সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জামায়াতের নাম থেকে রাজনীতি সর্বত্রই শঠতা--নিষিদ্ধে বাঁধা কোথায়?
________________________________________________________________________
অনেকদিন থেকে কিছু লিখতে পারিনি নানাহ কারনে।অদ্য লিখতে বসে উপজিব্য বিষয় খুঁজতে গিয়ে মনের ভিতরে ভীতি এবং উৎকন্ঠার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বারবার উঁকি দিয়ে জানান দিচ্ছে-"আমিই লেখার আবশ্যকীয় উপাদান"।আমাকে নিয়ে লেখ এবং ফ্যাসিষ্ট রাজনীতি থেকে সরলপ্রান ইসলাম ধর্মের অনুসারি এবং বাংলদেশকে রক্ষায় যৎকিঞ্চিত অবদান রাখার চেষ্টায় ব্রতি হও।
যথোপযুক্ত নির্দেশনায় লেখায় ব্রতি হয়ে জামায়াতের উত্থান পর্বের শঠতা, রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শঠতা, বাংলাদেশকে অদ্য পয্যন্ত স্বীকার না করেও রাজনীতি বহাল রাখা, ছাত্র সংগঠনের উৎপত্তি ও বিকাশ ইত্যাদি অনেকগুলী বিষয় মনের আঙ্গীনায় একত্রে জড়ো হয়ে "ট্রাফিক জ্যাম"করে দিয়েছে ভাবনা গুলীকে। সবগুলী বিষয় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনমনে প্রতিনিয়ত দোলা দিয়ে যাচ্ছে-সময়মত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল সরকারে থেকেও কেন কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছেনা"? প্রশ্নটি ইতিমধ্যে সর্বস্তরে ঘুরপাক হয়ে উত্তরের সন্ধানে একাধিক গভেষনাগারে নিরিক্ষার বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়েছে।
'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম' (নির্বাচন কমিশনের কারনে) এবং তাঁদের রাজনীতি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সরকার ধীরে চলনীতি গ্রহন করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনগনের উৎকন্টা বাড়িয়ে দিচ্ছেন।উচ্চ আদলতের সুনির্দিষ্ট রায় এবং জনগনের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্বেও বিষয়টি সরকার তেমন জোরালোভাবে নিচ্ছেনা।
২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দেন আদালত। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সর্বস্তরের মানুষের দাবি ছিল, অবিলম্বে নিষিদ্ধ হোক জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি। কিন্তু এখনো দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়নি।
আমরা যারা ৭১ পরবর্তি স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটিতে পড়ুয়া ছিলাম-তাঁরা দেখেছি শিবির নামক ফ্যসিষ্ট ছাত্র সংগঠনটির উত্থান এবং তাঁদের প্রলোভিত কর্ম তৎপরতা। স্বচক্ষে দেখা সেই সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নাগরীক বেশী বেশী উৎকন্ঠিত সরকারের প্রলম্ভিত জামায়াত শিবির নিষিদ্ধের কর্মতৎপরতায়।
আমরা ভীত হয়ে পড়ি যখন মনে পড়ে শিবিরের কর্মী সংগ্রহের অভিনব প্রতারনা মুলক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে কোমলমতি শিশু কিশোরদের মেধা ও মননে এবং তাঁদের ধ্যান ধারনায় ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে মগজ ধোলাইয়ের প্রক্রিয়া।যে প্রক্রিয়ায় শিশুদের অভিভাবকেরাও বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা বা সুযোগ থাকেনা।কারন প্রশিক্ষিত শিবির ক্যাডারদের আচরনে অস্বাভাবিক নম্রতা শিশু কিশোরদের অভিভাবককেও তাৎক্ষনিক বিমুকদ্ধ করতে বেগ পেতে হয়না।চঞ্চল প্রকৃতির আদুরে ছেলেটি যখন মসজিদ মুখো হতে দেখা যায় তখন কোন অভিভাবকের ভাল না লেগে খারাপ লাগবে।ছেলটিকে যে ধর্মের নামে দিনে দিনে অ-ধর্মের দিকে টেনে নিচ্ছে ভদ্রবেশী মুখোশের অন্তরালে সঙ্গীয় ইবলিশ- সে বিবেচনা কয়জন অভিভাবকের মাথায় আসবে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হায়নাদের দোসর আলবদর-আলশামস ও রাজাকার বাহিনী তথা জমায়েতে ইসলামীর সকল অপকর্মের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ। পরে ১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের হত্যার পর জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা গ্রহন করে জামায়েতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় দুষিত ছাত্র সংগঠন 'ছাত্র সংঘের' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির' নামে ১৯৭৭ সালে এই সংগঠনটি পুরুজ্জিবিত করে।
১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্র সংঘ নামে সংগঠনটি বাঙ্গালী নিরীহ মা-বোনদের ধর্ষণ, সংখ্যালঘু তথা মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের মা-বাবা, ভাইবোন সহ যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধাদের হত্যা, লুটপাট, ঘরবাড়ি জ্বালানো এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের ঠিকানা ও নানা তথ্য দেয়া ও নানা স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখেছিল। ৭১’এ বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন এই ছাত্র সংঘঠনটির সক্রিয় অংশগ্রহন ছিলো অসামান্য অবদান।১৯৭১ সালের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে ১৯৭৭’এ নতুন নামে অর্থাৎ “ নতুন বোতলে পুরোন মদ” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাঠে নামে নতুন উদ্দমে “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির"।মানব সভ্যতাকে ভুলুন্ঠিত করার ক্ষেত্রে ফ্যাসিষ্ট রাজনৈতিক 'জামায়াতে ইসলামী দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনটির তুলনাই হতে পারেনা। যেমন গুরুদের কর্ম তেমনি তাঁদের শিষ্যদের বাধ্যবাধকতার অনুসরন।
শিবিরের প্রাথমিক লক্ষ্য হল মাদ্রাসা এবং স্কুলের কোমলমতি শিশুদের মাঝে ইসলামের ভয়-ভিতি এবং স্বল্প মুল্যের উপঢৌকন যেমন-পোস্টার, স্টিকার,ক্যালেন্ডার,গল্পের বই, চকোলেট,চুইমগাম ইত্যাদি উপহার সামগ্রি হাতে দিয়ে আকৃষ্ট করা।তারপর ধীরে ধীরে শিবিরের মূলমন্ত্রের দিকে ধাবিত করে একজন দক্ষ শিবির কর্মীতে রুপান্তরিত করা। একজন পূর্নাঙ্গ শিবির কর্মী হতে হলে একজন ছাত্রকে পার করতে হয় কমপক্ষে চারটি ধাপ- সমর্থক, কর্মী, সাথী ও সদস্য। এর মাঝে প্রথম ধাপ অর্থাৎ সমর্থক হওয়া থেকে কর্মী করাকালীন সময়টিতে অভিজ্ঞ শিবির কর্মীরা ঐ ছাত্রটিকে রাখেন কড়া নজরদারিতে। এই ধাপটি সফল ভাবে পার করতে পারলে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে স্বাবলম্বিতা ও নানা সাফল্যের স্বপ্নীল প্রলোভনে মোহিত করে ঐ ছাত্রটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে সদস্য করা পর্যন্ত আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়না। পরকালের ভয়ভীতি ভিতরে প্রবেশ করাতে পারলে দক্ষকর্মী গঠনে আর খুব একটা বেগ পেতে হয়না।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হওয়ার মাত্র পাঁচদিন আগে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল প্রবাসী মুজিবনগর সরকার। একই সঙ্গে চারটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছিল। অন্য তিনটি হলো, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম। ‘কোলাবরেটর একটিভিটিজ’ বা দালালি তৎপরতার দায়ে এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাষনামলেও জামায়াত সহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী সামরিক সরকারের আমলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তা উন্মুক্ত করে দেন এবং স্বাধীন দেশে রাজনীতি করার অধিকার পায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত সহ অন্য নিষিদ্ধ দল গুলি। জাতি হিসেবে আমাদের চরম দুর্ভাগ্য, তথাকথিত স্বাধীনতার পক্ষের এবং গনতন্ত্রের ধারক বাহক বলে দাবিদার একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সহযোগী হয়ে একসময় জামায়াত স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার ও হয়েছিল।সরকারের নীতি নির্ধারকতো বটেই তাঁদের দলের একাধিক নেতা মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিল। তবে একাত্তরের এই ঘাতক-দালালদের প্রতি জনমনে ঘৃণা যে এতটুকু ম্লান হয়নি সেটা দেখতেও আমাদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। জনতার রায়েই তাদের পতন হয়। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েক জনের মৃত্য্যুদণ্ড এবং অনেকের যাবজীবন কারাদন্ড কার্যকর হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালের একাধিক জামায়াত নেতার রায় প্রসংগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে সাম্প্রতিক সময় জামায়াত-শিবির চরম সন্ত্রাস-নাশকতা চালিয়ে তাঁদের ফ্যাসিষ্ট মনোবৃত্তির পরিচয় অক্ষুন্ন রাখতে সামান্যতম দ্বিধা করেনি। ঠিক যেন তাঁরা ৭১ কেই আবার মনে করিয়ে দিল।
উচ্চ আদালত বলেছেন, জামায়াত সন্ত্রাসী সংগঠন। অভিজ্ঞজনদের অভিমত ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করেই সরকার নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু করা হচ্ছে না। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে খসড়া আইন তৈরি করা হলেও দুই বছরেও সেই আইনের খসড়া ওঠেনি মন্ত্রিসভায়। সবকিছু মিলিয়ে জামায়াত নিষিদ্ধ করা ও জামায়াতের বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই এখন হিমাগারে-যা জনমনে নিদারুন হতাশাও ভীতির সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত।
এই কথাটি স্পষ্টই বলা যায় -বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিকতায়, জীবনাচারে ভদ্রতার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লালনকারী একমাত্র রাজনৈতিক দল জামায়াত।দলটির নেতাকর্মীগন ধর্মের মুখোশের আড়ালে অধর্মের যতসব নেতিবাচক দিক প্রতিপালন করা সম্ভব সব টুকুই বিরাজমান রেখে জনগনের চোখে ধুলো দেয়ার নীতি অনেকটা বছরই বলবৎ রাখতে পেরেছিলেন।লক্ষ করলে স্পষ্টই প্রতিয়মান হয় -তাঁদের দাঁড়ি গোঁফ থেকে শুরু করে পোশাক আশাকের বেলায়ও প্রকৃত ইসলামী কোন নীতি আদর্শের আওতায় পড়েনা।তাঁদের আচার আচরনে মাত্রাতিরিক্ত ভক্তি শ্রদ্ধা কেবলই শঠতার পরাকাষ্টা বৈ অন্য কিছু নয়। এক্ষেত্রে ইবলিশ শয়তানও তাদের নিকট হার মেনে মনুষ্যালয় ছেড়ে সপ্তম আকাশে আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছে।
'৭১ এর পুর্ববত্তি রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে বর্বরতার ইতিহাস বাদ দিলেও '৭৫ পরবর্তী শিক্ষলয়ে মেধাবী ছাত্রদের হাত ও পায়ের রগ কাটা থেকে শুরু করে ২০১৪ ইং সাল পয্যন্ত সন্ত্রাস, নাশকতা, আগুন বোমা, ব্যাংক বীমায় আগুন ও লুটপাট, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার চক্রান্ত, সরকারি গাছ কর্তন, জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা সহ এমন কোন মানবতা বিরুধী কাজ নেই যা তাঁদের দ্বারা সংগঠিত হয়নি।সর্বশেষ বিভিন্ন নামে জঙ্গী তৎপরতায়ও শিবিরের সাবেক নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনমনে ভীতির সঞ্চার করছে।
পরিশেষে বলা যায়,অতিভক্তি কখনই ভাল ফল ভয়ে আনেনি-চারিত্রিক শঠতা যাদের মধ্যে বিদ্যমান তাকলকরাই কেবল অতিভক্তি প্রদর্শন করে থাকে। রাজনীতির ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হতে পারেনা বা হয়না। জামায়াতের জম্ম, উত্থান,বিকাশ, বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে গভেষনায় প্রবৃদ্ধ হলেই -যে কোন সচেতন রাজনৈতিক কর্মীর অনুধাবন করা আদৌ কঠিন কোন বিষয় হবে বলে আমি মনে করিনা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন