মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি মানবিক খোলা আবেদন--

মাননীয় সভানেত্রী
  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,কেন্দ্রীয় কমিটি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

  বিষয়:-ফেনী জেলার কিংবদন্তি ছাত্রনেতা"আরজু" সাহেবের গাছ চুরি-আওয়ামীলীগের প্রতিদান প্রসঙ্গ--
_________________________________________


  মাননীয় মহানুভবা জাতীরজনকের কন্যা,
    যথাবিহীত সম্মান পুর্বক নিবেদন- অদ্য আপনার বরাবরে একটি মানবিক আবেদন করার ইচ্ছা বা প্রয়োজন প্রচন্ডভাবে অনুভব করছি। আমি জানিনা-আমার আবেদনখানি আপনার নজরে আসবে কি-আসবে না। আমার কিছুদিন আগে মুছে যাওয়া 'ওয়েব পেইজে'র সাথে  'আপনার ওয়েবের সংযুক্তি'  বার কয়েক লক্ষ করেছিলাম। তখন হয়ত কোন বিষয়ের প্রতি-আপনার শত ব্যস্ততার মধ্যেও নজরে আসার সম্ভাবনা ছিল। আমার আজকের এই 'নতুন আইডির নতুন ওয়েব পেইজে' সেই সম্ভাবনাটুকুও নেই।

 মাননীয় জননেত্রী,
     আমার লেখালেখির অভ্যেস কখনই ছিলনা-লিখিওনি  কোনদিন। ২০০৮ ইং সালে আপনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে আমার মত অনেকেই পালাক্রমে রাজনীতির মাঠ ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে নতুন পরিবেশের সাথে তালমিলিয়ে এখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারে ব্রতি আছেন-তাঁদের প্রতি আন্তরীক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

      আমিও নতুন নেতৃত্বের প্রতি তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে মহানান্দে ২০১৩ ইং সালের শেষ দিকে রাজনীতির অঙ্গন ছেড়ে নীজ পরিবার পরিজন নিয়ে মহাসুখেই আছি। রাজনীতি থেকে  দুরত্ব ঘটার কারনে ২০১৪ ইং সালের প্রারম্ভে অঢেল সময় কাটানোর উপায়ান্তর না পেয়ে লেখা-লেখিতে ব্রতি হই। সেই থেকে অদ্যাবদি পেইজবুক, গুগুল প্লাস, টুইটার, অন-লাইন পত্রিকা, পোর্টাল এবং ওয়েব পেইজ সমূহে 'বঙ্গবন্ধুর দর্শন, আদর্শ, চিন্তা, চেতনা' যতটুকু ধারন করতে পেরেছিলাম-নতুন প্রজম্মের বন্ধুদের নিকট সেই অভিজ্ঞতা গল্পাকারে তুলে ধরার আপ্রান চেষ্টায় পুর্ণাঙ্গরুপে ব্রতি হয়ে সাধ্যমত চেষ্টায় লিপ্ত আছি।ইনশাল্লাহ আমৃত্যু থাকার ইচ্ছাও পোষন করি। ব্যাক্তিগত কোন অভিযোগ নিয়ে বন্ধুদের বিরক্তির কারন সৃষ্টির মানষিকতার জম্ম আমার মধ্যে হয়নি-ভবিষ্যতেও ইনশাল্লাহ হবেনা।

মাননীয় দেশরত্ম-
  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, জাতীর জনক, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এই কয়টি শব্দের বাইরে একটি লাইনও লেখার সামথ্য আমার নেই। কারন আমি লেখক, কলামিষ্ট, বিশ্লেষক, প্রাবন্ধিক ইত্যাদি কিছুই নই। লেখালেখি করার মেধা, সময় যখন ছিল তখন  মাঠেঘাটে 'জাতীর জনকের আদর্শ' এবং তাঁর 'নির্দেশীত রাজনীতি' নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। শেষ বয়সে এসে লেখালেখি করে 'দল আর দেশ'কে কতটুকুই বা আর দিতে পারব। আমার লেখা আগোছালো সত্য-তবে মিথ্যে কোন ঘটনার অবতারনা, তথ্যবিভ্রান্তি ইত্যাদি করার ইচ্ছা আমার কখনো ছিলনা-এখনও নেই। আমার সময় এখন মেধাশুন্যতার দিকে দাবিত-এই সময়ে মেধা বিকাশের আখাংকা অবশ্যই বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।তারপরেও কি আর করব-সময় যে কাটে না।

  সদাশয় জাতির জনকের কন্যা-
 ফেনীর চলমান আওয়ামী রাজনীতির ভালমন্দ কোন বিষয়- অভিযোগ, অনুযোগ করার ইচ্ছা থেকে আমার এই নিবন্ধ নহে।
গত কয়দিন আগে ফেনীর স্থানীয় পত্রিকা সমুহে একটি খবর দেখে ব্যাক্তিগত ভাবে আমি হতবিহব্বল, হতাশ, মনোকষ্টে দিনাতিপাত করছি।এই সম্পর্কে কিছুই লিখবনা মনে করে বসে ছিলাম। কিন্তু মনকে প্রবোধ দিতে পারছিনা। কেউ না কেউ আপনাকে তো জানাতে হবে-নচেৎ আপনি জানবেন কি করে জীবনভর বিরুদীদলে থাকা 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শের' হার না মানা লড়াকু সৈনীকেরা  কে কোথায়, কিভাবে নীজদলের নিকট 'চরমভাবে হেরে'--ধীরে ধীরে 'অমানবিক' জীবন যাপনের দিকে দাবিত হতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর যৎকিঞ্চিত আপনার গোছরে আনার 'দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ' থেকে আমি অদমের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

সদাশয় নেত্রী,
 ফেনীর ছাত্রনেতা, যুবনেতা, সংগঠক ইত্যাদি যাই বলিনা কেন- যে কয়টি কিংবদন্তিতুল্য নাম সর্বাজ্ঞে জনমানুষের সামনে আসে নি:সন্দেহে তাঁদের অনেকের মধ্যে অন্যতম "আরজু, সাজু, একরাম, শাখাওয়াৎ।" একরাম আমাদের সবাইকে নিয়ে চলমান নেতৃত্বের প্রতি যথাযথ আনুগত্য রেখেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিল।মাঝখানে কোথা থেকে কি হয়ে গেল জানিনা-অঙ্গার হয়ে তাঁর প্রতিদান দিতে হল তাঁকে। তাঁর অঙ্গার হওয়ার রহস্য সময়ে হয়তোবা উম্মোচিত হবে-একরাম কিন্তু আর ফিরে আসবেনা।

'সাজু' রাজনীতিতে যেমন নাম কিনতে পেরেছিল বর্তমানে তাঁর পেশা উকালতিতেও যথেষ্ট নাম কিনতে পেরেছে। রাজনীতিতে থাকলে হয়তোবা বড় কিছু হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনাই ছিল। চলমান রাজনীতির সাথে হয়তোবা অনেকের মত সেও তালমিলাতে না পেরে দূরে সরে গেছে। শুনেছি দলীয় লোকজনের রাজনৈতিক মামলাতো বটেই 'পারিবারিক মামলায়'ও তাঁর উদারতার সাক্ষর রেখে চলেছেন-আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।আওয়ামী নেতাকর্মীরা নি:স্ব-তাঁদের সামান্য সহযোগীতা দলের জন্য বড় অবদান হতে পারে।

'সাখাওয়াৎ' কোথায় আছে-কেমন আছে জানিনা।মাঝখানে তাঁর কিছুটা মানষিক সমস্যা ছিল। রোগমুক্ত হয়েছে কিনা আমি অদম সেই খবরও রাখতে পারিনি।
 'আরজু'--তাঁর নামের মধ্যেই বিরাজ করে মধুরতা, সরলতা, বিচক্ষনতা, প্রজ্ঞা, দুরদর্শীতার আবহ।আপনি নীজেই জানেন- বাস্তবেও তাই।  প্রথম তিন জনই ছাত্রাবস্থায় খুব অল্প বয়সে, একই সময়ে, স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দেশব্যাপি আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিল। জনসেবার তৃনমুলে প্রশিক্ষনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই হয়ত তৎসময়ের জেলার কান্ডারী 'জয়নাল হাজারী' তাঁদের নমিনেশন দিয়েছিলেন। ফল ও যথারীতি ভালই হয়েছে-তিনজনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে সারাজেলায় জনসেবার উৎকৃষ্ট উদাহরন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।-বর্তমান সময়ে তিনজনই 'সংসদ সদস্য' হওয়ার মত জনপ্রীয়তা অর্জন করে সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। একরাম দুইবারই সুষ্ঠ নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা নির্বাচনে জিতেছিল। তৃতীয়বার নির্বাচন করার আগেই 'দ্বিতীয় বিজয়ের 'দুই মাসের' মধ্যে তাঁর অকাল মৃত্যু আওয়ামী পরিবারে হতাশার কালোমেঘ ঢেকে দিয়েছে। হয়তোবা আগামী দিনে আরো বড়মাপের তড়িৎকর্মা কোন এক আওয়ামী নেতার নেতৃত্ব পুরন করবে অসময়ের এই শুন্যতা।তিনিই এই কালমেঘ অপসারন করে দলকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন আগামী সুন্দর সাবলীল কোন এক সকালের প্রান্তে।

'আরজু' জেলা আওয়ামীলীগের মুরুব্বী নেতাদের সম্মান করতে গিয়ে হয়তবা উপজেলায় আসার চিন্তা কোনদিন করেনি। বিগত দিনে জেলা আওয়ামী লীগের কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিমত পোষন করেছে -তেমনটিও শুনা যায়নি। গত ইউপি নির্বাচনে 'আরজু' আওয়ামী লীগ থেকে 'নমিনেশন' পায়নি।
"জোট সরকারের" সময়ে জেলের অভ্যন্তরে থেকেও বিপুল ভোটে 'আরজু' নির্বাচিত হয়ে তাঁর ইউনিয়নের জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।পরবর্তী নির্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে 'তাঁর সরকারের' সময়ে নির্বাচিত হয়ে 'কায্যকালের' মধ্যে থেকেও নমিনেশন পায়নি। হয়তোবা রাগে-ক্ষোভে  'বিদ্রোহী প্রার্থী' হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।ভাগ্য তাঁর সু-প্রসন্ন হয়নি-নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে।
 একাধারে 'চারবার নির্বাচিত' হয়ে দায়িত্ব পালন করার পরেও 'বিদ্রোহী প্রার্থী' হয়ে আবার চেয়ারম্যান হতেই হবে-এমন একগুয়েমী সিদ্ধান্তে আমি একমত পোষন করতে নীজেও পারিনি। আমার জন্য ব্যাপারটা একেবারেই সহজ-কিন্তু জাত রাজনীতিবীদের জন্য অত্যান্ত কঠিন।রাজনীতির প্রথম এবং প্রধান শর্তই হচ্ছে এক্সিট করা বৈধ,মানা যায়-সুপারসিট একেবারেই অবৈধ,কোন অবস্থাতেই মানা যায়না। "সুপারসিট নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির আওতায় পড়েনা-বলপ্রয়োগের আওতায় পড়ে।" মাননীয় নেত্রী দক্ষ রাজনীতিবীদ হিসেবে আপনি বিষয়টি আমার চেয়ে কোটিগুন ভাল জানেন। আরজুর ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটার কারনে অস্থীমজ্জায়  'রাজনীতি প্রবাহমান' ডাকসাইটে ছাত্রনেতা, বর্তমানের পুরিপুর্ণ 'রাজনীতিবীদ-ফেনী জেলার সাবেক "ছাত্রলীগ/যুবলীগের কান্ডারী" মেনে নিতে পারেনি।ফেনী জেলা ছাত্র লীগ/যুবলীগের সময়ের কান্ডারী 'সামান্য ইউপি' নির্বাচনে 'সন্তুষ্টি' প্রকাশে আওয়ামীলীগের জন্য বড় আর্শিবাদ হওয়ার কথাই ছিল-তাই নয় কি জাতীর জনকের কন্যা ?
"জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের বিচক্ষনতায় বা অন্য কোন ভাগ্যের নির্মমতায় 'আরজু' নমিনেশন না পাওয়ায় 'আওয়ামীলীগ অভিশপ্ত' হয়নি। ডাকসাইটে রাজনীতিক  'আরজু'ই অভিশপ্ত হল এবং তাঁর সকল অর্জন নিমীষেই তাঁর পরিবারের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিল।"
 চারবারের 'নির্বাচিত চেয়ারম্যান' গাছ চুরির মামলায় অন্যতম আসামী হয়ে তাঁর পরিবারকে 'চোরের পরিবারে' রুপান্তর করে সারা জীবনের জন্য অন্ধকারের আবর্তে নিমজ্জিত করে দিল। তাও আবার দামী 'সেগুন গাছ' নয়--৩০০টাকা দামের 'জাত কড়ই' গাছ।' যে গাছ কেউ কোন দিন রোপন করেনা-সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে! সেতো নহে-ই। প্রাকৃতিক নিয়মেই যেখানে সেখানে জম্ম নেয়- এই জাতের গাছটি-আপামর জনগন জানে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
   আপনার সরকারের 'তড়িৎকর্মা বন কর্মকর্তা' বাবু তপন কুমার দেবনাথের চাকুরী এখন পয্যন্ত বহাল কিভাবে থাকে আমি জানিনা! 'সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কড়ই গাছ' রোপন করে তিনি বন বিভাগকেই প্রশ্নের সম্মুখিন করেছেন। তাঁর চাকুরী বহাল থাকতে পারেনা। 'কড়ই গাছ বাগান থেকে প্রতিবছর 'আগাছা পরিস্কারকালিন' সময়ে সরাতে হয়। নি:সন্দেহে বলা যায়-'গাছ রোপন ও সংরক্ষনের অর্থ আত্মসাৎ করে দেশীয় 'আগাছা জাতীয় গাছ' লালন করে সরকারের বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছে 'ফেনী রেঞ্জার কতৃপক্ষ'। শুধু তাই নয় ঐ 'আগাছা সংরক্ষন' করে বনবিভাগকে জগনের নিকট হেয় প্রতিপন্ন করেছে 'ফেনী বনাঞ্চল কতৃপক্ষ।' মিথ্যা মামলা করার অপরাধে তাঁকে চাকুরী থেকে অব্যহতি' এবং আগাছা পরিস্কার না করায় কর্তব্য কাজে অবহেলার অভিযোগে 'বিভাগীয় মামলা' আনায়ন করাই হবে 'তাঁর এবং সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত প্রতিকার'।

মাননীয় দেশরত্ম,
   আরজু আওয়ামী রাজনীতি থেকে ঝরে গেলে কিছুই হবেনা সত্য-তাঁর সোনালী দিনের শ্রম আর মেধার মুল্য কি আওয়ামীলীগ ফেরৎ দিতে পারবে? আরজুকে কি জড় পদার্থ চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিবে আওয়ামী লীগ? দেশব্যাপি কি বিদ্রোহী প্রার্থী আর ছিলনা? 'আরজু'ই কি একমাত্র দলীয় নির্দেশ অমান্যকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী?
 যে আরজু ১/১১ এর দু:সময়ে ইউপি অফিসের চেয়ারে বসে দলের কাজে নিয়োজিত ছিল।ফেনীর নেতারা যখন দেশত্যাগ করে নীজের জীবন রক্ষায় ব্যাস্ত ছিল-তখনও আরজুর মত দু:সাহষী ছাত্রনেতা ফেনী সদর ইউপি পরিষদে বসে দল পরিচালনা করতে দেখা গেছে। সেই মুল্যায়ন কি শেষাবদি 'কড়ই গাছ চুরীর মামলায়' ফাঁসিয়ে আওয়ামীলীগ প্রতিদান দিল ?
মাননীয় নেত্রী-আমার উদত্ত আচরন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।আপনার এবং আপনার সরকারের নিকট আমাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। শুধু অর্জিত সম্মান টুকু নিয়ে পরপারে যাওয়ার সুযোগ টুকু আপনার নিকট চাই।
আপনি জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা এতেই খুশী। আপনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নই শুধু নয়-দেশকেও এগিয়ে নিচ্ছেন সমান তালে।বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন করুনার দেশ নয়।বাঙ্গালী জাতী মাথা উচু করে বলতে শিখেছে-আমি বাঙ্গালী-বাংলাদেশ আমার জম্মভুমি।এই সবই আপনার নেতৃত্বের গুনে আর্জীত হয়েছে।
আমার মত অনেকের রাজনীতিতে প্রবেশের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগকে খমতায় নেয়ার চেষ্টা।সকলের সম্মিলীত প্রচেষ্টার ফসল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দেশের শাষন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। কামনার চাইতেও বেশী  পেয়েছি-আর তা হচ্ছে আকাশচুম্ভি উন্নয়ন। আপনি দেশ ও জাতীর জন্য অনেক অনেক করেছেন মাননীয়নেত্রী। এবার বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল 'আওয়ামীলীগের দিকে নজর দিন-নচেৎ আপনার কষ্টার্জিত অর্জন বিসর্জনে পরিনত হতে সময়ের প্রয়োজন হবে না।

    "জয়বাংলা     জয়বঙ্গবন্ধু"
 
 


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg