বাংলাদেশের সমাজে বুদ্ধিজীবিদের অবমূল্যায়ন।

   বাংলাদেশের সমাজে বরেন্য বুদ্ধিজীবিদের লালনে সংকীর্ণতা।


     যে কোন সমাজের বুদ্ধিজীবিরা সেই সমাজের মহামুল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। মূলত: বুদ্ধিজীবিরা রাষ্ট্র ও সমাজের পথপ্রদর্শক--' উন্নতি, অগ্রগতি, প্রগতি'র  সোপান। বুদ্ধিজীবিহীন রাষ্ট্র, জাতী, সমাজ, সরকার বাঁচতে পারেনা। নেতৃত্বহীন দল যেমন আগোছালো--মৃত প্রায়, তেমনি বুদ্ধিজীবিহীন সমাজও মৃত, আগোছালো, দিকভ্রম, অস্থির, অন্ধকারের আবর্তে নিমজ্জিত হতে বাধ্য হয়। মেধাশূন্য জাতী উন্নতি, অগ্রগতি সাধনের কোন উপায় থাকেনা বা করতে পারেনা। যে সমাজ মেধার কদর জানে না, সেই সমাজে মেধাবী'রা জম্মগ্রহন করেনা এবং সে সমাজ অসভ্য সমাজের অন্তভুক্ত।

   বুদ্ধিজীবি'র সংজ্ঞা:--

     দৈহিক শ্রমের বাহিরে মানষিক চিন্তাচেতনার শক্তিতে যে সমস্ত ব্যাক্তিবর্গ জীবন জীবিকা নির্বাহ মরেন তাঁদেরকে বুদ্ধিজীবি বলা হয়। অর্থাৎ জ্ঞান চর্চাকারীরাই বুদ্ধিজীবি।

  সমাজে বুদ্ধিজীবিদের অবদান:--

      মানব সভ্যতা বিকাশের প্রাথমিক যুগ হতে আজকের এই প্রযুক্তি যুগের শিখরে অবস্থান নেয়া মানব সভ্যতা পরিবর্তনের প্রতিটি স্তরে'ই রেয়েছে মেধাবী মানুষদের মেধার অন্যন্ন, অনবদ্য অবদান ও ভুমিকা। মুলত: মেধাবী মানুষেরাই সমাজকে আজকের বিজ্ঞানে'র অত্যাধুনিক আবিস্কার প্রযুক্তি'র সভ্যতার যুগে টেনে তুলেছে। প্রত্যহ-প্রতিনিয়ত মানব সমাজের অতিব প্রয়োজনীয় ও কল্যানকর উপাদান সমূহ যেমন--"জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, উদ্ভাবন, ইতিহাস, ঐতিহ্যের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিচরনরত: সৃষ্টিশীল মেধাবী'দের সাধারন ভাবে এক কথায় প্রকাশে বুদ্ধিজীবিদের অবদান অনস্বিকায্য বলা যায়"।

     নির্দিষ্ট একটি দেশের বুদ্ধি চর্চারত: ব্যাক্তি বা মেধাবী জনেরা স্বদেশ ও স্বজাতীর কল্যানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, লব্দ জ্ঞানের অলো স্বদেশ, স্বসমাজ, স্বজাতী সহ বিশ্ব সমাজকে আলোকিত করে তোলে। মেধাবীজনের আবিস্কার, উদ্ভাবন, রচনা, গভেষনা 'স্ব-জাতির কল্যান বয়ে আনে এবং চলার পথ নির্দেশ করে, সাথে সাথে 'বিশ্বমানব কুলের কল্যান, উন্নতি, অগ্রগতিতেও অন্যন্ন অবদান রাখে।সেই অর্থে বুদ্ধিজীবি'রা শুধুমাত্র স্ব-জাতী'র বা স্বদেশের সম্পদ বলতে গেলে তাঁদের প্রতি অবিচার করা হবে--'তাঁরা বিশ্ব সমাজেরও অমুল্য সম্পদ'।
 
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের আলাদা মায্যদা:--
 
    আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিদের রয়েছে দেশ ও জাতীর নিকট এক আলাদা মায্যদা। দেশ ও জনগনের কল্যানে নিবেদিত আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজ সর্বদাই জাতীর ক্রান্তিকালে জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাজপথে নেমে এসেছে। যেমন--'৬৯ এর গনভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহন, '৭১ বাঙ্গালী জাতীর গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে অকুন্ঠ সমর্থন। '৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশবিরোধী রাজাকার ও দখলদার পাকিস্তানী সেনাদের হাতে অসংখ্য বুদ্ধিজীবির প্রানবলি দান,  '৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে জনগনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ এবং 'গনতন্ত্র পুণ:রোদ্ধারের লক্ষে 'জনতার মঞ্চ' প্রতিষ্ঠা, ৯৪ ইং সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ৭১ইং সালে জাতীর মহান মুক্তিযুদ্ধে 'মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত শীর্ষ রাজাকারদের প্রতিকী বিচারানুষ্ঠান,উক্ত বিচারানুষ্ঠান জাতী'কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভোদ্ধকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, '২০০১ইং সালে জামায়াত শিবির এবং তাঁদের প্রেতাত্বা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবি সমাজের  সম্মিলীত প্রতিবাদী ভূমিকা পালন--"বাঙ্গালী  জাতীর নিকট বুদ্ধিজীবিদের বরেন্য, পুজনীয়, শ্রদ্ধা, সম্মানের সর্ব উচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে"।

বুদ্ধিজীবি'র পরিচয়:--

     সাধারাণত: মানব সভ্যতা বিকাশ, দেশ ও জনগনের কল্যানে নিবেদিত সমাজের মেধাবী এবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ, জ্ঞানী, গুনীজনদের বুদ্ধিজীবি বলে। মানব সমাজের  অতিব প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহে প্রতিনিয়ত বিচরনরত: এবং বিশেষ ক্ষেত্রে অধিকতর জ্ঞানী, গুনীজনদের বুদ্ধিজীবি হিসেবে অভিহীত করা হয়। তাঁরা সর্বকালে সর্বদেশে রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগনের নিকট সম্মানের পাত্র। এইরুপ সম্মানীত ব্যাক্তিবর্গ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বুদ্ধি চর্চা বা জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে সৃষ্ট উপাদানের উপর জীবন জীবিকা  নির্বাহ করে থাকেন।তাঁরা সভ্যতার বিকাশ, মানবকল্যান, দেশ, জাতী, জনগনের উন্নয়ন অগ্রগতি ভাবনায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। দেশ ও জাতীর ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষনে নিবেদিত প্রান ব্যাক্তিবর্গ বুদ্ধিজীবি'র আওতায় পড়ে। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চারত: ব্যাক্তিবর্গ, উৎপাদন ও উন্নয়ন সহযোগী ব্যাক্তিবর্গ দেশ ও জাতীর কল্যানে সদা সর্বদা নিবেদিত  বুদ্ধিজীবি হিসেবে সমাজে পরিচিত।

   বুদ্ধিজীবি'র প্রকারভেদ:--

      বিশেষ একটি বিষয়ে গভেষনার মাধ্যমে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ব্যাক্তিদের বিশেষজ্ঞ, পরিক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে নতুন নতুন বিষয় আবিস্কারকারীদের আবিস্কারক, উদ্ভাবনকারীদের  উদ্ভাবক, কবিতা রচয়িতাদের কবি, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষনকারীদের বিশ্লেষক ইত্যাদি প্রকারভেদ রয়েছে। এক কথায় বিশেষ বিষয়ে গভেষনা, উদ্ভাবন, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষনে পারদর্শী ব্যাক্তিবর্গ'কে বুদ্ধিজীবি বলা যায়।  বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, প্রযুক্তিবীদ, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পি, সাংবাদিকেরা স্ব-স্ব পেশা ভিত্তিক উল্লেখিত বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞান আহরনের সত্বেও, উক্ত বিষয়টির সম্পর্কে নিয়ন্তর চর্চারত: থাকেন। ফলত: উপলব্দ বিষয়টি'র বহি:রাবরনের  স্বরুপ যেমন উৎঘাটন করেন তেমনি অন্তনিহীত ক্ষতিকর উপাদান সমূহ চিহ্নিত করে বিষয়টি'র সামগ্রিক উপকারীতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করে জনসচেতনতায় সৃষ্টিতে ভুমিকা পালন করেন। এককথায় স্ব-স্ব-ক্ষেত্রে স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবীদ, রাজনীতিবীদ, কৃষিবীদ, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পি, সংস্কৃতি সেবী সহ অন্যান্ন শাখা প্রশাখায় বিচরণ পুর্বক মেধা ও দক্ষতা'য় কায়িক শ্রমে সৃষ্ট  সৃজশীল সৃষ্টি'র উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন--তাঁরা'ই সমাজে বুদ্ধিজীবি হিসেবে পরিচিত।"

   সম্মান ও মায্যদা:--

      এই শ্রেনীর ব্যাক্তিবর্গ রাষ্ট্র ও সমাজে একনম্বর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন। রাষ্ট্র তাঁদের বিশেষ বিশেষ কাজে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বিভিন্ন পদক, উপহার, উপঢৌকন, উপাদিতে সম্মানীত করেন।সরকার তাঁদেরকে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রচলিত বিভিন্ন পদক অথবা সরকারের মায্যদাপূর্ণ উপহার প্রদান করেন। রাষ্ট্রীয় বিশেষ অনুষ্ঠানে এই শ্রেনী'র সম্মানীত নাগরিকগন নিমন্ত্রন পেয়ে থাকেন--নিমন্ত্রিত অতীথিরা রাষ্ট্রীয় অতীথি হিসেবে বিবেচিত হন। বিবিধ গুনে গুনাম্বিত রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেনী'র নাগরিক হিসেবে তাঁরা সর্বদা রাষ্ট্র এবং জনকল্যানে নিবেদিত থাকেন। রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন, সরকার পরিবর্তন সমাজের বুদ্ধিজীবি শ্রেনী'র বিশেষ বিবেচ্য বিষয় নয়। রাষ্ট্র ও সরকার, দেশ ও জনকল্যানে তাঁদের কর্ম, সৃষ্টি, গভেষনা, উদ্ভাবন নিয়ে তাঁরা ব্যাস্ত  থাকতে বেশী পছন্দ করেন।

  মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যা তালিকায় বুদ্ধিজীবি:-

     এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাইদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে এক আলোচনায় বলেছিলেন, বুদ্ধিজীবী ছাড়া যেমন বড় ধরনের কোন বিপ্লব সংঘটিত হয় নি, তেমনি তাদের ছাড়া কোন বিপ্লববিরোধী আন্দোলনও সংঘটিত হয় নি। এক কথায়, তারাই হচ্ছেন ‘বিপ্লব’ এর প্রাণ। অন্যভাবে বলা যায়, শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্যে যেমন একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী প্রয়োজন, তেমনি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যেও আরেক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদেরকে তাঁদের রোষানলে পড়তে হয়। এ কারণেই দেখা যায় যে, গত শতাব্দীর শুরুতেই আর্মেনিয়ায় গণহত্যা শুরু হয়েছিল ২৫০ জন বুদ্ধিজীবীকে গ্রেফতার ও হত্যার মাধ্যমে। হিটলার ও তার নাৎসি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করেছিল। এই দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মোটেই নতুন কিছু নয়, বরং প্রকৃতিগত দিক হতে পূর্বের গণহত্যাগুলোর সাথে এটা সাদৃশ্য পূর্ণই বটে।

     ৭১ এ বাঙ্গালী জাতী'র গৌরবের অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাক বাহিনী ও তাঁদের এদেশীয় দোষর রাজাকার আলবদর, আল শামস বাহিনী'র হত্যা তালিকায় বুদ্ধিজীবিরা ছিলেন অন্যতম নিশানা। যুদ্ধের নয় মাস দেশব্যাপী খুঁজে খুঁজে হত্যা করা হয়েছিল বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবিদের।   বাংলাদেশের স্বাধীনতা যখন প্রায় সমাসন্ন, পাকিস্তানী বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছে তাঁদের পতন অনিবায্য, তখনই তাঁরা ঢাকা শহরের আনাছে কানাছে যে সমস্ত দেশবরেন্য বুদ্ধিজীবিদের বসবাস ছিল, তাঁদের অনেককে ধরে ধরে অকথ্য নিয্যাতনের পর হাত পা বেঁধে হত্যা করা হয়েছিল।

 হত্যার উদ্দেশ্য:--

  বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করার মুল উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালী জাতীকে মেধাশুন্য করার মহা পরিকল্পনারই অংশ। মুক্তিযুদ্ধের প্রম্ভে এবং শেষ পয্যায়ে বুদ্ধিজীবি হত্যায় উদ্দেশ্যের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে বুদ্ধিজীবি হত্যা ছিল বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামকে স্তব্দ করে পাশ্চিমা শাষক গোষ্টির শাষন শোষন নিরবচ্ছিন্ন রাখা। এতদ উদ্দেশ্যে হত্যা মিশন ছিল দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের মেধাবী শিক্ষক, নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিগন।

   হত্যাকান্ডের দ্বিতীয় ধাপটি ছিল অত্যান্ত মর্মান্তিক এবং বেদনা দায়ক। ডিসেম্বরের তিন বা চার তারিখ থেকে এই হত্যা মিশনটি কায্যকর করা হয়। লক্ষ করলে দেখা যায় এই হত্যাযজ্ঞটি শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবি সমাজের উপর চালানো হয়েছিল। উক্ত হত্যা মিশনে আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবিদের এককভাবে হত্যা করা হয়নি, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের হত্যা করা হয়েছিল। স্পষ্টত:ই উক্ত হত্যাযজ্ঞের লক্ষ ছিল আগামীর স্বাধীন সার্বভৌম  বাংলাদেশকে মেধাশুন্য করার চক্রান্তের বাস্তবায়ন। বাঙ্গালী জাতীকে জ্ঞান, বিজ্ঞান, আবিস্কার উদ্ভাবন সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধাশুন্য করে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার পরিকল্পনা।

   আর একটি বিষয় লক্ষ করলে দেখা যায়--মুক্তিযুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে শিক্ষকদের খুব বেশী হত্যা করেছিল। অর্থাৎ নতুন বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্র ধ্বংস করে দিতে পারলে অনায়াসে বাঙ্গালী জাতীর উপর তাঁর সুদুরপ্রসারী কুপ্রভাব পড়বে, এই চিন্তা চেতনাই তাঁদের মধ্যে কাজ করেছে মনে করি।

  মহান মুক্তিযুদ্ধের নয়মাসে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিতযসা জ্ঞান-গরিমায় অগ্রসরমান,প্রগতির ধারক বাহকদের হত্যা করেছিল।নিম্নে তাঁর একটি তালিকা প্রদান করছি।

শিক্ষাবিদ - ৯৯১ জন।
সাংবাদিক - ১৩ জন।
চিকিৎসক - ৪৯ জন
আইনজীবী - ৪২ জন
অন্যান্য (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী এবং প্রকৌশলী) - ১৬

  বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবি সমাজ--

  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবীদ, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারীদের উপর আঘাত আজও বন্ধ হয়নি। দেশবিরোধী চক্রটি সুযোগ পেলেই প্রথমে তালিকা প্রকাশ করে--'পরবর্তিতে সুযোগ বুঝে হত্যাকান্ড ঘটায়'। বাংলাদেশের জম্মলগ্ন থেকে  অশুভশক্তি একেক সময় একেক নামে তাঁদের উত্থান ঘটিয়েছে। তাঁরা কখনও গুপ্ত হত্যা, কখনও সভাসমাবেশে বোমা হামলা, কখনও বা প্রতিষ্ঠানে হামলা,কখনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মম, নিষ্ঠুর ভাবে মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী গুনিজনদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের এই ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত কয়েকটি প্রেতাত্বার দল ও গোষ্টি। লক্ষ করলে দেখা যায়--'এই সমস্ত প্রেতাত্বা সদৃস রাজনৈতিক দল সমূহের উত্থান ঘটেছে-'জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু'কে স্বপরিবারে হত্যার পর'।

     বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারী বুদ্ধিজীবিদের লালন করে থাকে তাঁদের স্বার্থে। আমাদের সমাজে তাঁদের চরিত্র হনন, কুৎসা রটনা, নির্বিচারে হত্যা, গুম চালানো হয়। অশুভ শক্তির হত্যাযজ্ঞে ইতিমধ্যে অগনিত বুদ্ধিজীবি প্রান হারিয়েছে, অসংখ্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য পরিস্কার--'প্রগতির ধারা থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেয়া'।
   
       উপসংহার:---
   
    আমাদের বুদ্ধিজীবি আমাদের সম্পদ। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নকামী একটি দেশের বুদ্ধি চর্চারত: ব্যাক্তিদের লালন করা প্রয়োজন দেশ ও জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে। ইতিমধ্যে প্রমানীত হয়েছে--"এক প্রযুক্তিবীদের চিন্তাধারায় বাংলাদেশের সমাজ স্বল্প সময়ে  উন্নতি, অগ্রগতি'র শিখরে অবস্থান নিয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে 'উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বে'র কোন একটি  দেশেও সম্ভব হয়নি"।

    তিনি আর কেউ নন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী'র সুযোগ্য পুত্র জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি উন্নত বিশ্বকে বিস্মিত করে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্বের আসনটি নীজ যোগ্যতায় ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছেন। সুতারাং বলা যায়-- সভ্যতা বিকাশে এবং সমাজ উন্নয়নে বুদ্ধিজীবিদের লালন করা বাংলাদেশের স্বার্থেই প্রয়োজন।তাঁদের জীবন ও সম্পদের নিশ্চয়তা দেয়ার গ্যারান্টি যতক্ষন না আমরা দিতে পারবো ততক্ষন দেশের এই মহামুল্যবান সম্পদ 'মেধা'  পাচার অর্থাৎ বুদ্ধিজীবির দেশত্যাগ বন্ধ করা যাবে না।
   

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg