বঙ্গবন্ধু'র ছবিকে স্যালুট করতেন জেনারেল উবান।


বঙ্গবন্ধুর ছবিকে স্যালুট করতেন জেনারেল উবানঃ আখতারউজ্জামান

১৯৭১ সালের এপ্রিলের দ্বিতীয় ভাগে আগরতলা পৌঁছাই বিলোনিয়া হয়ে। ফজলুল হক মনির সঙ্গে দেখা শ্রীধর ভিলায়। মনি ভাই বললেন, আবার দেশে যেতে হবে। কী কারণে আসতে হবে বুঝিয়ে দিলেন। তত দিনে প্রবাসী সরকার গঠিত হয়ে গেছে। আমি দিন কয়েক বিশ্রাম নিলাম।

প্রবাসী সরকার দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি প্রচারপত্র ছেপেছে। ফজলুল হক মনি বললেন, প্রচারপত্র দেশের ভেতর বিলি করতে হবে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে এখনো ছাত্র-তরুণ যারা আছে তাদের ভারতে নিয়ে যেতে হবে। আরেকটি কাজ হলো প্রশিক্ষণ নিয়ে যোদ্ধারা নিরাপদে যাতে আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে পারে সে জন্য একাধিক রুটের সন্ধান করা। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে বিশেষ করে চৈনিক ধারার বাম সংগঠনগুলো দেশে কী অবস্থান নিয়েছে তার খোঁজ নিয়ে ফিরতে হবে। নেতার নির্দেশ শিরোধার্য করে ফিরে এলাম। এভাবে আগরতলা থেকে ঢাকা ছয়বার যাওয়া-আসা করেছি, জীবনকে হাতের মঠোয় নিয়ে। ফিরে গিয়ে নেতাকে রিপোর্ট করেছি। সেখানে আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখনসহ আরো নেতারা ছিলেন।

একটু আগে ফিরতে চাই। ঊনসত্তরের ছাত্র আন্দোলনের ঢেউটা কিন্তু স্কুলের সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিল। চট্টগ্রামে স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে সংগ্রাম পরিষদ হয়েছিল। আমি ছিলাম সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীকালে অভিনেতা ছদরুল পাশা ছিলেন সভাপতি। ১৯৭০ সালে ভর্তি হই জগন্নাথ কলেজে। আমার মামাতো ভাই কে বি এম মফিজুর রহমান ছিলেন কলেজে ছাত্রলীগের নেতা। সে কারণে দ্রুততম সময়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে যাই। জিএস প্রার্থী হই। অবশ্য নির্বাচনটা হয়নি। সে সময় পুরান ঢাকার রুচিয়া রেস্টুরেন্টকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক একটি গ্রুপ পুরান ঢাকার কলেজ রাজনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করত। এদের বেশির ভাগের সঙ্গে আবদুর রাজ্জাকের ভালো সম্পর্কের কারণে তারা ছাত্রলীগের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল, যদিও সে সময় পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনএসএফের প্রাধান্য ছিল।

আবার ভারতে অবস্থানকালীন প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ২৮ মে আগরতলা থেকে ভারতীয় সেনাদের কার্গো বিমানে গেলাম দেরাদুন। নামতে হলো শাহরানপুর বিমানঘাঁটিতে। সেখান থেকে পাহাড়ের চূড়ায় টান্ডুয়া ক্যাম্প দেখা যায়। দেখলে মনে এই তো কাছেই। তবে পাহাড় ঘুরে ঘুরে সেনা জিপে উঠতে সময় লেগে গেল ৬ ঘণ্টা।

আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী। কমান্ডার ছিলেন কলাবাগানের রাজু ভাই। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা দেখে আমাদের কয়েকজনকে রেখে দেওয়া হলো পরবর্তী ব্যাচের প্রশিক্ষক হিসেবে। আমরা ছিলাম জুনিয়র প্রশিক্ষক। হাসানুল হক ইনু, শরীফ নুরুল আম্বিয়া এঁরা ছিলেন সিনিয়র। আমাদের সঙ্গে ছিলেন বগুড়ার হেদায়েতউল্লাহ টিপু, ডা. ফারুক, কুমিল্লার তোফায়েল, দিনাজপুরের আবদুর রহিম ও জয়ন্ত, মানিকগঞ্জের আবদুল আজিজ, টঙ্গীর কুতুবউদ্দিন ও সিলেটের মোহন।

প্রশিক্ষণকালে মুজিব বাহিনীর চার নেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদসহ ভারতীয় ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তুলে ধরতেন বিশেষ করে দুটি গেরিলা যুদ্ধের উদাহরণ, কৌশল। ভিয়েতনাম ও কিউবার যুদ্ধ। বলা হতো চে গুয়েভারার কথা। সত্যি কথা বলতে কী, নিজেকে চে গুয়েভারা ভাবতে শুরু করলাম। আমি একা নই, সবাই যারা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে গেছে—আমরা সর্বান্তকরণে নিজেদেরকে সঁপে দিয়েছিলাম। প্রশিক্ষণের শুরুতে মুজিব বাহিনীর চার নেতা বঙ্গবন্ধুর ছবি সামনে রেখে আমাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতেন। পরবর্তীকালে প্রতিদিন প্রশিক্ষণের শুরুতে আমরা এটা করেছি।

প্রশিক্ষণের সময় আমাদের শেখানো হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে আনতে হলে প্রত্যেককে ভালো যোদ্ধা হতে হবে। ভালো প্রশিক্ষণ নিতে হবে। যুদ্ধে পাকিস্তানিদের হারিয়ে জিততে পারলে আমরা এক সঙ্গে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু দুটিই পাব। যুদ্ধে হেরে গেলে স্বাধীনতাও যাবে আবার পরাজিত জাতির নেতা বঙ্গবন্ধুকেও ওরা কোনোভাবেই ফেরত দেবে না। আসলে গোটা মুক্তিযুদ্ধে একটিই ছিল জাদুকরী শব্দ—তা হলো বঙ্গবন্ধু। দেখেছি প্রতিটি যোদ্ধা বিশ্বাস করতেন—আমার জীবনের বিনিময়ে যদি স্বাধীনতা আসে, বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাহলে, জীবন দিতে দ্বিধা নেই। আমাদের ক্যাম্পে বঙ্গবন্ধুর বড় আকারের একটি ছবি টাঙানো ছিল, দেখেছি জেনারেল সুজন সিং উবান ক্যাম্পে এসেই সামরিক কায়দায় বঙ্গবন্ধুর ছবিকে স্যালুট করতেন। কেবল এটাই নয়, আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে শেখ জামাল ও বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ভাই শেখ মারুফকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেখ জামালকে দেখতে আসতেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে অনেকে শেখ জামালকে স্যালুট করতেন।

একদিনের ঘটনা মনে পড়ে। সকালে প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। কমান্ড দেওয়ার আওয়াজটা বেশ জোরে হয়েছে। কয়েক মিনিট পর বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা অফিসার নিয়ে সেখানে এলেন জেনারেল উবান। আমাকে বললেন, ‘তুমি আবার কমান্ড দাও তো।’ দিলাম। এবার ভারতীয় সেনাদের দিকে তাকিয়ে উবান বলতে লাগলেন, ‘দ্যাখো তোমরা যে কমান্ড দাও সেটা বেতনের বিনিময়ে, সে কারণে জোর কম। আর এই বাচ্চা ছেলে এত জোরে কমান্ড দিতে পেরেছে, এটা দেশপ্রেমের জোর। তবে শোন, আমি বলে যাচ্ছি, যাদের অন্তরে এত দেশপ্রেম তাদের স্বাধীনতা ঠেকানোর শক্তি দুনিয়ার কারো নেই।’

লেখক : ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগ জগন্নাথ কলেজের নেতা ছিলেন। দেরাদুনের টান্ডুয়া ক্যাম্পের প্রশিক্ষক। ডাকসুর দুবারের জিএস, একবার ভিপি। সাবেক এমপি। বর্তমানে গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

সৌজন্যেঃ কালের কণ্ঠ

প্রকাশঃ ১৩ মার্চ ২০১৮

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg