জামায়াতের নাম থেকে রাজনীতি সর্বত্রই শঠতা--নিষিদ্ধে বাঁধা কোথায়? ________________________________________________________________________ অনেকদিন থেকে কিছু লিখতে পারিনি নানাহ কারনে।অদ্য লিখতে বসে উপজিব্য বিষয় খুঁজতে গিয়ে মনের ভিতরে ভীতি এবং উৎকন্ঠার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বারবার উঁকি দিয়ে জানান দিচ্ছে-"আমিই লেখার আবশ্যকীয় উপাদান"।আমাকে নিয়ে লেখ এবং ফ্যাসিষ্ট রাজনীতি থেকে সরলপ্রান ইসলাম ধর্মের অনুসারি এবং বাংলদেশকে রক্ষায় যৎকিঞ্চিত অবদান রাখার চেষ্টায় ব্রতি হও। যথোপযুক্ত নির্দেশনায় লেখায় ব্রতি হয়ে জামায়াতের উত্থান পর্বের শঠতা, রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শঠতা, বাংলাদেশকে অদ্য পয্যন্ত স্বীকার না করেও রাজনীতি বহাল রাখা, ছাত্র সংগঠনের উৎপত্তি ও বিকাশ ইত্যাদি অনেকগুলী বিষয় মনের আঙ্গীনায় একত্রে জড়ো হয়ে "ট্রাফিক জ্যাম"করে দিয়েছে ভাবনা গুলীকে। সবগুলী বিষয় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনমনে প্রতিনিয়ত দোলা দিয়ে যাচ্ছে-সময়মত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল সরকারে থেকেও কেন কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছেনা"? প্রশ্নটি ইতিমধ্যে সর্বস্তরে ঘুরপাক হয়ে উত্তরের সন্ধানে একাধিক গভেষনাগারে নিরিক্ষার বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়েছে। 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম' (নির্বাচন কমিশনের কারনে) এবং তাঁদের রাজনীতি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সরকার ধীরে চলনীতি গ্রহন করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনগনের উৎকন্টা বাড়িয়ে দিচ্ছেন।উচ্চ আদলতের সুনির্দিষ্ট রায় এবং জনগনের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্বেও বিষয়টি সরকার তেমন জোরালোভাবে নিচ্ছেনা। ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দেন আদালত। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সর্বস্তরের মানুষের দাবি ছিল, অবিলম্বে নিষিদ্ধ হোক জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি। কিন্তু এখনো দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়নি। আমরা যারা ৭১ পরবর্তি স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটিতে পড়ুয়া ছিলাম-তাঁরা দেখেছি শিবির নামক ফ্যসিষ্ট ছাত্র সংগঠনটির উত্থান এবং তাঁদের প্রলোভিত কর্ম তৎপরতা। স্বচক্ষে দেখা সেই সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নাগরীক বেশী বেশী উৎকন্ঠিত সরকারের প্রলম্ভিত জামায়াত শিবির নিষিদ্ধের কর্মতৎপরতায়। আমরা ভীত হয়ে পড়ি যখন মনে পড়ে শিবিরের কর্মী সংগ্রহের অভিনব প্রতারনা মুলক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে কোমলমতি শিশু কিশোরদের মেধা ও মননে এবং তাঁদের ধ্যান ধারনায় ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে মগজ ধোলাইয়ের প্রক্রিয়া।যে প্রক্রিয়ায় শিশুদের অভিভাবকেরাও বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা বা সুযোগ থাকেনা।কারন প্রশিক্ষিত শিবির ক্যাডারদের আচরনে অস্বাভাবিক নম্রতা শিশু কিশোরদের অভিভাবককেও তাৎক্ষনিক বিমুকদ্ধ করতে বেগ পেতে হয়না।চঞ্চল প্রকৃতির আদুরে ছেলেটি যখন মসজিদ মুখো হতে দেখা যায় তখন কোন অভিভাবকের ভাল না লেগে খারাপ লাগবে।ছেলটিকে যে ধর্মের নামে দিনে দিনে অ-ধর্মের দিকে টেনে নিচ্ছে ভদ্রবেশী মুখোশের অন্তরালে সঙ্গীয় ইবলিশ- সে বিবেচনা কয়জন অভিভাবকের মাথায় আসবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হায়নাদের দোসর আলবদর-আলশামস ও রাজাকার বাহিনী তথা জমায়েতে ইসলামীর সকল অপকর্মের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ। পরে ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের হত্যার পর জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা গ্রহন করে জামায়েতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় দুষিত ছাত্র সংগঠন 'ছাত্র সংঘের' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির' নামে ১৯৭৭ সালে এই সংগঠনটি পুরুজ্জিবিত করে। ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ নামে সংগঠনটি বাঙ্গালী নিরীহ মা-বোনদের ধর্ষণ, সংখ্যালঘু তথা মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের মা-বাবা, ভাইবোন সহ যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধাদের হত্যা, লুটপাট, ঘরবাড়ি জ্বালানো এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের ঠিকানা ও নানা তথ্য দেয়া ও নানা স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখেছিল। ৭১’এ বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন এই ছাত্র সংঘঠনটির সক্রিয় অংশগ্রহন ছিলো অসামান্য অবদান।১৯৭১ সালের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে ১৯৭৭’এ নতুন নামে অর্থাৎ “ নতুন বোতলে পুরোন মদ” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাঠে নামে নতুন উদ্দমে “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির"।মানব সভ্যতাকে ভুলুন্ঠিত করার ক্ষেত্রে ফ্যাসিষ্ট রাজনৈতিক 'জামায়াতে ইসলামী দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনটির তুলনাই হতে পারেনা। যেমন গুরুদের কর্ম তেমনি তাঁদের শিষ্যদের বাধ্যবাধকতার অনুসরন। শিবিরের প্রাথমিক লক্ষ্য হল মাদ্রাসা এবং স্কুলের কোমলমতি শিশুদের মাঝে ইসলামের ভয়-ভিতি এবং স্বল্প মুল্যের উপঢৌকন যেমন-পোস্টার, স্টিকার,ক্যালেন্ডার,গল্পের বই, চকোলেট,চুইমগাম ইত্যাদি উপহার সামগ্রি হাতে দিয়ে আকৃষ্ট করা।তারপর ধীরে ধীরে শিবিরের মূলমন্ত্রের দিকে ধাবিত করে একজন দক্ষ শিবির কর্মীতে রুপান্তরিত করা। একজন পূর্নাঙ্গ শিবির কর্মী হতে হলে একজন ছাত্রকে পার করতে হয় কমপক্ষে চারটি ধাপ- সমর্থক, কর্মী, সাথী ও সদস্য। এর মাঝে প্রথম ধাপ অর্থাৎ সমর্থক হওয়া থেকে কর্মী করাকালীন সময়টিতে অভিজ্ঞ শিবির কর্মীরা ঐ ছাত্রটিকে রাখেন কড়া নজরদারিতে। এই ধাপটি সফল ভাবে পার করতে পারলে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে স্বাবলম্বিতা ও নানা সাফল্যের স্বপ্নীল প্রলোভনে মোহিত করে ঐ ছাত্রটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে সদস্য করা পর্যন্ত আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। পরকালের ভয়ভীতি ভিতরে প্রবেশ করাতে পারলে দক্ষকর্মী গঠনে আর খুব একটা বেগ পেতে হয়না। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হওয়ার মাত্র পাঁচদিন আগে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল প্রবাসী মুজিবনগর সরকার। একই সঙ্গে চারটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছিল। অন্য তিনটি হলো, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম। ‘কোলাবরেটর একটিভিটিজ’ বা দালালি তৎপরতার দায়ে এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাষনামলেও জামায়াত সহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী সামরিক সরকারের আমলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তা উন্মুক্ত করে দেন এবং স্বাধীন দেশে রাজনীতি করার অধিকার পায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত সহ অন্য নিষিদ্ধ দল গুলি। জাতি হিসেবে আমাদের চরম দুর্ভাগ্য, তথাকথিত স্বাধীনতার পক্ষের এবং গনতন্ত্রের ধারক বাহক বলে দাবিদার একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সহযোগী হয়ে একসময় জামায়াত স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার ও হয়েছিল।সরকারের নীতি নির্ধারকতো বটেই তাঁদের দলের একাধিক নেতা মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিল। তবে একাত্তরের এই ঘাতক-দালালদের প্রতি জনমনে ঘৃণা যে এতটুকু ম্লান হয়নি সেটা দেখতেও আমাদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। জনতার রায়েই তাদের পতন হয়। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েক জনের মৃত্য্যুদণ্ড এবং অনেকের যাবজীবন কারাদন্ড কার্যকর হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালের একাধিক জামায়াত নেতার রায় প্রসংগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে সাম্প্রতিক সময় জামায়াত-শিবির চরম সন্ত্রাস-নাশকতা চালিয়ে তাঁদের ফ্যাসিষ্ট মনোবৃত্তির পরিচয় অক্ষুন্ন রাখতে সামান্যতম দ্বিধা করেনি। ঠিক যেন তাঁরা ৭১ কেই আবার মনে করিয়ে দিল। উচ্চ আদালত বলেছেন, জামায়াত সন্ত্রাসী সংগঠন। অভিজ্ঞজনদের অভিমত ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করেই সরকার নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু করা হচ্ছে না। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে খসড়া আইন তৈরি করা হলেও দুই বছরেও সেই আইনের খসড়া ওঠেনি মন্ত্রিসভায়। সবকিছু মিলিয়ে জামায়াত নিষিদ্ধ করা ও জামায়াতের বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই এখন হিমাগারে-যা জনমনে নিদারুন হতাশাও ভীতির সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত। এই কথাটি স্পষ্টই বলা যায় -বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিকতায়, জীবনাচারে ভদ্রতার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লালনকারী একমাত্র রাজনৈতিক দল জামায়াত।দলটির নেতাকর্মীগন ধর্মের মুখোশের আড়ালে অধর্মের যতসব নেতিবাচক দিক প্রতিপালন করা সম্ভব সব টুকুই বিরাজমান রেখে জনগনের চোখে ধুলো দেয়ার নীতি অনেকটা বছরই বলবৎ রাখতে পেরেছিলেন।লক্ষ করলে স্পষ্টই প্রতিয়মান হয় -তাঁদের দাঁড়ি গোঁফ থেকে শুরু করে পোশাক আশাকের বেলায়ও প্রকৃত ইসলামী কোন নীতি আদর্শের আওতায় পড়েনা।তাঁদের আচার আচরনে মাত্রাতিরিক্ত ভক্তি শ্রদ্ধা কেবলই শঠতার পরাকাষ্টা বৈ অন্য কিছু নয়। এক্ষেত্রে ইবলিশ শয়তানও তাদের নিকট হার মেনে মনুষ্যালয় ছেড়ে সপ্তম আকাশে আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছে। '৭১ এর পুর্ববত্তি রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে বর্বরতার ইতিহাস বাদ দিলেও '৭৫ পরবর্তী শিক্ষলয়ে মেধাবী ছাত্রদের হাত ও পায়ের রগ কাটা থেকে শুরু করে ২০১৪ ইং সাল পয্যন্ত সন্ত্রাস, নাশকতা, আগুন বোমা, ব্যাংক বীমায় আগুন ও লুটপাট, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার চক্রান্ত, সরকারি গাছ কর্তন, জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা সহ এমন কোন মানবতা বিরুধী কাজ নেই যা তাঁদের দ্বারা সংগঠিত হয়নি।সর্বশেষ বিভিন্ন নামে জঙ্গী তৎপরতায়ও শিবিরের সাবেক নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনমনে ভীতির সঞ্চার করছে। পরিশেষে বলা যায়,অতিভক্তি কখনই ভাল ফল ভয়ে আনেনি-চারিত্রিক শঠতা যাদের মধ্যে বিদ্যমান তাকলকরাই কেবল অতিভক্তি প্রদর্শন করে থাকে। রাজনীতির ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হতে পারেনা বা হয়না। জামায়াতের জম্ম, উত্থান,বিকাশ, বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে গভেষনায় প্রবৃদ্ধ হলেই -যে কোন সচেতন রাজনৈতিক কর্মীর অনুধাবন করা আদৌ কঠিন কোন বিষয় হবে বলে আমি মনে করিনা।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg