ফৌজদারী মামলা সরকারে'র সিদ্ধান্ত ছাড়া কারো প্রত্যাহারে'র সুযোগ নেই।।

  ফৌজদারী মামলা সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া কারো প্রত্যাহার করার ক্ষমতা নেই।

  রাষ্ট্রদ্রোহিতা,সরকারের বিরুধীতা এক নয়। রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম--রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকারের নামে 'আন্দোলন-সংগ্রামে' দলবদ্ধ সন্ত্রাস পরিচালনাও এক নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রতিপালনকালীন ফৌজদারী মামলা এবং রাজনৈতিক কারনে হয়রানীমূলক মামলাও এক বিষয় নয়।
  রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যেমন বাংলাদেশের নাগরিক, রাজনীতিহীন সাধারন মানুষও বাংলাদেশের নাগরিক। আইন কারো জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রনীত হয়না বা হয়নি। আইনের চোখে এবং বিচারের কাঠগড়ায় কে আলেম, কে জালেম, কে নাস্তিক, কে আস্তিক, কে রাজনতিবীদ কে সাধারন মানুষ বিবেচ্য নয়--বিবেচ্য তাঁর অপরাধ।
   রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিষ্ঠিত কোন একক ব্যাক্তি, সংস্থা, গোষ্টি বা রাজনৈতিক দল সরকার নয়, সরকার পরিচালনাকারী। সরকার ব্যাবস্থা যে কোন রাষ্ট্রের একটি স্থায়ী কাঠামো। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, সংস্থা, সংগঠনের মিলিতরুপ সরকার। এককথায় বলা যায়--'রাষ্ট্রের অভ্যন্তরের সবকিছু যদি দেহ বিবেচনা করা হয়, তবে সরকার তাঁর মাথা পরিগনিত হবে।
  গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিদ্যমান সাংবিধানে উল্লেখিত রীতিনীতি, আইনবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে নাগরিকগন কোন এক রাজনৈতিক দলকে সরকার পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রদান করে থাকে। এইরুপ নির্দিষ্ট সময়ের নির্বাচিত রাজনৈতিক শক্তিকে 'রাষ্ট্রের সরকার পরিচালনা করার "ব্রেন বা ঘিলু' বলা যেতে পারে।
  রাষ্ট্রের বিদ্যমান রীতিনীতি, আইনবিধি অনুসারে সরকার পরিচালনায় নিযুক্ত রাজনৈতিক দলের বিরুধীতা, সমালোচনা, আন্দোলন, সংগ্রাম রাষ্ট্রের বিদ্যমান সংবিধান বা শাসনতন্ত্র দ্বারা স্বিকৃত।এইরুপ বিরুধীতাকারী এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের উত্থান, বিকাশ, তৎপরতায় রাষ্ট্র বরঞ্চ উৎসাহ প্রদান করে।
   যেহেতু রাষ্ট্র স্থায়ী কাঠামো এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সকল শ্রেনী, পেশা, গোষ্টি নির্বিশেষে, সকলের সমান অধিকার। সেহেতু কোন একক নাগরিক, রাজনৈতিক দল, সংস্থা কতৃক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার এককথায় নাগরিক জীবন বিপন্নকারী কর্মকান্ড স্বিকৃত নয়।
   এইরুপ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র তাঁর বিদ্যমান আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতিকারক সকল প্রকার অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করে। কারন রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক আধিকার সংররক্ষন করতে রাষ্ট্র পুর্বেই অঙ্গিকারাবদ্ধ।
   রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তগাতমূলক অপপ্রচার, সার্বভৌমত্ব, অখন্ডতা, শান্তি শৃংখলা ভঙ্গজনীত যে কোন দেশবিরুধী কর্মকান্ড প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ গন্য করা হয়।যেমন--জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অখন্ডতা বিনষ্ট করার অপরাধে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উত্থাপন করে "রাষ্ট্র বনাম আগরতলা ষড়যন্ত্র  মামলা" দায়ের করেছিল।
 সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুসারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচালিত সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিরুধীতা, আন্দোলন, সংগ্রাম রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধাচারন নয়।ক্ষমতাসীন দলের সরকার পরিচালনাকারী ব্যাক্তি, গোষ্টি, রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধাচারন মাত্র।
  রাষ্ট্রের বিদ্যমান শাসনতন্ত্রের বিধিবদ্ধ আইনানুসারে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রামের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল বা জোটকে হঠিয়ে অন্য যেকোন রাজনৈতিক দলের সরকার পরিচালনার অধিকার রাষ্ট্র কতৃক স্বিকৃত।
  যেমন--বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারকে নিয়মাতান্ত্রিক উপায় ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে  'প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য' ভাবে রাজনৈতিক দল সমূহ, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ব্যাক্তিগন, বিভিন্ন স্থানে বৈঠক, আলোচনায় গড়ে উঠা বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট "ঐক্যফ্রন্ট"। ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে বা তাঁদের কর্মকান্ড নির্বৃত্ত করার উদ্দেশ্যে--'রাষ্ট্র বা সরকার আইনগতভাবে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারেনি'।
   অপরদিকে সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল শাসনতন্ত্রে স্বিকৃত উপায় পূণঃবার সরকার পরিচালনায় বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসার উদ্দেশ্যে গঠিত মহাজোট গঠনের তৎপরতায়--'সরকার বিরুধী শক্তি ঐক্যফ্রন্ট কোন প্রকার অভিযোগ উত্থাপন করতে দেখা যায়নি'।
    ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা হতে সরাতে এবং ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় ফিরে আসতে তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে, হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে। এইরুপ  কর্মকান্ড রাষ্ট্র কতৃক দমন, পীড়ন বা বাঁধাদানের উদ্দেশ্যে মামলা, মোকদ্দমা বা অন্য কোনভাবে হয়রানী করার অধিকার গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় সরকার রাখেনা।
  অর্থাৎ রাষ্ট্রের কোন বৈধ নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন'কে স্ব-স্ব কর্মতৎপরতা চালাতে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিবৃত্ত করতে পারেনা। যেহেতু রাষ্ট্রের সকল নাগরিক, সংস্থা, সংগঠনের স্বাধীনভাবে চলাফেরা, সভা-সমাবেশ, মিছিল মিটিং বাঁধাহীনভাবে পরিচালনা করার মৌলিক অধিকার গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানে স্বিকৃত।
  রাজনৈতিক দল বা জোটের রাজনৈতিক  কর্মসূচি পালনের অধিকার যেমন রাষ্ট্র কতৃক স্বিকৃত, তেমনি কোন একটি শ্রেনীপেশার মানুষের বা সংগঠনের তাঁর নীজ কর্মকান্ড পরিচালনা করার অধিকারও রাষ্ট্র কতৃক স্বিকৃত।
  যেমন--কোন এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মসুচি হরতালে বাসের ড্রাইভার বা তাঁদের সংগঠন, দোকান মালিক বা তাঁদের সংগঠন, স্ব-স্ব ক্ষেত্রে তাঁদের কর্ম পরিচালনা স্বেচ্ছায় অব্যাহত রাখার অধিকারী। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কর্মিগন তাঁদের উক্তরুপ কর্মকান্ড বন্ধ করার জন্যে জোর জবরদস্তি বা বাঁধা প্রদান করার অধিকারী নন।
   এইরুপ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের কর্মিগন বাঁধাদানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোন জোর জবরদস্তি মূলক কর্মকান্ড রাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিয়ন্ত্রনের অধিকারী। রাষ্ট্র যেমন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নির্বিগ্নে পালন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগীতা প্রদানে বাধ্য, তেমনি তাঁর সকল নাগরিকের জান, মাল, চলাফেরার নিরাপত্তা বিধান করার ক্ষেত্রেও অঙ্গিকারাবদ্ধ।
   রাষ্ট্রের সকল প্রকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জনবলের অর্থ, রেক্ষনাবেক্ষনের সমূদয় ব্যায়ভার নাগরিকদের প্রদত্ত অর্থে সরকার যোগান দিয়ে থাকে। সঙ্গতকারনে জোরপূর্বক বাঁধাদানকারী সেই সমস্ত নেতাকর্মিদের উক্ত রুপ নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রের আইনশৃংখলাবাহিনী ব্যাবস্থা গ্রহন করে থাকে। উক্ত ব্যাবস্থার আওতায় উদ্ভুত মামলা, মোকদ্দমা বিচারের ক্ষেত্রে জেল, জরিমানা কোন অবস্থায় রাজনৈতিক হয়রানী বা অন্যকোন নামে গন্য করা যায়না।
   কোন এক বা একাধিক রাজনৈতিক জোটের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সমাজের যেকোন শ্রেনী, পেশার জনগন ও সংগঠন যদি স্বেচ্ছায় অংশগ্রহন করেন এবং ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রামে সম্পৃত্ত হন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সরকার--কোন পক্ষের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার অধিকারী নন।
  সরকার বিরুধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে জনজীবন যদি অচল হয়ে পড়ে, অর্থনীতির চাকা থেমে যায়--তাহলেও "রাষ্ট্র কোন অবস্থায় সম্পৃত্ত রাজনৈতিক দল ও সংস্থার বিরুদ্ধে কোনরুপ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করার অধিকারী হতে পারেন না"।
 এইরুপ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে কোন সংস্থা বা অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিধি বহির্ভূতভাবে ক্ষমতাসীন সরকারের নির্দেশে জোর পূর্বক যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, সংগ্রাম নিস্তেজ বা দমনের উদ্দেশ্যে  মামলা, মোকদ্দমা আনায়ন করেন উক্তরূপ মামলা সমূহকে রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা হিসেবে অভিহীত করা হয়। এইরুপ রাষ্ট্রযন্ত্র অপব্যাবহারকারী সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার বা ফ্যাসিবাদী সরকার গন্য করা হয়।
   রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মিগন বাঁধাদানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোন কর্মকান্ড রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করতে বাধ্য থাকে। রাষ্ট্র জোরপূর্বক বাঁধাদানকারী সেই সমস্ত নেতাকর্মিগনকে উক্তরুপ কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে মামলা, মোকদ্দমা, আইনগত উপায় নির্বিত্ত করার যেকোন ব্যাবস্থা গ্রহন শাসনতন্ত্র স্বিকৃত এবং তাঁদের পেশাদারীত্বের নৈতিক দায়িত্ব।
   উক্তরুপ ব্যাবস্থার আওতায় উদ্ভুত পরিস্থিতি অনুযায়ী লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যাবহার, মামলা, হামলা, অপমৃত্যু কোন অবস্থায় রাজনৈতিক হয়রানীমূলক বা দমনপীড়ন কর্মকান্ড বিবেচিত নয়। রাষ্ট্রের নাগরিকদের জানমাল রক্ষা, আইনশৃংখলা রক্ষা, রাষ্ট্রের উন্নতি, অগ্রগতির  অঙ্গিকার প্রদান করে যেকোন রাজনৈতিক শক্তি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব করেছেন।
  বর্তমান গনতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যাবস্থায় জাতিসংঘ ভুক্ত বিভিন্ন আন্তজাতিক সংস্থায় কল্যানরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার ভিত্তিক দলিলে স্বাক্ষর অনিবায্য। এমনতর অবস্থায় ফ্যাসিষ্ট সরকার ব্যাতিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন গনতান্ত্রিক দলের নির্বাচিত কোন সরকারই স্বৈরাচারী ভুমিকায় অবতিন্ন হওয়ার সুযোগ নেই।তেমনি কোন গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কর্মিদেরও সন্ত্রাস, গুপ্ত হামলা, জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি জোর জবরদস্তিমূলক আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার সুযোগ নেই।এইরূপ স্বৈরাচার সরকারের পতন যেমন অনিবায্য তেমনি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের বিকাশ না ঘটে বিলুপ্তি পথে ধাবিত হতে বাধ্য হয়।
   ক্ষমতাসীন দল কতৃক পরিচালিত সরকারের নেতাকর্মী, মন্ত্রী এমপি গনের বিরুদ্ধে লুটপাট, অর্থ আত্বসাৎ, ক্ষমতার অপব্যাহার, ঘুষ, দুর্নীতির এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আনীত মামলা ফৌজদারী অপরাধভুক্ত। এইরুপ মামলা সমূহ রাজনৈতিক, রাষ্ট্রদ্রোহ বা অন্য যে কোন নামে অভিহীত করার কোন সুযোগ নেই।
   যেহেতু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মিদের জন্যে আলাদা আইন, রীতিনীতি নেই সেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধের বিচার প্রচলিত আইনে প্রযোজ্য হয়েছিল, হয়ে আসছে, হবে। বিএনপি'র দল কতৃক ইসিতে প্রেরিত উল্লেখিত মামলা সমূহ ২০১৩--১৫ সালে আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনীত অভিযোগ। রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা বাহিনী জনজীবন স্বাভাবিক, নাগরিকের জানমাল রক্ষার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার নিমিত্তে তৎসময়ে রুজু করেছিল। নির্বাচন কমিশন বা অন্যকোন শাসন বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান উক্ত মামলা সমূহ সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ করে বাতিল, স্থগিত বা প্রত্যাহার করার অধিকারী নন।
 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg