শোকের মাস আগষ্টে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী দর্শন "বাকশালের" মহত্বই কেবল মনে পড়ে-- _________________________ শোকের মাস আগষ্ট।বাঙ্গালি তাঁর বাঙ্গালীত্বের ইতিহাসের চরম সত্যকে বুকে ধারন করে অনন্তকাল বয়ে বেড়াবে।মহাভারতে বাঙালীর উপস্থিতি ছিল আবহমানকাল থেকেই, কিন্তু স্বাতন্ত্রতা ছিল না, স্বাধীনতা ছিল না, ছিল না কোন সার্বভৌম রাষ্ট্র।তিলে তিলে নিজের এবং পরিবারের জীবন বিপন্ন করে, যে বাঙ্গালী সব কিছুই এনে দিলেন,তাঁকেই হত্যা করা হল-তাঁরই সৃষ্ট বাংলাদেশে। আগষ্ট মাস এলে জাতি শোক পালনের পাশাপাশি তাঁর জীবনের উল্লেখ্যোগ্য ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেন।স্বরণ করেন প্রত্যেক বাঙ্গালী নাগরিক, তবে বিশ্লেষনে পার্থক্য আছে বিস্তর। অনেকেই বলতে শুনা যায় বা লেখনীতেও প্রকাশ করেন- '৭৫ইং সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য বা গনতন্ত্র হত্যা করার জন্য @১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞটি সংঘঠিত হয়েছিল। আমি মনে করি তাঁরা হয় না জেনে বলছেন, নয় তারা ভাল করে জানেন বিধায় বংঙ্গবন্ধুর মহত্বকে খাটো করে উপস্থাপন করার হীনমন মানষীকতায় ভোগার কারনেই কথাটা বলেন।বাকশাল প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেয়ার এক বছর আগে বংঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল-তখন কেন হত্যা করার চেষ্টা হল? দু::খ্যজনক হলেও সত্য যে, তারাই বলার চেষ্টা করেন বাকশাল একদলীয় শাষন,একনেতার শাষন।তারাই বলেন গনতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল বাকশালের মাধ্যমে।এই প্রসংঙ্গে তাঁরা সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি গনতন্ত্রের কথাটা উল্লেখ করতে চান। জ্ঞানপাপীরা গনতন্ত্রের উল্লেখ সংবিধানে ঠিকই দেখেন,গনতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্র এর সংজ্ঞায় কি সুনির্দিষ্টতা আছে বেমালুম দেখেন না। চিরন্তন সত্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু একদিনের জন্যও সংবিধানের বাহিরে গিয়ে দেশ শাষন করেননি।কোন অবস্থায় বাকশাল একদলীয় শাষন ছিল না।একনেতার শাষনও ছিল না। মূলত: বাকশাল ছিল সব রাজনৈতিক দল,পেশাজীবি, রাজনীতিবীদ, শুসীল সমাজের সমন্বয়ে গঠীত জাতীয় উন্নয়ন, ন্যায়ভিত্তিক আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার চলমান সংবিধান সম্মত 'জাতীয় দল।' বাকশালের উদ্দেশ্য ছিল অবশ্যই সংবিধান স্বীকৃত, মুক্তিযুদ্ধের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিক। যে উদ্দেশ্যে বা যে স্বপ্ন নিয়ে তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগন ১৯৭১সালে মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল-শোষন মুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষ,গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষকে সামনে রেখে--তাঁরই বাস্তব রুপায়ন হচ্ছে "বাকশাল"। আঁতুড় ঘরে হত্যা করা দর্শনের বিরুদ্ধে একতরফা ২১ বছর অপ্প্রচার চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর মহৎ দর্শনকে জনমনে ভীতিকর শাষন ব্যাবস্থা রুপে চিত্রিত করার তাঁদের চেষ্টা শতভাগ সফল হয়েছে আওয়ামী নেতাদের এইভসম্পর্কীত বিষয়ে বাস্তব কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করার কারনে। আমি নিবিড়ভাবে পয্যবেক্ষন করে দেখেছি- আওয়ামী লীগের বহু বড় নেতার আলোচনায় অংশ নিয়েছি,আওয়ামীঘেষা বহু বুদ্ধিজীবির প্রবন্ধ নিবন্ধ পড়ে দেখেছি-কারো আলোচনা বা লেখনীতে বাকশালের বিস্তারীত বিবরণ তেমন ভাবে বিধৃত হয়নি। বিরুধীরা ইনীয়ে বিনীয়ে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের শাষন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে- যে দোষ বড় করে দেখাতে চায় "বাকশাল" এই বুঝি হয়ে গেল।তুলনা মুলক আওয়ামী নেতারা 'বাকশালের' মহত্ত প্রচার ও প্রসারে বা লেখালেখিতে বিরুধীদের তুলনায় একেবারে নগন্যই বলা চলে। আওয়ামী নেতারা উপলব্দি করার আদৌ কোন চেষ্টা কস্মিনকালেও করেনি যে- ' বাকশাল' দর্শনেই জাতীর জনকের সকল মহত্ত নিহীত।তৎসময়ের দুই পরাশক্তির শীতল যুদ্ধের কারনে বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত ছিল-এই সত্যটি অস্বীকার করার কি কোন উপায় আছে? মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিরুধীতাকারী শক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ সহযোগীতাকারী শক্তি সমাজতান্ত্রীক বিশ্ব- ইহা কি মিথ্যা? সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি গ্রহন করার বিকল্প রাজনৈতিক কোন অবস্থান কি ছিল বা এখনও আছে? পরাশক্তিদ্বয়কে অবজ্ঞা করে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শাষনকায্য পরিচালনা, উন্নয়ন, অগ্রগতি, সামাজিক স্থীরতা নিশ্চিত করার বিকল্প রাজনৈতীক অবস্থান আর কি হতে পারে? রাষ্ট্রীয় নীতি স্থীরকৃত ছাড়া শাষন ব্যবস্থা কি করে গড়ে তোলা সম্ভব হত? বৃটিশ-পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো একান্তই যদি পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে তাহলে দেশ স্বাধীন করার কি এমন কারন ছিল? ৪৫ বছর শাষক শ্রেনীর আইনী কাঠামো যথারীতি অনূসরন করে বাংলাদেশ কি কাংখিত উন্নয়ন অগ্রগতি লাভ করেছে? সমাজ কি শোষন বঞ্চনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছে? সম্পদের সুষম বন্টনের নীতি কি অনুসৃত হয়েছে? ধনী কি আরো ধনী হয়নি? বাইশ পরিবারের স্থান কি বাইশ হাজার পরিবার দখল করেনি? ধনীক শ্রেনী সৃষ্টির জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল? মুক্তিযুদ্ধের কোন অঙ্গীকারই কি ছিলনা? যদি কোন উদ্দেশ্য নাইবা থাকে তবে কেন, কি উদ্দেশ্যে আপামর নিরস্ত্র বাঙ্গালীজাতী সসস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি সমূহের একতরফা অপ-প্রচারের কারনে জনমনে 'বাকশাল' সম্পর্কে প্রচুর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সম্মূখ্যে বাকশালের ইতিবাচক দিকগুলী এবং তখনকার সময়ের বিশ্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থসামাজিক পরিস্থীতি তুলে ধরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্ব যদি তাঁরা বা অন্য কোন মহল বিবেকের তাড়নায়ও কাঁধে তুলে নেয়- তাহলে বঙ্গবন্ধুর পরিপক্ক রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ সম্পর্কে নতুন প্রজর্ম্মের বহু ভুল ধারনার অবসান হতে পারে,এই আমার বিশ্বাস। 'জাতীয়দল' গঠনের ধারনা নতুন কোন আবিস্কার নয়, আধূনীক বিশ্বের দেশে দেশে রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক সংকটে এই প্রকৃতির সরকার গঠনের উদ্যোগ সময়ে সময়ে দেখা যায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁর একাধিক বক্তৃতা-বিবৃতিতে 'বাকশাল' যে একটি সাময়িক রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা তা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে যে গনতন্ত্রের চর্চা বা অনুশীলন করা হচ্ছে এই গনতন্ত্র পশ্চিমা ইহুদীদের গনতন্ত্র। আমাদের পবিত্র ধর্ম 'ইসলামে' বর্তমানের অনূসৃত গনতন্ত্রের কোন স্থান নেই। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাষনামলে চার খলীফা যে গনতন্ত্রের অনুশীলন করে ইসলামের সৌন্দয্য, মাধূর্য্য, সাম্যতা, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়নতা বিশ্বের বিদ্যমান সকল জাতীর নিকট উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন-''বাকশাল' দর্শনের গনতন্ত্র" অনেকাংশে সেই একই রুপরেখায় সৃজন করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বাদ প্রত্যেক নাগরীকের ঘরে পৌছে দেয়ার লক্ষে বঙ্গবন্ধু 'বাকশাল' গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সহজ ভাবে বলা যায়- বিদ্যমান সমবায় সমিতি গুলি যে রুপরেখায় পরিচালিত হয়ে সমিতি ভুক্ত সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন করে চলেছে- একইভাবে 'বাকশাল' কে "বৃহত্তর জাতীয় সমিতি" আকারে চিন্তা করলেও- আদৌ ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। সমবায় সমিতিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক ইউনিয়ন, ব্যাংক, বীমা, স্বায়ত্ব শাষিত প্রতিষ্ঠান সমুহের নির্বাচনে যদি গনতন্ত্র অনুসৃত হয় তবে 'বাকশালে'কেন নয়?এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলীর পরিচালনায় যদি গনতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটে থাকে তাহলে ধরে নিতে পারি 'বাকশাল' দর্শনের গনতন্ত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি হত। বিরুদীদের ভয়ের কারন 'বাকশাল' নয়, বাকশাল দর্শনের 'মহত্বে'। 'বাকশাল' মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে মর্মানুযায়ী দেশ পরিচালিত হলে স্বাধীনতা বিরুদী রাজাকার, আলবদর, সাম্প্রদায়ীক শক্তি সমূহের রাজনীতি করার অধিকার থাকে না।কোনপ্রকার সাম্প্রদায়ীকতার স্থান ইসলামে নেই-এই সত্যটি যারা বিশ্বাস করেনা তাঁরাই অসাম্প্রদায়ীক চেতনায় বিশ্বাসীদের নাস্তিক, ধর্মদ্রোহী ইত্যাদি বলে নীজেদের পাঁপকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। মানবতার ধর্ম ইসলাম- যে গনতন্ত্রের সমর্থন করে না সেই গনতন্ত্রের চর্চায় নিজেদের নিমগ্ন রেখে প্রকারান্তরে ইসলাম ধর্মের সৌন্দয্যকেই অস্বীকার করেন। সমগ্র মানব জাতীর কল্যানে প্রেরীত হওয়ার কারনে ইসলাম ধর্ম সার্বজনীন ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সার্বজনীন ইসলাম ধর্মকে সাম্প্রদায়ীক গোষ্ঠি তাঁদের নীজেদের স্বার্থ্য সিদ্ধির উদ্দেশ্যে একক জাতী 'মসুলমানের' ধর্মে রুপান্তর করে প্রকারান্তরে মহান আল্লাহর হুকুমের সরাসরি বিরুদীতা করে চলেছে। বঙ্গবন্ধু প্রথম জীবনে রাজনীতিতে ভুল করেনি। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র রাজনীতি করার প্রাক্কালে পাকিস্থান সৃষ্ট্রিতে গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। ১৯৪০সালের লাহোর প্রস্তাবের ৩নং ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ ছিল, ভারতবর্ষকে এমন ভাবে ভাগ করতে হবে, উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা সমুহে,একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হবে।এই ধারাটিকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু ছাত্র থাকা অবস্থায় পাকিস্থান সৃষ্টির পক্ষে জোরালো ভুমিকা রেখেছিলেন।তাঁর সমসাময়ীক নেতা কাস্মীরের শেখ আবদুল্ল্যা 'কংগ্রেস' পক্ষে থাকায় স্বাধীনতা দুরের কথা, জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান সময় জেলেই কাটাতে হয়েছে।তাঁরই একান্ত বন্ধু রাজনৈতিক গুরু নেহেরুর শাষনামলে কাস্মীরের স্বাধীনতা দাবি করায়। ১৯৪৫ ইং সালে দিল্লি কনভেনশনে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যদি 'দ্বিজাতী তত্ব' প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য 'বঙ্গবভঙ্গ 'সংশোধন না করতেন তাহলে ১৯৪৭ ইং সালেই পুর্ববঙ্গ-পশ্চিমবঙ্গ মিলে একটি অথবা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্ট্রি হত।জিন্নাহ পরবর্তীতে তাঁর ভুল বুঝতে পেরে মৃত্যুর আগে আপসোসও করেছেন।তাঁর প্রমান পাওয়া যায় তাঁর 'ব্যাক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল এলাহী বক্সের নিকট থেকে।' বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বের হোসেন করাচিতে অনুষ্ঠিত 'সম্পাদকদের সম্মেলনে' এই তথ্য প্রকাশ করেন।তথ্যসুত্র:-(সাংবাদিকের রোজনামচা)। ছাত্র মুজিব বাঙ্গালীর স্বাতন্ত্রতা বুঝতে তখন ভুল করেনি-পরিপক্ষ মুজিব দেশ গড়ায় ভুল করবেন!! যারা বলেন বাকশাল' একদলীয় শাষন-তাঁরা হয় বোকা নয়তো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি, এছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচিত সরকার ও সেই সরকারের পাহাড়সম জনপ্রীয় নেতাকে উৎখাত ও হত্যার পাপ মোচন করার জন্য আঁতুড় ঘরের বাসিন্দা 'বাকশাল' সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়েছে।,বর্তমানের লেখক বুদ্ধিজীবি, আওয়ামী লীগের নেতারা কেন বঙ্গবন্ধুর জীবনের সবচেয়ে স্বর্ণালী অধ্যায়,আজীবনের লালিত স্বপ্ন,বঙ্গবন্ধুর মৌলিক রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোকপাত করেন না--তা বোধগম্য নয়।যে আদর্শকে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল এখনও তাঁদের গলার ফাঁস মনে করে সর্বদাই জনমনে আতংক সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যাবহার করে চলেছে। "জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু"

  বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ সংক্ষেপে"বাকশাল" বঙ্গবন্ধুর পরিপক্ক রাজনৈতিক জীবনের অমূল্য রাজনৈতিক দর্শন। বিশ্বের শোষিত বঞ্চিত স্বাধীনতাকামী জনগন মুক্তির দিশা বাকশালে খুঁজে পেলেও প্রচারের অভাবে বাংলাদেশে আতংকের নামেই পরিচিতি পেয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg