ন্যাপ (ভাসানী) এর মার্কা ধানে'র ছড়া'র তেলেসমাতি।



    মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করার পর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খাঁনের পথ অনূসরণ করেন। প্রথমে তিনি হাঁ-না ভোটের আয়োজন করে তাঁর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকে জায়েজ করার পদক্ষেপ গ্রহন করেন । প্রতারণা পূর্ণ হাঁ-না ভোট দেশে বা বিদেশে কোথাও তেমন গ্রহনযোগ্যতা না পাওয়ায় সঙ্গত কারনে তাঁর রাজনৈতিক দল গঠন করার প্রয়োজন দেখা দেয়।
      তিনি প্রথমবস্থায় বর্তমানে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের মতই বিভিন্ন দলের দলচ্যুট নেতা,  মুসলিমলীগ, পিডিপি, ভাসানী ন্যাপ সহ আরো কতিপয় দল নিয়ে 'বিচারপতি আবসুস ছাত্তারের সমন্বয়ক করে জাতীয় গনতান্ত্রিক দল '(জাগদল)' নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করেন। '৭৯ এর দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পুর্বে তাঁর নেতৃত্বে "জাগদল" রাজনৈতিক জোটকে  'বাংলাদেশ ন্যাশানালিষ্ট পার্টি' (বিএনপি) নামে রাজনৈতিক দলে রুপান্তর করেন। এবং  উক্ত দলের চেয়াম্যাপার্সন হিসেবে মেজর জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক রাজনীতিতে  হাতে খড়ি নেন।
 যেহেতু জিয়ার সৃষ্ট দলটি নতুন সৃষ্ট রাজনৈতিক দল ছিল, সেহেতু নির্বাচন কমিশনে উক্ত দলের বিপরীতে কোন নির্বাচনী মার্কা রেজিষ্টার্ড ছিলনা।   মালানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী'র দল ন্যাশানাল আওয়ামী পার্টির মার্কা ধানের শীষ ছিল বাংলাদেশের জনগনের নিকট খুবই পরিচিত মার্কা।'৭৩ এর নির্বাচনে ঐ মার্কায় তাঁর দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় মার্কাটি নির্বাচন কমিশনে রেজিষ্ট্রি ভুক্ত ছিল।
   মেজর জিয়াউর রহমান উক্ত মার্কাটি তাঁর নির্বাচনী মার্কা বিবেচনা করার জন্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠান। মাওলানা সাহেব নিজে এবং তাঁর দল ন্যাপ তখনকার সময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী  থাকা সত্বেও, তাঁর মার্কা চিনতাইয়ের আপত্তি জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সাহষ দেখাতে পারেননি।
  নির্বাচন পরবর্তিতে  সরকারে থাকাবস্থায় জিয়ার মৃত্যু হলে ক্ষমতার রদবদলে জেঃ এরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে আর্বিভূত হন। তাঁর সরকারের নেতৃত্বে '৮৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে উক্ত নির্বাচন বিএনপি সহ বেশ কিছু দল অংশগ্রহন করা থেকে বিরত থাকে। '৮৮ সালের সাধারন নির্বাচনে জাসদ রবের নেতৃত্বে বৃহত্তর জোট 'মশাল মার্কায়' আংশ নিলেও আওয়ামীলীগ, বিএনপি সহ প্রতিষ্ঠিত কোন দল উক্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। ধানের শীষ মার্কাটিও নির্বাচন কমিশনে অব্যাবহৃত  পড়ে থাকে।
   '৯১ এর সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করলে '৭৯ ইং সালের রেজিঃ অনুযায়ী ধানের শীষ বিএনপি'র মার্কা হিসেবে উক্ত দলকেই দেয়া হয়।মার্কাটি মাওলানা ভাসানী প্রথমবস্থায় ভয়ে পরবর্তিতে তাঁর দল আইনগত জটিলতা থাকায় আর পূণঃদ্ধার করতে পারেননি।
     একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গনফোরামের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সাহেবের নেতৃত্বে বিএনপি সহ অপরাপর দল, জোট ও ব্যাক্তিদের সমন্বয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট 'ঐক্যফ্রন্ট' গঠিত হয়। ঐক্যফ্রন্ট অধিভূক্ত দল ও জোটের মধ্যে বিএনপি দলের ধানের শীষ, কাদের সিদ্দিকী সাহেবের গামছা, আসম আবদু রবের মাশাল মার্কা ব্যাতিত রেজিঃ ভুক্ত দল ও মার্কার মধ্যে অন্যকোন দলের কোন মার্কা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেমন পরিচিতি নেই।
      তম্মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, জনাব মাহমূদুর রহমান মান্না, ডাঃ জাফর উল্যা সাহেব সহ অনেকগুলী  দলের বিপরীতে নির্বাচন কমিশনে কোন মার্কা রেজিঃ নেই। ইতিপূর্বে তাঁদের দল বাংলাদেশের কোন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনও করেনি।সঙ্গতকারনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন 'ধানের শীষ অথবা গামছা বা অন্যকোন মার্কা' তাঁর নেতৃত্বের জোটের বরাবরে বরাদ্ধ দেয়ার জন্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠি প্রেরণ করবেন বা করতে হবে।
    নির্বাচন কমিশন এইরুপ চিঠি পাওয়ার পর রেজিঃ মার্কার মালিক যদি কোন না থাকে সরাসরি বরাদ্ধ দিতে পারবেন।আর যদি পুর্বে কোন দলের বিপরীতে মার্কাটি রেজিঃ থাকে দলের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে চিঠি মারফৎ জানতে চাইবেন তাঁদের কোন আপত্তি আছে কিনা।
  পূর্বের ন্যায় ভয়ভীতির কোন কারন না থাকলেও নির্বাচন কমিশনে রেজিঃ মার্কার মালিক দলের প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নেতা তাঁর দলের পক্ষে অনাপত্তি পত্র প্রদান করবেন। উক্ত অনাপত্তি সনদ নির্বাচন কমিশনে প্রদান করার সাথে সাথে উক্ত দলের রেজিঃ মার্কার উপর দলটির সকল প্রকারের অধিকারের বিলুপ্তি ঘটবে। মার্কাটি নতুন ভাবে দল বা জোটের নামে রেজিঃ ভুক্ত হবে।
   ড. কামাল হোসেন যেহেতু ফ্রন্ট প্রধান সেহেতু তাঁর অনুমতি বা সম্মতি ব্যাতিত নির্বাচন কমিশন আইনতঃ কোন মার্কা ফ্রন্টের বিপরীতে বরাদ্ধ দিতে পারবেন না। তদ্রুপ ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে তাহলে রাষ্ট্রপতি প্রথমতঃ সংসদীয় দলের প্রধান ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ড. কামাল হোসেন সাহেবকে সরকার গঠন করার আহব্বান জানাবেন।
  ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যগন বৈঠকে বসে তাঁদের সংসদ নেতা ড. কামাল হোসেন ব্যাতিত অন্য কাউকে  নির্বাচিত করলেও 'ঐক্যফ্রন্ট' প্রধান ড. কামাল হোসেন সাহেবের স্বাক্ষরিত  চিঠি  রাষ্ট্রপতির হস্তগত হওয়ার পরই কেবলমাত্র নবনির্বাচিত সংসদ নেতাকে সরকার গঠন করার জন্যে রাষ্ট্রপতি আহব্বান জানাতে পারবেন।
  সংখ্যাগরিষ্ট দলের বা জোটের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্ন মন্ত্রীদের নামের তালিকা যতক্ষন না রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণ করবেন, ততক্ষন পয্যন্ত বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ট সংসদ সদস্যদের 'ঐক্যফ্রন্ট সরকার' রাষ্ট্রপতি গঠন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে বিলম্বে'র কোন কারন উদ্ভব হতে দেখা গেলে, চলমান সরকারকে আরো কিছুদিন দায়িত্ব পালন করার জন্যে রাষ্ট্রপতি অনুরুধ জানাতে হবে।
     নির্বাচন পরবর্তি সময়ে কোন কারনে যদি সংসদ সদস্যগন ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেন--তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনে তাঁর নেতৃত্বে'র ঐক্যফ্রন্টের রেজিঃ মার্কায় নির্বাচিত উক্ত সংসদ সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলের চিঠি প্রেরণ করতে পারবেন। ফলে যে কয়জনের নাম তিনি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করবেন, সেই কয়জনের সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করতে কমিশন বাধ্য থাকবেন।
   নির্বাচন পরবর্তি যদি কোন কারনে ঐক্যফ্রন্টে বিভক্তি ঘটে বা দলগুলী স্ব-স্ব দলের অবস্থানে চলে যায়, সরকার সংখ্যাগরিষ্টতা হারালে রাষ্ট্রপতিকে সরকার প্রধান নতুন নির্বাচন আয়োজনের অনুরুধ করবেন। পরবর্তি নির্বাচনে উক্ত বিভাজন বহাল অনূভব হলে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মার্কাটি দ্বাদশ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের দল বা জোটের নামে বরাদ্ধা বহাল থাকবে।এক্ষেত্রে একাদশ নির্বাচনে মার্কা সমর্পনকারী দল দ্বাদশ নির্বাচনে নতুন করে অন্য একটি মার্কা বরাদ্ধ পাওয়ার আবেদন করবেন।

     

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg