৈধ অর্থের অহরণ এবং উক্ত অর্থ অবাধ, যথেচ্ছ ব্যবহারের সুযোগ, প্রকাশ্য হস্তগত রাখার দৃষ্টান্ত গোটা জাতিকে স্তম্ভিত, বিস্মিত করেছে। অবৈধ অর্থ অর্জনের চতুর্মূখী পথ খোলা রেখে এবং উক্ত অর্জিত অবৈধ অর্থ যথেচ্ছ ব্যবহারের উপকরনের যোগান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে লালন করে এবং যথাযথ বৈধকরনের পথ উম্মুক্ত রেখে সামাজিক বৈশম্য দুরীকরন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অস্থীরতা দূরীকরন, সর্বোপরি সামাজিক নীতি নৈতিকতার উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। শুধুমাত্র  কঠোর আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগের  মাধ্যমে উচ্চবিত্তের অহমিকায় সৃষ্ট দুস্তর  পথ রুদ্ধ বা নিয়ন্ত্রন কোনমতেই সম্ভব নয়।
    এর জন্য প্রয়োজন সম্পদ আহরনের বৈধ উৎসের যথাযথ জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরন, অবৈধ উৎসের ছিদ্র অন্বেষন করে উৎস মূখে পাথর ঢালাই বাঁধ নির্মান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং তদীয় দপ্তর, পরিদপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিতকরন। সম্পদের সূষম বন্টনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন, বৈধ সম্পদ অর্জনে রাষ্ট্রীয় পয্যায় উৎসাহ প্রদান। অবৈধ সম্পদের যথাযথ সামাজিক, রাষ্ট্রীয় পয্যায় ''তিরস্কার" প্রক্রিয়া চলমান রেখে শব্দটিকে 'প্রথায়' রুপান্তর। উক্ত "তিরস্কার প্রথা"র প্রক্রিয়ায় জাতিকে উদ্ভোদ্ধকরন, নিয়ন্তর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক গোষ্টি সর্বপয্যায়ে নীতি ও নৈতিকতার কঠোর অনুশীলন অব্যাহত রাখার ব্যাবস্থা গ্রহনের কোন বিকল্প নেই।

 ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, মাদক, পতিতা বৃত্তি, জুয়া, মিথ্যা ইত্যাদি সামাজিক ও ধর্মীয় অনৈতিক বিষয় সমূহ সমাজে নিরুৎসাহীত করনের লক্ষে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে উক্ত বিষয় সমূহের কূফল সম্পর্কে নিয়মিত প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রেখে এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মোটিবেশন কায্যক্রম অব্যাহত চালু রাখাই হ'তে পারে নিয়ন্ত্রন ও উন্নতির চাবিকাঠি।

       উল্লেখিত বিষয় সমূহে লক্ষ অর্জনে "ঐশী"র ডেথ রেফারেন্স শুনানীতে মহামান্য আদালতের দেয়া পয্যবেক্ষন হতে পারে অন্যতম এক 'মহৎ উৎস'।"ঐশী"র মৃত্যুদন্ড রহিত করে যাবজ্জীবন কারাভোগের পয্যবেক্ষনে মহামান্য আদালত বলেন---"আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে মৃতুদন্ডকে নিরুৎসাহীত করা হয়েছে।আমাদের দেশে মৃত্যুদন্ড কমানোর কোন ''গাইড লাইন" নেই। এবং কি বিলুপ্ত করার পরিবেশও আসেনি। শিক্ষার হার বেড়েছে, জনসংখ্যাও বেড়েছে। অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে।এমত:বস্থায় "মৃত্যুদন্ড রহিতকরন" সম্ভব নয়।"

   "মৃত্যুদন্ড একমাত্র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নয়"। এটি কায্যকর করলেই যে সমাজ থেকে অপরাধ দূর হবে তা নয়। কম সাজাও অনেক সময় সমাজ থেকে অপরাধ প্রবনতা কমাতে সুস্পষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বা সাহায্য করতে পারে।মৃত্যুদন্ড রহিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে সূশাষন ও মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবনতারোধে সচেতেনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু রাষ্ট্রের মধ্যে নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে সূশাষন নিশ্চিত করতে হবে।"

    আদালতের উল্লেখিত পয্যবেক্ষনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং সদাশয় সরকারের বিধিবিধান প্রতিপালনের অঙ্গিকারপত্র স্বাক্ষর পূর্বক "ঐশী"কে উপরিক্তো বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির মূল ভিত্তিতে রুপান্তরের মহৎ লক্ষ পূরণকল্পে "বাংলাদেশপ্রেস পরিবার" সুযোগ পেলে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং কায্যকরনে অঙ্গিকারাবদ্ধ হতে আগ্রহী। এই মর্মে উচ্চ আদালতের যেকোন সুনির্দিষ্ট শর্তযুক্ত অঙ্গিকার পালনের নিশ্চয়তা প্রদান পূর্বক মহামান্য আদালতের দেয়া আইনগত সমূদয় রীতিনীতির অভ্যন্তরে "বাংলাদেশপ্রেস পরিবার" যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত "ঐশী"কে সামাজিক অ-নৈতিকতা, মাদকাসক্তি, অবৈধ উপার্জনের কূফল নিরসনের "উৎস" বিবেচনায় "রাষ্ট্রীয় গাইডলাইন" সৃষ্টিতে সহযোগীতা দিতেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। "বাংলাদেশ প্রেস পরিবার" গনমানুষের কল্যানের লক্ষে সীমিত সামর্থের মধ্যে একাধিক সামাজিক সংগঠন--"নৃগোষ্টির নাগরিক, সামাজিক,শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থানের অধিকার রক্ষা, দেশের অভ্যন্তরে বিরাজমান সংখ্যা লুঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার,ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা ও সর্বস্তরে সামাজিক  ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতকরন, মাদকমূক্ত সুস্থ সমাজ বিনির্মান, চিন্নমূল পথশিশুদেরর কল্যানে নানাবিদ কর্মসূচি পরিচালনা  করে আসছে।" মহামান্য আদালত ও বাংলাদেশ সরকারের কৃপাদৃষ্টি "বাংলাদেশপ্রেস পরিবারে"র উক্ত কর্মসূচি প্রতিপালনে "ঐশী" হ'তে পারে সমগ্র পরিবারের কর্মস্পৃহার উৎস ; বাংলাদেশের মাদকাসক্ত যুবকযুবতীগন ফিরে পেতে পারে "ঐশী"র নির্মম কষাঘাতের অমোঘ বাণীতে---''জীবন, পরিবার, সমাজ রক্ষার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
          আশা করি দেশ ও জনগনের বৃহৎ স্বার্থে "বাংলাদেশ প্রেস পরিবার"কে উক্ত সুযোগ দানে রাষ্ট্র, সরকার, উচ্চ আদালত বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।  উল্লেখ্য "বাংলাদেশ প্রেস পরিবার" দেশ ও জনগনের কল্যানে সর্বদা নিয়োজিত একটি স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধি বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পয্যায়ে খোলা আবেদন জানাই।
                             
                                            পক্ষে----
                                              রুহুল আমিন মজুমদার
                                              বাংলাদেশ প্রেস পরিবার"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg