গনতন্ত্র চর্চার বিষয়, প্রতিষ্ঠার নয়--বাক স্বাধীনতা গনতন্ত্রের অংশ।।

    রাজনৈতিক দল, ব্যাক্তি, সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, বিদেশী অর্থে লালিত এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, সুশীল সমাজের কতিপয় ব্যাক্তি, বুদ্ধিজীবি মহলের মধ্যে অনেকে কথায় কথায় বলেন-"গনতন্ত্র এবং বাক স্বাধীনতা" বাংলাদেশের সমাজে বিরাজমান নেই"। উল্লেখিত কথাটি'র সারবর্তা নেই বলা যায়না।যেহেতু গনতন্ত্র এমন কোন বিষয় নয়, যাহা একটি পাত্রে বা শক্ত রশি দিয়ে বেঁধে রেখে প্রদর্শন করা যায়।গনতন্ত্রের বিশালতা, মহিমা, সৌন্দয্য মানুষকে অনন্তকাল কাছে টানবে, তাঁর চাহিদায় পূর্ণতা আসে নাই, আসবেনা।
   অত্রাঞ্চলে দুই তিনটি পত্রিকা যখন ছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই-- এই কথাটিই বলা হয়েছে। বৃটিশদের নিকট থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সময়কালেও বলা হয়েছে, পাকিস্তানী শাসক শোষকদের বিরুদ্ধেও ঠিক এই অভিযোগটিই প্রাধান্য পেয়েছে সর্বাজ্ঞে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছরের ইতিহাসে বর্তমান সময়ে এসে--হাজার হাজার পত্রিকা, লক্ষলক্ষ পোর্টালে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি নাগরিক নিয়ন্তর ভাব প্রকাশ করে চলেছে।। এতদসত্বেও বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় অভাবের কমতি নেই। একদিনের জন্যেও কথাটি বলা বন্ধ হয়নি, হবেও না। যারা বলছেন তারাও ক্ষমতায় ছিলেন, বিরুধীরা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বিরুধীরাও সরকারে এসেছে, পুর্বের ক্ষমতাসীনরেরা ঠিক একই ভঙ্গিতে একই অভিযোগ পূর্ণবার উত্থাপন করে চলেছে।
 পবিত্র কোরানে নামাজ আদায় করার চেয়ে কায়েম করার উপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।অনাদিকাল হতে সমাজে সমাজে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে নামাজ কায়েমের চেষ্টা অব্যাহত আছে, থাকবে। ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার পরও নামাজ কায়েমের আবেদনে সামান্যতম ছিঁড় ধরবেনা। তেমনি গনতন্ত্রও এমন একটি মানব সৃষ্ট 'দর্শন' যার কোন প্রতিষ্ঠা নেই, চর্চা আছে। অব্যাহতভাবে তাঁর চর্চার মধ্যেই সৌন্দয্য বিকশীত হয় এবং হবে। ইসলামী অনুশাসনে যেমন সমাজে সমাজে ভিন্নতা পরিলক্ষিত, গনতন্ত্র অনুশীলনেও দেশে দেশে ভিন্নতা আছে। রাষ্ট্রপতি শাসনে যেমন গনতন্ত্রের চর্চা হয়, তেমনি মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকারেও গনতন্ত্রের  চর্চা নেই বলা যায়না। গনতন্ত্রের বৈশিষ্টতাই তাঁকে এইরুপে চর্চার অধিকার দিয়েছে। নামাজ যদি একচ্ছত্র কায়েমই হতো তাঁর আবেদন অবশ্যই একসময় ফুরিয়ে যেত। আমাদের সমাজে মাওলানা মৌলবিদের আর কোন কদর বা প্রয়োজন হতোনা। তেমনি গনতন্ত্র যদি কায়েমের বা প্রতিষ্ঠার বিষয় হত তাঁর আবেদন একসময় ফুরিয়ে যেত। গনতন্ত্রের সংগ্রাম বা আন্দোলনে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানীর প্রয়োজন দেখা দিতনা।
  গনতন্ত্র একটি মাত্র শব্দ কখনই  নয়। গনতন্ত্র বিকশিত মানব সভ্যতা'র ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার লিখিত রীতিনীতি সন্নিবেশিত একটি 'দর্শন'। -সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় প্রচলিত ও ব্যাবহৃত দর্শন সমূহের মধ্যে একমাত্র 'গনতন্ত্র' বা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা উত্তম, ইহাই প্রমানীত। গনতন্ত্র তার আপন মহিমায় যুগোপযোগী, আধুনিক, বিজ্ঞান ভিত্তিক, প্রগতিশীল সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায়, তাঁর আদর্শ ও নীতি সার্বজনিন গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে।
  সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় গনতন্ত্রের বিশালতা, উদারতা, মহিমা, প্রগতিশীল আধুনিক চিন্তাচেতনা'র সমৃদ্ধতায় অন্যসব' রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, আদর্শ ও দর্শন সমূহকে অকায্যকর, অশুভনীয়, অননুসরনীয়, বর্জনীয় করে তাঁর শুন্যস্থান দখল করে নিয়েছে।  বিশ্বের দেশে দেশে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় গনতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনার উন্নত ও স্বিকৃত, জনহিতকর নীতি হিসেবে গৃহিত হয়েছে, হচ্ছে।   
   গনতন্ত্রের বিশালত্ব, উদারতা, আধুনিক চিন্তাচেতনায় বিকাশমান মানব সভ্যতায় প্রগতির চাকা সামনের দিকে দাবমান রেখে অদ্ভুত নতুন নতুন সামাজিক সমস্যা ও বিষয়াদি নিস্পন্নের অবাধ সুযোগ থাকায়, কালক্রমে মানুষ গনতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। সমাজ, রাষ্ট্রের নাগরিকদের সমমায্যদা, সমবন্টন, সমধিকার, প্রত্যেক নাগরিকের মতের প্রতিফলন ইহার অন্যতম বৈশিষ্ট।
   গনতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থায় নাগরিক অধিকারের অসীমতা তাঁদের চিন্তাচেতনাকে করে তুলেছে অস্পৃষ্য, অকল্পনীয়, অসীম। সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রের অসীমতাকে "গনতন্ত্র" তাঁর সৌন্দয্য ও অলংকারে'র অন্যতম বাহন 'কেন্দ্রিকতা'র মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠায় সম্ভব করে তুলেছে। গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার অলংঙ্গনীয়তা নীতিরীতি, স্বাধীনতার ভোগের অসীমতার ইতিবাবাচক ধ্যান ধারনাকে সম্মান প্রদর্শন এবং নেতিবাচক ক্ষতিকারক উপসর্গ, ধ্যানধারনা নিয়ন্ত্রন বা পরিহারে সর্বমহলকে বাধ্য করে।বলা যায়--সকল মহলের বল্গাহীন স্বাধীনতা ভোগের অধিকারে 'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা' সীমাবদ্ধ রেখা টেনে দেয়।একদিকে স্বাধীনতার অসিমতা গনতন্ত্রের চর্চার ক্ষেত্রকে প্রসারীত করে,অন্যদিকে গনতন্ত্রের কেন্দ্রিকতা স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে নাগরিকদের সচেতন, মার্জিত, শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিক মৌলিক অধিকার ভোগে'র এইরুপ সীমাবদ্ধতার রেখা--সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিরতা, কল্যানমূখি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। রাষ্ট্র ও  সমাজকে গড়ে তুলে সুন্দর সৃজনশীল, মানবিক গুন সমৃদ্ধ করে। ব্যাক্তিকে গড়ে তুলে মার্জিত, ভদ্র, শিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক ও আধুনিক মানুষরুপে।এই রূপ রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকের সমন্বয়ে গড়ে উঠা  জাতি বেড়ে উঠে সভ্য, মায্যদাশীল, বিবেকবান জাতি হিসেবে।
 গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা ব্যাক্তির-অমায্যদাকর নেতিবাচকতার ধ্যান ধারনা, জোর জবরদস্তি, ক্ষমতার অসীমত্ব, প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার ধ্যান ধারনা, চিন্তাচেতনা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন ও দূরিভূত করে।সমাজকে গড়ে তোলে ন্যায়নীতি, আইন, রীতিনীতি অনুসরন করার উপযোগী করে। এককথায় সভ্য সমাজ বিনির্মানে'র একমাত্র শক্তিশালী মাধ্যম গনতন্ত্র চর্চা অব্যাহত রাখার উপর নির্ভর করে, গনতন্ত্রের রক্ষাকবচ ''গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা" বা আইন, রীতি, নীতি'র কঠোর অনুশীলন।
  এককথায়, 'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা" অন্যর্থে আইন প্রনয়ন ও কঠোর প্রয়োগ সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্র সমুহকে মসৃনতা, সাবলিলতা ও স্থায়িত্ব দিয়েছে।গনতন্ত্রের নিবিড় চর্চায় "সমাজ, রাষ্ট্র,  সরকার ও নাগরিকের সৃজনশীলতা প্রসারীত করে। গনতন্ত্রের অব্যাহত চর্চায় বিশ্বের দেশে দেশে গড়ে উঠছে কল্যানকর, সমমায্যদা সম্পন্ন জাতি, সমাজ ও রাষ্ট্র"৷ গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বা আইনের শাসন--"প্রগতিশীল, আধুনিক, শিক্ষিত, যোগ্য, বিচক্ষন, কল্যানকামী ব্যাক্তি, দল, সমাজ, সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম বাহন।" আইনের বেষ্টনী(কেন্দ্রিকতা) ব্যাতিত কোনক্রমেই গনতন্ত্রের সুফল উপভোগ্য হয়না, হতে পারেনা।
  গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা সদাসর্বদা ঘুর্ণয়মান প্রগতিশীল কল্যান রাষ্ট্রের ব্যাক্তি, সমাজ ও সরকারে। প্রগতির ধারাবাহিকতায় সদা পরিবর্তনশীল সমাজের চাহিদানুযায়ী সময়োপযোগী আইন, রীতিনীতি'র সুদৃড ভিত্তি প্রতিষ্ঠা একান্ত কাম্য।যে সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যাবস্থায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আইনী বেষ্টনী যতবেশী সুদৃড ও কায্যকর--সেই সমাজ, রাষ্ট ও সরকারের নাগরিকগন গনতন্ত্রের উদারতা, সৌন্দয্য, মহত্ব উপভোগে ততবেশী সাবলীল ও স্বাচ্ছন্দ অনুভব করতে পারে।
   আলোচ্য বিষয়ের আর একটি অন্যতম উপজিব্য 'বাক স্বাধীনতা'। 'বাক' স্বাধীনতা  বলতে আমরা আসলে কি বুঝি? বাক অর্থ্যাৎ মুখ দিয়ে বাতাসের সাথে নির্গত আওয়াজটি হচ্ছে 'বাক বা কথা'। মানুষের কণ্ঠ, জিব্বা, ঠোঁটের সাহায্য আওড়িয়ে বাতাসের সাথে মুখ থেকে খন্ড খন্ড  নির্গত শব্দ সমষ্টিকে 'বাক বা কথা' বলে।
 স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে সমাজে বসবাসরতঃ প্রত্যেক নাগরিক সর্বক্ষেত্রে যত্রতত্র, যা ইচ্ছা তাই, যেমন ইচ্ছে তেমন বাধাহীনভাবে চলাচল, কর্মসাধন, ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারা। এককথায় নাগরিকগনের ইচ্ছা, আকাংক্ষা, চাহিদানুযায়ী অবারীত, অসিম ও বল্গাহীন সুযোগ সুবিধা ভোগরতঃ থাকার নাম স্বাধীনতা।
  উল্লেখিত আলোচনায় স্থির সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া যায়--আলোচ্য 'বাক স্বাধীনতা'র অর্থ হচ্ছে নাগরিক বা ব্যাক্তিগন যখন যা ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা, যেমন খুশী তেমন ভাবে, যার উপর ইচ্ছা তার উপর বা নিকটে মনের ভাব প্রকাশ করার উলঙ্গ সুবিধা ভোগই হচ্ছে। আসলে'ই কি তাই? ইহাও কি সম্ভব?
    আলোচ্য ক্ষেত্রে স্বাধীনতার অর্থ-রাষ্ট্রের নির্ধারিত নীতিরীতি, আইনকানুন অনুসরন পুর্বক নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সমূহ যথারীতি স্বাচ্ছন্দে ভোগ করার নাম নাগরিক স্বাধীনতা। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইহাই গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বিবেচিত।
 এইরূপে কারো মনে বা শ্রবনে বিরক্তি, বাঁধা বা আঘাত না করে  'কথা বলা'র অর্থই হচ্ছে বাক স্বাধীনতা বা কথা বলার স্বাধীনতা(উল্লেখিত গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতানুসারে)। মানুষ কথার মালা সাজায়, তাঁর মনের ভিতরে পুঞ্জিভূত ভাব অন্যের নিকট মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকাশের জন্য। দেখা যায়-বাক স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গরুপ হচ্ছে মনের ভাব বা কথা প্রকাশের নিয়ন্ত্রিত নীতিরীতি অনুসারে মনের ভাব প্রকাশের নাম প্রকৃত অর্থে "বাক স্বাধীনতা"।
   বর্তমান যুগে বিভিন্ন ভাবে মানুষ তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। যেমনঃ--সংবাদ পত্র, বই পুস্তিকা, নাটক, সিনেমা, টিভি, রেডিও। তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে তাঁর বিস্তৃতি ঘটে  সামাজিক মাধ্যম ফেইচবুক, গুগুল, টুইটার, সহ ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়া। দলের ক্ষেত্রে পথ সভা, জনসভা, পোস্টার লিপলেট।তাছাড়াও  বহুভাবে মানুষ তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে।
    রাষ্ট্র ও সমাজ সভ্যতার প্রথম থেকে অদ্যাবদি মানব সমাজ 'স্বাধীনতা', গনতন্ত্র, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার রীতিনীতি মিমাংসা করতে পারেনি। অর্থাৎ আদিকাল হতে মানুষে মানুষে, সমাজে সমাজে, দেশে দেশে কতিপয় কমন বাক্য অন্য অর্থে দাবী উত্থাপিত হতে দেখা যায়--"গনতন্ত্র' নেই বা গনতান্ত্রিক অধিকার নেই, অন্যটি হচ্ছে 'বাক স্বাধীনতা' নেই বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।
  লক্ষ করলে দেখা যায়, বাক্য দু'টি সকল সময়, সকল কালে আলাদা আলাদা করে বলা হচ্ছে।অথছ গনতন্ত্রের সংজ্ঞার  মধ্যেই 'বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষার অধিকার সহ ইত্যাদি মৌলিক বিষয়গুলী'র মিমাংসা বা সংজ্ঞায়ীত করা আছে। সামগ্রিকার্থে গনতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানের বা গনতন্ত্র চর্চারতঃ সমাজে অন্যান্ন বিষয় গুলী'র সাথে উল্লেখিত বিষয় দুইটি প্রতিপালিত ও বিকশিত হতে থাকে। গনতান্ত্রিক সমাজে গনতান্ত্রিক বাহন সমূহের একটির উপস্থিতিতে অন্যটির অস্তিত্ব অস্বিকার বা অস্তিত্বহীন রাখার কোন প্রকার সুবিধা নেই। উল্লেখিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গনতন্ত্রের সংজ্ঞায় গুরুত্ব সহকারে  সন্নিবেশিত আছে, ছিল, অনন্তকাল থাকবে।
  ব্যাক্তি, সমাজ, সরকার, রাষ্ট্র ও দলে গনতন্ত্র চর্চা অনুপস্থিত রেখে কতিপয় লোক খন্ডিত ভাবে নাগরিকদের উল্লেখিত দুটি অধিকার, রাষ্ট্র ও সরকার কতৃক লঙ্গিত করার অভিযোগ উত্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।  ইহার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে--নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষনের মাধ্যমে প্রতারিত করা, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারকে সদা বিব্রত রাখা, রাষ্ট্র ও নাগরিকদের প্রবঞ্চিত করার অসৎ মানষিকতা অথবা অভ্যেসগত অজ্ঞতা।
 ইহা অনস্বিকায্য যে--'গনতান্ত্রিক দর্শনে তাঁর মৌলিক বিষয় সমূহ খন্ড খন্ড প্রকাশ করার সুযোগ  নেই বা রাখা হয়নি।  গনতন্ত্র মৌলিক শব্দ। অন্যভাবে বলা যায়--'রাষ্ট্র, সমাজ, সরকার পরিচালনার রীতিনীতি সন্নিবেশিত দর্শনের মলাটে'র শিরোভাগে দৃশ্যমান খচিত অপরিবর্তিত, অমূচনীয়, অবিকৃত, সংযোজন, বিয়োজনহীন শিরোনাম হচ্ছে 'গনতন্ত্র'।--গনতন্ত্র সামগ্রিক অর্থেই অনুকরণীয়, অনুসরনীয়, প্রতিপালনীয়, অনুশীলনীয় বিষয়--নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠিতের বিষয় নয়।
  উল্লেখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে--'গনতন্ত্র শব্দটির আগে বা পরে কোন প্রকার বিশেষন যুক্ত করার অর্থ 'গনতন্ত্র বা গনতান্ত্রিক দর্শনে'র খন্ডিত বা বিকৃত উপস্থাপনের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা।  সামগ্রিকভাবে গনতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানের চর্চা, সংগ্রাম, আন্দোলনে ব্যাপৃত না থেকে, তাঁর অভ্যন্তরের বিশেষ অঙ্গের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ব্যাপৃত থাকার উদ্দেশ্য--কোনক্রমেই সৎ উদ্দেশ্য হতে পারেনা।'
   উল্লেখিত দুটি বিষয়ের অধিকার আদায়ের নিয়ন্তর, বিরামহীন আন্দোলন, সংগ্রাম উন্নত বিশ্বের দেশ দেশে চলছে, চলবে অনাদিকাল। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশে দেশে  যেমন চলছে, তেমনি গনতন্ত্রের 'রাজা-রাণী' খ্যাত 'বৃটেন--ভারতে'ও চলছে। পুঁজিবাদী বা ধনাঢ্য দেশে'র মানুষ যেমন অনাদিকাল হতে গনতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপৃত, তেমনি তৃতীয় বিশ্বের সর্বনিম্ন জীবনমানের দেশ সোমালিয়া, ইথিউপিয়ায়ও  আন্দোলন সংগ্রাম মূখর। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ সমূহে যেমন গনতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানের সংগ্রাম অব্যাহত, তেমনি উন্নয়নশীল দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড সহ অনেক দেশেই গনতন্ত্র রক্ষা,পূণঃদ্ধার, প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম অব্যাহত চলছে, চলবে অবিরত।
   শতবছরের আন্দোলন সংগ্রাম এবং আগামী সহস্র বছর অব্যাহত রাখার পরও গনতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন,সংগ্রামের আবেদনে এতটুকু ঘাটতি হবেনা। কারন আগেই উল্লেখ করেছি--গনতন্ত্র এমন একটি মনুষ্য সৃষ্ট গভীরতম দর্শন, যাহা কস্মিনকালেও প্রতিষ্ঠিত করার বিষয় নয়, বরঞ্চ নিয়ন্তর চর্চা অব্যাহত রাখাই তাঁর ধর্ম।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg