আগষ্ট বাঙ্গালীজাতী, বাংলাদেশের বেদনার অশ্রু ঝরানোর মাস। ______________________________________________ আগষ্ট মাসটি বাঙ্গালী, বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতির জন্য ব্যাথাতুর মাস।প্রকৃত বাঙ্গালী আনমনে এই মাসটিতে বুকের অন্তজ্বালা অনুভব করে-ব্যাথার সাগরে নিমজ্জিত থাকে। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃংখলমুক্ত করে যে মহামানব বাঙ্গালী জাতিকে জাতিসত্বার অস্তিত্বের অধিকারী করেছেন-সেই মহামানবকে 'বাঙ্গালী জাতি সত্বার' পরিচিতি অর্জনের পর, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছে।এই আগষ্ট মাসেই তাঁর জীবিত দুই কন্যার মধ্যে জৈষ্ঠকন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জনসমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার শেষ পয্যায় বোমা-গুলীর ঝড়োবৃষ্টির তান্ডব চালিয়ে হত্যা করতে গিয়ে আই,ভি রহমান সহ ২৯জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল।২১শে আগষ্ট ঘাতক চক্রের সেই বিভীষিকাময় সান্ধ্য তান্ডবের শিকার হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী আজও তাঁদের শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে পঙ্গুত্বের জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।২১শে আগষ্টের হামলাটি তৎসময়ের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সংঘটিত হয়েছিল-দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদেরই 'পেইডএজেন্ট" সাজানো একমাত্র হামলাকারী' নোয়াখালীর দিনমজুর জর্জমিয়ার কারামুক্তি এবং তাঁর মায়ের বক্তব্য থেকে। ১৯৭১ ইং সালের ১৬ই ডিসেম্বরের আগে চারহাজার বছরের ইতিহাস পয্যালোচনা করে দেখা গেছে-বাঙ্গালী জাতি কখনই স্বাধীনতা উপভোগ করেনি, বাঙ্গালীরাও যে সমৃদ্ধ ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-কৃষ্টির অধিকারী একটি স্বতন্ত্র জাতি-তাঁর উপলব্দি বা পরিচিতি বা স্বাধীন ভুখন্ড অভাগা জাতীর কোনটাই ছিলনা। পরাধীনতায় থেকেও বাঙ্গালী যে বীরের জাতি তাঁর প্রমান রাখতেও কার্পন্য করেনি।তাই দেখা যায় বিদেশী শাষক শোষকদের অপশাষনের বিরুদ্ধে স্বাধীন ভুখন্ডের আশায়,জাতিসত্বার অন্তনিহীত চাপা আর্তনাদের বহিপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসম বিদ্রোহের দাবানলে জ্বলে উঠেছে অঞ্চলভিত্তিক সাহষী বীরদের নেতৃত্বে। ক্ষুদিরাম, তিতুমীর সহ আরো অনেক সাহষী বীর স্বাধীনচেতা যোদ্ধারা তার প্রমান রেখে গেছেন মহাভারতের সমগ্র ইতিহাস জুড়ে। কালের প্রবাহে অনেক রথী মহারথী স্বপ্ন বুনেছেন অন্তরে, বহি:প্রকাশও ঘটিয়েছেন ক্ষেত্র বিশেষ- বাঙ্গালী জাতিসত্বা, স্বাধীনতা, সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। বাঙ্গালী জাতিসত্বা বিকাশের ক্রমবর্ধমান পরিক্রমায় কারো অবদানই তুচ্ছ নয়। কিন্তু সকলকে ছাড়িয়ে ফরিদপুরের টুঙ্গিপাঁড়ায় পড়ন্ত জমিদার বংশের লিকলিকে এক বালক, নাম তাঁর খোকা, অন্তর দিয়ে অনুভব করেছেন কিশোরত্বে-বাঙ্গালী জাতী পরাধীন, তাঁর জাতী সত্বার কোন স্বীকৃতি নেই, নীজস্ব কোন আবাসস্থল নেই, নীজ ভুখন্ডে অন্যের গোলাম মাত্র। দীর্ঘ তেইশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, বিরামহীন সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ, অসীম সাহষে ঘুমন্ত ভেঁতু বাঙ্গালীকে জাতীসত্বায় দীক্ষা দিয়ে জাগ্রত করে তোলেন। তিনি নীজে হয়ে উঠেন 'খোকা' থেকে ছাত্রজনতার 'মুজিবভাই' বাঙ্গালীর 'অন্তর আত্বা।' তাঁর পরবর্তী ইতিহাস শুধুই ত্যাগ, বিচক্ষনতা, তীক্ষ্ম বুদ্ধি, সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনার বহি:প্রকাশ,চতুরতা,তেজস্বী নেতৃত্ব, বাগ্মিতার মায়াজাল বিচিয়ে অন্তরজয়ের জগৎ বিখ্যাত উদাহরন সৃষ্টির ইতিহাস।ছাত্রজনতার বঙ্গবন্ধু ক্রমে বাঙ্গালী মননে প্রাপ্তির অদম্য আক্ষাংকাকে শীর্ষস্তরে নিয়ে "নো রিটার্নের স্থানে" পৌঁছে দেয়ার কাব্যিক ইতিহাস সৃষ্টিকারী মহামানবে রুপান্তরের ইতিহাস। 'বঙ্গবন্ধু মুজিব' নয়মাসের সসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অশিরীরি উপস্থীতিতে বাঙ্গালীর ত্রানকর্তা, বাঙ্গালী জাতীসত্বার চুড়ান্ত উম্মেশকারী "বাঙ্গালী জাতীর জনক 'বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান'' হয়ে উঠেন। সেই মহান নেতা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই ১৯৭৫ ইং সালের ১৫ই আগষ্ট বিভিষীকাময় কালরাতের অন্ধকারে একদল বিপদগামি ভাড়াটিয়া সেনা সদস্য স্বপরিবারে হত্যা করে। যারা বাংলা দেশের অভ্যুদয় মেনে নিতে পারেনি, বাঙালি জাতীসত্বাকে মেনে নিতে পারেনি, বাঙ্গালীর স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি, বাঙ্গালী জাতী বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াক চায়নি-দেশী বিদেশী শত্রু তাঁরাই বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করেছে। সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং তাঁদের এদেশীয় দোষরেরা কোনো দিনও চায়নি, বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। ১৯৪৭ইং সালে বাঙ্গালীরা বিনারক্তক্ষয়ে স্বাধীনতা পাওয়ার মহেন্দ্রক্ষন হাতের মুঠায় পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি-শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ন্যায় বিচক্ষন জাতীয় নেতার অভাবে। অবশ্যম্ভাবী সেই স্বাধীনতা চিনিয়ে নিয়ে গেছে পশ্চিম পাকিস্তানী, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি লালনকারী, শিয়াধর্মালম্বি, ভারতের সিন্ধু রাজ্যের অধিবাসী, বিলেতে শিক্ষা গ্রহনরত: চতুর ব্যারিষ্টার কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।প্রকৃত ধর্মজ্ঞান না থাকা সত্বেও ধর্মের ঠিকাদারী গ্রহন করে সাম্প্রদায়িকতার বীজবাস্প সমৃদ্ধ "দ্বি-জাতিতত্ব" মন্ত্রের জালে নিবিষ্ট করে অশিক্ষিত বাঙ্গালীকে ধোঁকা দিয়ে দুই হাজার মাইলের ব্যবধানে পাকিস্তানের সাথে সংযুক্ত করে-শাষন শোষনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করতে সক্ষম হন।পুর্ববাঙলা মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর দুরদর্শী নেতৃত্বে ২৩বছরের সংগ্রাম সাধনায় মুক্ত হলেও অদ্যাবদি পশ্চিম বঙ্গ শোষন শাষনের যাতাকল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। সাম্রাজ্যবাদীমহল বঙ্গের এক অংশকে শক্তিধর ভারতের সাথে অন্য অংশকে বিজতীয় পাঞ্জাবী-পাঠানদের সাথে যুক্ত করে দেন। বাঙ্গালী জাতীকে সংখ্যালঘু ও শক্তিহীন করে শোষন শাষনের যাতাকলে পৃষ্ট করা শুরু করে উভয় দেশ। এমনি এক প্রেক্ষাপটে নতুন দিগন্তের সুর্যের আভা নিয়ে উদিত হয় মহাকালের এক মহাকবি।ধীরে ধীরে সুয্যের আলোকচ্ছটা উজ্বল রশ্মি ছড়িয়ে পুর্ববাংলাকে আলোকিত করতে থাকে। তিনিই প্রথম শুনালেন স্বাধীনতার কবিতা, ভীতু বাঙ্গালী জাতীকে অকতোভয় সেনানী করে গড়ে তোলে তাঁর আলোকরশ্মী।তিনি জাতীসত্বার দিশারীতে রুপান্তরীত হয়ে পুর্ববাংলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পয্যন্ত বিরামহীন ছুটে চলেছেন জাতিসত্বা উম্মেশ ঘটানোর কঠিনতম স্বপ্নের বার্তা নিয়ে। দীর্ঘ তেইশ বছর একটানা জেল জুলুম, নিয্যাতন, নিপীড়ন, মৃত্যুকুপ পরোয়া না করে, সাড়ে সাতকোটি বাঙ্গালীকে জাতীয়তাবোধের চেতনায় শানীত করে বাঙ্গালী মননে স্বাধীনতার স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম হন। অবশেষে মহানেতা জাতিকে শুনালেন তাঁর অমর কবিতা,""এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।"এমন কবিতার অমর সুধা বাঙালী জীবনে আর কোন দিন শুনেনি, দুনিয়ার কোথাও এই সুর সুদুর অতীতে বেজে উঠেনি। মোহমন্ত্রের জালে মুগ্ধ বাঙ্গালী নিমিষে পরিনত হলো অসীম সাহসী দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মুক্তিকামি জাতি হিসেবে।তাইতো বাঙালী সেদিন আধুনিক দুর্দষ্য তিরানব্বই হাজার সেনাসদস্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঁশের লাঠি হাতে। চিনিয়ে এনেছিল জয় মাত্র নয়মাসে।পরাস্ত করেছিল সাম্রাজ্যবাদের দালাল এদেশীয় দোষরদের।কিন্তু বাঙালীতো কোন দিন জম্মেও স্বাধীনতা দেখেনি।করবে কিভাবে উপভোগ? রক্তে রয়ে গেছে বিদেশীদের শাষন শোষনের বীষক্রিয়া? আজ্ঞে-জাঁহাপনা বলার চিরায়ত অভ্যেস কি আর সহজে বদলায়? মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ওই সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তে হত্যা করে মহাকালের মহামানব, সর্ব যুগের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের।মহান আল্লাহর অসীম কৃপায় বিদেশে অবস্থানের কারনে বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা। আজকের আধুনিক, উন্নত, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। এমন একসময়ে ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মিশনে নামে, যখন সদ্য স্বাধিনতা প্রাপ্ত দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির স্বপ্ন বুননে নিমগ্ন জাতির জনক-সমগ্র জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করার মহতী চিন্তায় বিভোর। পৃথিবীর বুকে উন্নত, সমৃদ্ধ, বিজ্ঞান মন্স্ক জাতি গঠনের জন্য তাঁর আজীবনের লালীত স্বপ্ন শোষন মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন।সেই লক্ষে পৌনে দুইশত বছরের ইংরেজ শাষনের রীতি নীতির আমুল পরিবর্তন করে বাঙ্গালী জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মানের ঐতিহাসিক দর্শন "বাকশাল"। অল্প সময়ের মধ্যে সুফল ও আসা শুরু করেছিল। সমাজের প্রত্যেক স্তরে নির্বাচিত প্রতিনীধির মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার এক অভিনব চিন্তা চেতনার কর্মসুচি। এমন চিন্তা চেতনা শুধুমাত্র যুগশ্র্রেষ্ঠ মহামানবের কর্মে এবং চিন্তায় আসতে পারে। জাতির জনককে হত্যার পর বিশ্বের তাবৎ মনীষিগন স্তম্ভিত হয়ে শুধু একটি বাক্যই উচ্ছারন করেছিলেন-'বাংলাদেশ একজন মহামানব, সমাজ সংস্কারক হারাল।বিশ্বহারাল শোষিত বঞ্চিত মানুষের মহান নেতা।"১৬ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইং বি,বি,সি বাংলা থেকে সেদিন সর্বক্ষন শুধু বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, তাঁর যুগশ্রেষ্ঠ নতুন দর্শন 'বাকশাল' নিয়েই আলোচনা করেছে। তাঁরা নীজেরাই স্বীকার করে বলেছিল, ইংরেজ শাষনের পর তাঁদের রেখে আসা আইন কানুন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, যোগপযোগী করার দু:সাহষ আর কোন নেতাই দেখাতে পারেনি এবং কি মহাত্মা গান্ধীজিও না। দীর্ঘ শাষনে অভ্যস্ত সেই আইন কানুন পরিবর্তন অবশ্যই কঠিনতম পদক্ষেপ। সেই কঠিন এবং কন্টকাকীর্ন কাজটি করার পদক্ষেপ নিতে পারে একমাত্র যুগশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষগন। জাতীরজনক মনেপ্রানে বাঙ্গালী, বাংলাদেশকে ভালবাসতেন বলেই জীবনবাজী রেখে দেশকে স্বাধীন করার প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন। তেমনি 'বাকশাল' গঠন করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক আইনকানুন প্রবর্তন করে দেশ ও জাতীকে ''উন্নত সমৃদ্ধ' করার প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন- বাংলাদেশের মহাননেতা, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। জাতির জনকের অকাল মৃত্যুর পর দেখতে দেখতে কেটে গেল ৪৩টি বছর। আজও কি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে বৃটিশদের রেখে যাওয়া আইন কাঠামো? আজও কি বিচারের বানী নির্বিত্তে কাঁদেনা? আজও কেন স্বচ্ছ বিচারের আশায় ট্রাইবুনাল করার উদ্যোগ গ্রহন করার প্রয়োজন হয়? আজও কি সমাজের সর্ব অঙ্গে দুর্নীতির কালোছায়া দূর করা সম্ভব হয়েছে? আজও কি দেশের সম্পদ লুটপাট করে আঙ্গুলফুলে কলাগাছ হচ্ছেনা? আজও কি শ্রমিক তাঁর ন্যায্য মুজুরীর জন্য রাজপথে তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হচ্ছেনা? আজও কি কৃষক সারের দাবী করতে গেলে তার বুকে গুলী চালানো হয়না?আজও কি বন্ধ হয়েছে সরকারী অর্থ আত্বসাৎ করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার দৃষ্টিকুটু প্রবনতা? পরিবর্তন মানুষ মেনে নানেয়ার অভ্যেস চিরায়াত। জননেত্রী দেশরত্ন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রারম্ভে অনেকেই দাঁত বের করে হাসতে দেখেছি। অপ্রীয় হলেও সত্য- কটুক্তি করতেও অনেকের মুখে আটকায়নি।এখন দেখা যায় তাঁরাই সেই ডিজিটালের সুযোগ সর্বাজ্ঞে ব্যাবহার করার জন্য উদগ্রীব। এতবছর পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশের মনীষিরা যখন ইতিবাচক কথা বলে-তখন একটি কথাই মনে পড়ে-'গাধা পানি খায় তবে-গোলা করে খায়।' অর্থাৎ গাদাকে স্বচ্ছ পানিতে নামিয়ে দিলে সে পানিকে এমন ভাবে গোলা করে-যাতে তাঁর চেহারা পানিতে ভেসে না উঠে। আমাদের অভাগা বাঙ্গালী জাতীরও হল ঠিক একই অবস্থা। যে মুজিব-ইন্দিরা মৈত্রী চুক্তিকে গোলামীর জীঞ্জির আখ্যা দিয়ে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথ প্রসস্ত করা হয়েছিল,সেই গোলামী চুক্তি তাঁর কন্যার হাতে বাস্তবায়নের উদ্যোগে জানানো হলো স্বাগতম। বলা হল বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী অর্জন।শেখ হাসিনাকে দেয়া হল 'দেশরত্ন' উপাধি।এই আমরা বাংলা দেশের জনগন এই আমাদের দেশহিতৌষী সুযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজ। মুলত: ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি-হত্যা করা হয়েছিল তাঁর দর্শনকে,বাঙালী জাতীয়তাবোধকে, সর্বোপরি বাংলাদেশকে। বিশ্বের দেশ সমুহ যখন একে অন্যের চিন্তা চেতনা, দর্শন ধার করে রাষ্ট্রীয় নীতিতে সংযোজন করে দেশ পরিচালনায় ব্যাস্ত-তখনি বাঙ্গালী জাতির জনকের মেধা থেকে বের হল এক অনন্য চিন্তা চেতনার রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনীক দর্শন।ইত্তেফাক কতৃপক্ষ যার নাম রেখেছিলেন-"বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ সংক্ষেপে (বাকশাল)। বাকশালই হচ্ছে মৌলিক গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থা। রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত, গনতন্ত্রের সর্বত্তম ব্যাবহারের বৈজ্ঞানীক উপায়। বিশ্বের কোন জাতির কোলে বংগবন্ধু সমতুল্য মহামানব, ধর্মসংস্কারক, মানবাতাবাদী,গনতন্ত্রের পুজারি, অসীম সাহসী নেতা জম্মগ্রহন করেনি,ভবিষ্যতে করবে কিনা সন্দেহ আছে। অশুভশক্তি, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তাঁর বদলা নিল চরম মুল্যে।তাঁরা বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের উম্মেষকারীর পরিবার সহ ধ্বংস করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। শুধু তাই নয় তাঁর পরিবারের একমাত্র জীবিত দুই কন্যার জীবন কেড়ে নিতেও বার বার ফনা তুলে ফোঁস ফোঁস করছে অবিরত।২১শে আগষ্ট তেমন এক রক্তস্নাত প্রচেষ্টার অংশ। অশুভ শক্তির একমাত্র চেষ্টা বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের একমাত্র নেতৃত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ আইয়ামীলীগকে ধংস করা। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে হলে তাঁর নেত্রী একমাত্র অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক-বাহক, পৃষ্টপোষক, বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের জম্মদাতার ললনা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। তাইতো দেখা যায় কমপক্ষে উনিশ বার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অশুভ শক্তি ব্যর্থ অভিযান পরিচালনা করতে। বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতী যতদিন থাকবে বিশ্ব মানচিত্রে ততদিন ঘুরে ঘুরে ফিরে আসবে আগস্ট বাঙ্গালী-বাংলাদেশের বেদনার অশ্রু ঝরাতে। " জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

'আগস্ট ' বাঙ্গালী, বাঙ্গাজাতী, বাংলাদেশের এক অভিশপ্ত বেদনা বিধুর অশ্রুসিক্ত মাস।এই মাসেই অশুভ শক্তি কেড়ে নিয়েছে বাঙ্গালী সত্বার জম্মদাতাকে তাঁর পরিবার সহ। এই আগষ্ট মাসেই অশুভশক্তি কেড়ে নিতে চেয়েছিল বাঙ্গালী চেতনার লালনকারী জম্মদাতার জৈষ্ঠললনা শেখ হাসিনাকে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg