বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বুদ্ধিজীবি সমাজের অবদান নেই।
রুহুল আমিন মজুমদার

 
        গনতন্ত্রহীন সমাজে উন্নয়ন সম্ভব নয়-দীর্ঘকালের প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বর্তমান বাংলাদেশের কিয়দংশ বুদ্ধিজীবি  প্রতিনিয়ত অস্বীকার করে চলেছেন। প্রক্রিয়াটি নতুন নয়, বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালী জাতীর স্বকীয় অবস্থান নিশ্চিতের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে।তাঁর আগে অত্র ভূখন্ডকে পদানত রাখার নিমিত্তে তাঁদের বিভিন্ন কৌশল , সসস্ত্র অবস্থানও আমরা দেখেছি। বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দৃড অবস্থানের কারনে তাঁরা মাত্র ২৩ বছরের মধ্যে পরাজিত হয়েছিল। সদ্য স্বাধীন দেশকে তাঁদের পদানত রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সরকারের সমান্তরালে আর একটি সরকার কায়েমের লক্ষে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা, এন,জি, ও,  জরীপ সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থা নামে কতগুলী সেবা ধর্মী তাঁবেদারী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে। তদীয় ধারার বড় একটি সংগঠন 'টি,আই,বি'। উল্লেখিত সংস্থার সদস্যবৃন্দ জম্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক বটে  কিন্তু বসবাস সূত্রে বা তদীয় দেশের স্বার্থ্য রক্ষার পুরস্কার সূত্রে অন্য যে কোন উন্নত  দেশের নাগরীকও বটে।

       বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরীকদের বাছাই করে তাঁরা তাঁদের দেশের নাগরীকত্ব দেয় বিনিময়ে তাঁদের স্বার্থ্য রক্ষার কাজ করান সাম্রাজ্যবাদি চক্র। আবার অনেক বিশিষ্ট নাগরীককে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্বসংস্থা সমূহের লোভনীয় পদে অধিষ্ঠিত করেন, অনেককে আন্তজাতিক বিভিন্ন উপাদি, উপঢৌকন দিয়ে আন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবে রুপান্তর করে নীজ দেশের স্বার্থ্য  বিরুদ্ধ কাজে উৎসাহীত করেন। টি, আই বি নামক সংস্থাটি  মূলত: সাম্রাজ্যবাদী চক্রের প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তজাতিক সংস্থা। সাম্রাজ্যবাদি গোষ্টি সংস্থাটির মাধ্যমে স্বীয় সরকার সমূহকে তাঁদের পদানত রাখার কৌশল হিসেবে যখন যেমন তখন তেমন ভাবে ব্যাবহার করে থাকে। সামান্তবাদী ধারার বাহক ঐ সুশীল সমাজ বাংলাদেশকে মনে করে তাঁদের বুদ্ধিচর্চার  উর্বর ভূমি,জনগনকে মনে করে তাঁদের ক্রিতদাস।

     স্বাধীনতা পরবর্তী নতুন দেশের নতুন সরকারকে ব্যাতিব্যাস্ত করে তুলেছিল মিথ্যা গুজব, অবাস্তব নীতি, অনাদর্শিক তত্ব জনগনের মননে গেঁথে দিয়ে।তদ্রুপ নীতির কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধন করে বর্তমানেও একই ধারাবাহিকতা তাঁরা অব্যাহত রাখার চেষ্টায় ব্রতি রয়েছেন। তাঁদের সকলেরই সম্মিলীত চেষ্টা বাংলাদেশের গুনেধরা পশ্চাদপদ সমাজকে যে কোন উপায় স্থবির রাখা। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত  করা,  জনগনকে তথ্য, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান,শিক্ষা, আধুনিকতা থেকে দূরে রাখা।তাঁদের মধ্যে সকলেই কিন্তু উন্নত দেশের অধিবাসি অর্থ্যাৎ দ্বৈত নাগরীকত্বের সুযোগে আমেরিকা, বৃটেন, জাপান, জার্মানীর নাগরীকত্ব আগেই করায়ত্ব করে রেখেছেন।তাঁদের ছেলে মেয়েরা বাংলাদেশের পশ্চাদপদ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহন করছে না, উন্নত দেশের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। উন্নত দেশের স্বার্থরক্ষার পুরস্কার হিসেবে সেই সমস্ত দেশের নাগরীকত্ব সহ  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তি গ্রহন করে তাঁদের ছেলে মেয়েরা উন্নত আধুনিক শিক্ষায় ব্রতি রয়েছে। দ্বৈত নাগরীকত্বের অপসানটি সাম্রাজ্যবাদ এবং তাঁর দোসর অন্য দেশ সমূহ বহু আগেই তাঁদের দেশে সাংবিধানীকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছেন। উক্ত আইনের সুযোগে তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহের বিভিন্ন আকারে প্রকারে দেশদ্রোহী, অপরাধী, খুনীরা অনায়াসে সেই সমস্ত দেশে বসবাসের সূযোগ গ্রহন করে নীজদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত থাকার সুযোগ পায়।

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন,  শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রসাশনিক সংস্কার তথা আধুনিক ও তথ্য ,প্রযুক্তি নির্ভর করার উদ্যোগ নিতে গেলে তাঁদের গাত্রদাহ শুরু হয়।  উক্ত ধারার সংগঠিত শক্তি টি, আই, বি  সাময়িক বিরতিতে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে থাকেন। '৭৫ পরবর্তী সেনাশাষক, ফ্যাসিবাদি সরকার সমূহের শাষনকালে তাঁদের মূখে হরহামেশাই শুনা যেত গনতন্ত্রহীন সমাজে উন্নয়ন, অগ্রগতি, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্ভব নয়। দেশের প্রতিপত্তিশীল, প্রতিতযসা বুদ্ধিজীবিদের মূখে এহেন  গনতন্ত্রহীনতার সবক শুনে, আমার মত অনেকেই গনতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রামে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে কাংক্ষীত গনতন্ত্র উদ্ধারে যথাসাধ্য অবদান রেখেছেন।

       টি, আই, বি নামক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান সংস্থাটির অন্যতম ব্যাক্তিত্ব "'সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা 'বেগম সুলতানা কামাল' । তিনি সহ অনেকেই ইদানিং তাঁদের বক্তব্যে বলতে শুনা যায়---"বর্তমান সময়ে বাংলা দেশের আকাশচুম্ভি উন্নয়ন, অগ্রগতি হলেও গনতন্ত্রের অনুপস্থীতি জনগন মেনে নিবে কিনা ভাববার সময় এসেছে"।আকারে ইঙ্গিতে গনতন্ত্রহীনতার কথাই তাঁদের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে আসে। উক্ত সংস্থার প্রধানদের মধ্যে  বেগম সুলতানা কামাল সহ অন্যান্নরা নি:সন্দেহে  প্রতিষ্ঠিত  বুদ্ধিজীবি এবং 'জৈষ্ঠ শুশীল সমাজের' আওতাভুক্ত। তাঁরা দৃশ্যমান উন্নয়ন, অগ্রগতিকে কোন প্রকারে   অস্বীকার না করতে পেরে অদৃশ্যমান বা হাওয়াই গনতন্ত্রহীনতার অভিযোগে প্রতিনিয়ত সমালোচনার তীর সরকারের বিরুদ্ধে হামেশাই বর্ষন করে চলেছেন।
       আমার প্রশ্ন হচ্ছে গনতন্ত্রহীন সমাজে বা বর্তমান বাংলাদেশে উন্নয়ন অগ্রগতি কিভাবে সম্ভব হচ্ছে ?  যাহা আদৌ হওয়া সম্ভব নয় তাহাই যদি চিরায়ত রীতি ভঙ্গ করে সম্ভব হয় তবে ধরে নেয়া যায়--" গনতন্ত্রের চর্চায় বা সংজ্ঞায় বড় রকমের ভুল নয়তো বাংলাদেশের  বুদ্ধিজীবিদের সংজ্ঞায় বড় রকমের ভূল নিহীত আছে।" গনতন্ত্রের সংজ্ঞায় ভুল যদি না থাকে আমাদের বুদ্ধিজীবিরা বিদেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ্যরক্ষক বলতে কোন প্রকার  দ্বিধা থাকার কথা নয়।

      একটা দেশের বুদ্ধিজীবি সমাজ হচ্ছে সেই দেশের বিবেক।অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায় দেশ পরিচালনায় বুদ্ধিজীবিরাই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অর্থ্যাৎ সুষ্ঠ সমাজ বিনির্মানের ক্ষেত্রে  বুদ্ধিজীবিরাই তাঁদের সৃজনশীল মেধার সূচিন্তিত মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সমাজ বা দেশ গঠনে সহযোগীতার ভূমিকা  পালন করে থাকে। দেশের বুদ্ধিজীবি সমাজের বিবেকে যখন  পঁচন ধরে তখন বুঝতে হবে ঐ সমাজ অবশ্বাম্ভাবি অসুস্থ্যতায় ভূগছে।

          আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজের শুসীল শীষ্যদের একাংশ প্রতিনিয়ত 'উন্নয়ন অগ্রগতি'র চিত্রকে খাটো করে দেখানোর প্রানান্তকর চেষ্টায় ব্রতি রয়েছেন। মূরুব্বি বুদ্ধিজীবিগন উন্নয়ন অগ্রগতি স্বীকার করে গনতন্ত্রহীনতার কথা বলছেন। গুরু- শীর্ষের বক্তব্যে বৈপরীত্ত নি:সন্দেহে পুর্বের দীর্ঘ অপ-শাষনের পঁচনশীল সমাজের দুগন্ধ নিবারনের উপযুক্ত চিকিৎসা বর্তমান সরকারের তত্বাবধানে শুরু হয়েছে এবং সুচিকিৎসার কারনে সুস্থ্যতা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগ্রগতির প্রানান্তকর চেষ্টা এবং গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার নিয়ন্তর প্রচেষ্টার  বিপরীতে বুদ্ধিজীবি সমাজের বক্তব্যের  উল্লেখীত বৈপরিত্য সরকারের পক্ষে "মারাণাস্ত্র" হিসেবে ব্যাবহার সম্ভব ছিল। কিন্তু আমাদের 'মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগের প্রচার সেল' বর্তমান সরকারের 'বিরুদ্ধবাদী প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবিদের' নানা সময় দেয়া বক্তব্য সমূহ কোন সময় কোড করেনা বা তাঁদের বক্তব্যের ব্যাপারে পালটা কোন বক্তব্য জনগনের সামনে উপস্থিত করেনা।

         এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই- "বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাষন ব্যবস্থাকে আন্তজাতিক মহল "সু-শাষন" হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার 'প্রধান এবং সরকারের ভিতরে বিশেষ অবদান রাখা ব্যাক্তিবর্গ'কে আন্তজাতিক পুরষ্কারে ভুষিত করে 'স্বীকৃতি' দিয়ে প্রতিনিয়ত উৎসাহ  দিয়ে যাচ্ছে।"অন্যদিকে সমালোচকদের মুখেও "ঘুরিয়ে ফিরিয়ে  প্যাঁচিয়ে প্যাচিয়ে নানা কথার মারপ্যাঁচে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অবশেষে--"অভাবনীয় উন্নয়ন, অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।"

      " সম্মানীত পাঠকবর্গ দেশের"সু-শাষন" এবং "উন্নয়ন অগ্রগতি" দৃশ্যমান থাকাবস্থায় গনতন্ত্রের অনুপস্থীতি কিভাবে থাকে?উভয়ের প্রথম এবং প্রধান শর্তই হচ্ছে "গনতন্ত্র"। ইহা আমার বিশ্লেষন নয়--"রাজনীতি বিজ্ঞানের বিশ্লেষন।" আমাদের জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন যে-- "শুধুমাত্র নির্ভেজাল জাতীয় নির্বাচন একটি দেশের গনতন্ত্রের উপস্থীতি-অনুপস্থীতি নির্ণয়ের মুর্খ্য বিষয় নয়-'নির্বাচন অনুসঙ্গ মাত্র।' বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে বৃহৎ বা ক্ষুদ্রাংশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে গনতন্ত্রের শুন্যতা আছে "এইরুপ চিন্তা চেতনা ধারনকারিরা ষড়যন্ত্রের কীট মাত্র"। রাষ্ট্রের বহু অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে ''নির্বাচন ' একটি অনুষঙ্গ' মাত্র 'অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ' নয়।"

       গনতান্ত্রিক দেশের "নির্বাচন ক্ষমতাবদলের চিরন্তন নিয়মাতান্ত্রিক পদ্ধতি - অস্বীকারের কোন উপায় নেই। কিন্তু "নির্বাচনে ভারসাম্য রক্ষার জন্য সমশক্তি সম্পন্ন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব অপরিহায্য" ইহাও অস্বীকারের কোন উপায় নেই। বর্তমান সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার।জাতির জনকের আদর্শে লালিত সংগঠন এবং তাঁরাই জৈষ্ঠকন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষে দিবারাত্র পরিশ্রম করে দেশ ও জাতির জন্য জাতীয় ও আন্তজাতিক খ্যাতি অর্জনের মাধ্যমে 'জাতিকে মার্য্যদাবান-- -দেশকে উন্নয়ন অগ্রগতির' শীর্ষে নিয়ে যেতে প্রানান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

      বাংলাদেশকে রাজনীতিশুন্য, রাজপথ শুন্য করার  অপচেষ্টা স্বৈর শাষক, নির্বাচিত স্বৈর শাষকদের  বহুবার জাতি লক্ষ করেছে। কিন্তু কোন প্রকারের  স্বৈর শাষকের মনোবাঞ্চা  আওয়ামীলীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে সম্ভব করতে পারেনি। বর্তমান সময়ে  ক্ষমতাসীন সরকারের   কোনপ্রকার চেষ্টা ব্যাতিরেকে সরকার বিরুধী দল  ও গোষ্টি সমূহের অপরাজনীতির কারনে  রাজপথ, রাজনীতি শুন্যবস্থা বিরাজমান থাকা সত্বেও গনতন্ত্রের মানসকন্যা, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজকে গনতন্ত্রের অভিযাত্রায় রেখেছেন সুদৃড। দল এবং সরকারের সর্বত্র গনতন্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার প্রানান্তকর চেষ্টা অব্যাহত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন।উন্নয়ন, অগ্রগতির চলমান ধারা অব্যাহত রাখার নিমিত্তে তাঁর সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই আগামী দিনের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

     কুচক্রিমহলের নিয়ন্তর শত ষড়যন্ত্রের মধ্যে এবং দলের অভ্যন্তরে লুকানো  মীরজাপরদের ষড়যন্ত্র সত্বেও শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতা জাতির জনক  বঙ্গবন্ধুর আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সরকারের  প্রধানমন্ত্রীর "অবৈতনিক উপদেষ্টা" সজীব ওয়াজেদ (জয়)ও ইতিমধ্যে জাতির জন্য নিয়ে এসেছেন "সুশাষনের ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার' এর উপর 'প্রথম প্রবর্তন করা  আন্তজাতিক বিরল  স্বীকৃতি'।এর চেয়ে বিরল সম্মান আর কি হ'তে পারে?

      জাতি হিসেবে আমরা এতই অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাস করে মুজিব পরিবারের অসামন্য অবদান সমূহের মুল্যায়ন দুরের কথা--প্রত্যহ বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকারের নানা বিষয় অবদান প্রসংঙ্গে মুল্যায়নের যথাযথ প্রচারেও প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা আর অবহেলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছি"।
             
                       ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg