শেখ হাসিনার দলীয় নেতৃত্ব ত্যাগ রাগ বা অনূরাগ বলবোনা--প্রয়োজন ছিল।

  শেখ হাসিনার দলীয় নেতৃত্ব ত্যাগ রাগ বা অনুরাগ বলবোনা--প্রয়োজন ছিল।

      ১৯৯১ ইং সালের সাধারন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট নিশ্চয়ই আপনারা কেউ ভুলে যাননি।উক্ত নির্বাচনে দেশী বিদেশী সকল জরিপ ফলাফলকে ভুল প্রমান করে বিএনপি বিজয়ী হয়ে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। বাংলাদেশের জনগন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং কি বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রের জনগন,  রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগন অতিশয় বিস্মিত হতবাক, কিংকর্তব্যবিমূড হয়ে পড়েছিলেন নিশ্চিত বিজয়ী আওয়ামীলীগের  অকস্মাৎ পরাজয়ে।

         লক্ষনীয় বিষয়টি ছিল-জাতীর জনক  বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠকন্যা, আজকের লৌহমানবী খ্যাত জননেত্রী 'শেখ হাসিনা' অকস্মাৎ এই পরাজয়ে মোটেও হতবাক হননি। তাঁর চলন বলন, কথাবার্তা, আচার আচরণ, খাওয়া দাওয়া এবং মুখায়বে অন্য সকল দিনের মত সম্পুর্ণ স্বাভাবিকতা বিরাজমান ছিল।ভাবখানা এমন ছিল যেন--"বহু আগে থেকে'ই তিনি জানতেন, এমন একটি পরাজয় তাঁর এবং দলের জন্যে অপেক্ষমান ছিল"। তিনি পরাজয় মেনে নিতে আগে ভাগে প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন"।

      জননেত্রী শেখ হাসিনার অন্তরে ব্যাঘ্র চিত্ত অথছ আচরনে ধীরস্থির সুস্থ্য এবং সাবলীল মস্তিস্কে বিচক্ষন, সাহষী এবং দুরদর্শী এক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। যাহা অতীতে এতদাঞ্চলের রাজনীতি বা সরকারে কখনই প্রচলিত ছিলনা ,বর্তমানেও প্রচলন নেই। তিনি তৎক্ষনাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর পদ সহ দলের সকল স্তর হ'তে পদত্যাগের দু:সাহষী সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন। ঘোষনানুযায়ী তাঁর সিদ্ধান্তে লৌহকঠিন অনড় ছিলেন। এই  কয়দিন পর ক্ষমতায় আসার দৃড আত্মবিশ্বাসী আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অকস্মাৎ পরাজয়ের গ্লানী--নিম্ন থেকে উধ্বস্তরে হতবিহব্বল, জ্ঞান শুন্যবস্থায় রেখে অকস্মাৎ তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, দলের ভিতরে  বাইরে বড় রকমের ঝাঁকুনি দেয়। এই ঝাঁকুনি দেশ ও  দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপুর্ণ বার্তা সর্বমহলে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তিতে অক্ষরে অক্ষরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিফপিত হতে দেখা গেছে।

     (১)    নীতি আদর্শহীন রাজনৈতিক দল দেশ পরিচালনায় সক্ষম নয়:--
       শেখ হাসিনার তাৎক্ষনীক পদত্যাগ সারা বিশ্বকে বাংলাদেশের  রাজনীতি'র ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল।তিনি বিশ্বকে বুঝাতে চাইলেন যে--"বিএনপি'র এই বিজয় দলীয় আদর্শিক বিজয় নয় বা রাজনৈতিক দর্শনের বিজয়ও নয়"। এই বিজয় একান্ত বাঙ্গালী মননের শ্বাস্বত: আবেগের বিজয়। "সুতারাং এই বিজয়কাল অত্যান্ত ঠুনকো এবং ক্ষনস্থায়ী। শেখ হাসিনা তাঁর বার্তার গুরুত্বের প্রমান রেখেছেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়।

    (খ) ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ দুর্ভেদ্যশক্তি  প্রমানীত:--

      আওয়ামীলীগের অতি আত্মবিশ্বাসী, বিশৃংখল নেতাকর্মীগন বিভিন্ন সংসদীয় আসনে আত্মকলহে লিপ্ত ছিল। নেতাদের উপদলীয় কোন্দলে সাধারন কর্মীরা বিপযস্ত ছিল। দল দ্বিধাবিভক্ত, অনেক ক্ষেত্রে ত্রিধাবিভক্ত  নেতাকর্মীরা পরস্পর কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে ব্যাস্ত ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৎক্ষনাৎ পরাজয়ের গ্লানী মূছে দলের অভ্যন্তরে সকল মহলকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসতে অকল্পনীয় ভুমিকা রেখেছিল।

    আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে স্পষ্টত: দুটি ধারা বিরাজমান ছিল। একটি অংশ শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত অন্য অংশটি দলের প্রতি অনুগত হলেও নেত্রীর প্রতি ছিল অনিহা। নেত্রীর প্রতি অনিহা অংশটি'র প্রস্তাবক্রমে শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থানকালীন সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।দলের ঐক্য এবং বয়সে জুনিয়র নেত্রীর উপর খবরদারী করার মানষিকতায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন--পরবর্তি ঘটনা প্রবাহে তা স্পষ্ট প্রমানীত হয়।শেখ হাসিনা এবং দল উভয়ের প্রতি অনুগত অংশটি মুলত: আদর্শিক, ত্যাগী, নিবেদিত নেতাকর্মীদের অংশ। এদের ধারনা ছিল আওয়ামীলীগের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী দলের ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ব্যাতিরেকে অন্য কারো পক্ষে'ই তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশে কোন অবস্থায় সম্ভব নয়।

         যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানীকতা পায়নি। সেহেতু বিভিন্ন নেতার বিভিন্নমূখী ধ্যান ধারনার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে শক্তিহীন হয়ে পড়বে। পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করার ক্ষেত্রে নেত্রীকে বাধ্য করতে সংঘবদ্ধ শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনে আওয়ামীলীগের অংশটি তড়িৎ সকল উপদলীয় কোন্দল ভুলে এক বিন্দুতে অবস্থান গ্রহন করে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিল। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির চাপে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।এই অংশের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ের ফসল গোলায় তুলতে শেখ হাসিনার বেশীদিন প্রয়োজন হয়নি। পরবর্তি আন্দোলন, সংগ্রাম এবং নির্বাচনে তাঁর  প্রমান পাওয়া যায়।তখন থেকে আওয়ামীলীগে একটি সত্য  বহুল আলোচিত এবং জনপ্রিয়তা পায়--"ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারবে না"।

   (গ) সুযোগ সন্ধানী চিহ্নিতকরণ ও তাঁদের নিস্তেজ করণে সহায়ক ভুমিকা--
           দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বিতীয় অংশটি'র মধ্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষনায় খুশীর বন্যা বয়ে যায়। তাঁরা বুঝতে'ই পারেনি দলকে এই মহুর্তে বিপযস্ততা কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করাই ছিল কঠিন এবং দু:সাধ্য কাজ। হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মী রাজনীতি বিমূখ হওয়ার পুর্বে তাঁদেরকে মাঠে ধরে রাখার কৌশল গ্রহন এবং নিয়ন্তর রাজনীতিতে নিবিষ্ট রাখাই ছিল তখনকার সময়ের দাবী। শেখ হাসিনার তাৎক্ষনিক পদত্যাগ বহুধাবিভক্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে পদত্যাগ পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।, ৫বছরের নিয়ন্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে মাত্র ৫ঘন্টায় নামিয়ে এনেছিল মাত্র একটি পদত্যাগের ঘোষনা।

     দলের প্রতি আনুগত্যশীল আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান জননেতাগন ধারনা পোষন করতেন--'শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিপক্কতা আসেনি।' তাঁর কাঁচা নেতৃত্বের কারনে দিন দিন দল জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত বালিকা সুলভ আচরন দলকে অস্তিত্ব সংকটে নিপতীত করছে। দলের এই অংশটির অনেকে সদ্য শুন্য হওয়া সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে দলের বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি শুভাকাংক্ষী, শুভানুধ্যায়ীদের শরণাপন্ন হয়ে দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা অকপটে প্রকাশ করেন।

    জননেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি তাঁদের কর্মকান্ড দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদী,অতিজ্ঞানী, অহংকারী পরিগনিত হওয়ার যথেষ্ট উপকরণ বিদ্যমান ছিল। অথছ তাঁদের প্রস্তাব এবং সমর্থনে 'শেখ হাসিনা'কে নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে তাঁরা মনে করেছিলেন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ শেখ হাসিনা তাঁদের পরামর্শেই দল চালাবেন।তাঁদের স্বপ্ন পূরন না হওয়ায় নেত্রীর প্রতি অনিহা প্রকাশ করতেন। নেতাদের নেতৃত্বের প্রতি অনিহা, আস্থাহীনতা, আনুগত্যহীনতা বার কয়েক দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।নেত্রী'র রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান গ্রহন করতেও অনেক বিজ্ঞ নেতাদের দেখা গেছে।এতে দেশে বিদেশে আওয়ামীলীগের দলীয় ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখিন হতে দেখা গেছে।

    তাঁদেরকে চিহ্নিত করতে উক্ত 'পদত্যাগ পত্র' মহৌষদের ব্যাবস্থা পত্রের কাজ করে। উক্ত মহৌষদটি বিজ্ঞ ডাক্তার শেখ হাসিনার' রাজনীতির দক্ষ হাতে ধীরে ধীরে প্রয়োগের ফলে অনেকে'ই রাজনীতির মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। কেউবা আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে নাম সর্বস্ব দলের সভাপতি সেজে আজীবনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে আত্মসুখ অনুভব করছেন অথবা জিঘাংসা চরিতার্থ করার সুযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

    ৯১ইং সালের নির্বাচন পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা তৃনমূল থেকে উধ্বস্তর পয্যন্ত দল গুচিয়ে সমসায়িক জনসম্পৃত্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রনয়ন করেন।অত:পর তৃনমুল থেকে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি মনযোগ নিবিষ্ট করেন।তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পয্যন্ত যাওয়ার আগেই আন্দোলনে ব্যাপক জনসম্পৃত্ততার লক্ষন দৃশ্যমান হতে থাকে। বিএনপি সরকারের মাত্র সাড়ে তিন বছর শাসন অতিবাহিত হতে না হতে আওয়ামীলীগের আন্দোলনের ফসল মাঠে পাকতে শুরু করে।

        আওয়ামীলীগ সমমনা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি দল সঙ্গে নিয়ে, বলতে গেলে একক শক্তি'তে বিএনপি সরকারের অপশাসন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ ইং সালের প্রথমার্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ৯৫ইং সালের শেষদিকে উক্ত আন্দোলন 'শেখ হাসিনা'র নেতৃত্বে গনঅন্দোলনে রুপপরিগ্রহ করে। মাত্র দেড়বছরের কমসময়ে লাগাতার আন্দোলন ১৯৯৬ইং সালের মাঝামাঝি গনভ্যুত্থানের রুপপরিগ্রহ করে। উক্ত গনভ্যুত্থান 'বেগম জিয়া'কে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে ভূমিতে নামিয়ে আনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখহাসিনার নেতৃত্বে একই বছর অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে।

   বিশেষভাবে উল্লেখ্য--'৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের  বিজয় শুধুমাত্র দলের পুণ:ত্থান ঘটাতে পেরেছিল। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার পর্দার অন্তরালে রয়ে যায়। আসনের দিক থেকে স্বল্প আসনের বিজয় দলের  কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল তুলে রেখেছিল।শেখ হাসিনা উক্ত সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতা দুর করার প্রক্রিয়া গ্রহন করতে গেলে তাঁর সরকার ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য হওয়ার প্রচন্ড সম্ভাবনা ছিল।

    বঙ্গবন্ধুকন্যা সবদিক বিবেচনা করে পরিবেশের প্রতিকুলে যাওয়া থেকে বিরত থেকে বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়েছিলেন।বাংলাদেশের পরবর্তি রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ এবং ২০১৪/১৫ ইং সালের অশুভ চক্রের হঠকারী  আন্দোলন গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে সকল মহল একমত হবেন--আমার বিশ্বাস।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg